আইন আদালত

আন্দোলন দমাতে লেথাল উইপেন ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা: মামুন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:২৬ পিএম

আন্দোলন দমাতে লেথাল উইপেন ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা: মামুন
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন দমন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া এই সাবেক পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র (লেথাল উইপেন) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তিনি এ জবানবন্দি দেন। সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে সাক্ষ্যদান শুরু করেন মামুন, যিনি জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, “আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া ও ব্লক রেইডের সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক। লেথাল উইপেন ব্যবহারের নির্দেশ এসেছিল সরাসরি শেখ হাসিনার কাছ থেকে।”

তিনি আরও জানান, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব ও গোয়েন্দা পুলিশের হারুন ছিলেন এসব মারণাস্ত্র ব্যবহারে অতিউৎসাহী।

সাবেক আইজিপি মামুন তার জবানবন্দিতে র‌্যাবের গোপন কার্যক্রম নিয়েও বিস্ফোরক তথ্য দেন। তিনি বলেন, “র‌্যাব-১ এ টিআইএফ নামে একটি গোপন বন্দিশালা ছিল। শুধু তাই নয়, অন্যান্য ইউনিটেও এমন বন্দিশালা ছিল। এখানে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ও সরকারের জন্য হুমকি মনে করা ব্যক্তিদের ধরে আনা হতো।”

তার দাবি, এসব নির্দেশনা আসতো প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে। কখনো কখনো নির্দেশনা দিতেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকী। এ ছাড়া “আয়নাঘরে আটক” ও “ক্রসফায়ারে হত্যা”র মতো অপারেশন পরিচালনা করতেন র‌্যাবের এডিসি (অপারেশন) ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক।

গত ২৪ মার্চ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তখন তিনি জানান, নিজের ইচ্ছায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়েছেন এবং সত্য উন্মোচন করতে চান।

এর আগে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৩৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশন আশা করছে, এ মাসের মধ্যেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে।