রাজনীতি
বিনা পয়সায় ভোট দিন, বিনা পয়সায় সেবা দেব: হাসনাত আবদুল্লাহ
সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলের দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও জনবান্ধব করতে হবে। রাজনীতি যদি ব্যয়বহুল ও বিলাসিতার বিষয়ে পরিণত হয়, তাহলে তা একসময় ব্যাংক ডাকাত, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের দখলে চলে যায়।
শুক্রবার সকালে দেবিদ্বার নিউমার্কেট মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় শেষে দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনি পথসভা ও গণসংযোগে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি রাজনীতিতে বিদ্যমান কৃত্রিম বলয় ও ভিআইপি সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন।
পথসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাজনীতিতে বড় চেয়ার-ছোট চেয়ারের বৈষম্য এবং অপ্রয়োজনীয় প্রটোকল পরিহার করা জরুরি। আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নেতাদের ঘিরে কৃত্রিম বলয় তৈরি করবেন না। এতে নেতা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং রাজনীতি একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে রাজনীতি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সম্মান ও মানুষের সেবা করার মানসিকতা থেকেই রাজনীতিতে এসেছি। এই অঙ্গনে শিক্ষিত ও সজ্জন মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই রাজনীতিতে আসে অবৈধ সম্পদ রক্ষা করতে, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি-বাড়ির সুবিধা নিতে। রাজনীতি যেন কখনোই ইনভেস্টমেন্ট এবং সেই বিনিয়োগের রিটার্ন পাওয়ার মাধ্যম না হয়—এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব ভোটারদেরই।”
ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আপনারা বিনা পয়সায় ভোট দেবেন, আর আমরা পাঁচ বছর বিনা পয়সায় আপনাদের সেবা দেব। আমাদের লক্ষ্য একটি ইনসাফভিত্তিক, ন্যায়সংগত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা। ইনসাফের কথা বলে যারা মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে, তাদের আমরা কোনোভাবেই পাশে রাখব না।”
কেন্দ্র দখল ও হুমকির রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভোট দেওয়া ভালোবাসার বিষয়। এখানে জোরজবরদস্তি বা ভয়ভীতির কোনো স্থান নেই।”
শুক্রবার দিনভর দেবিদ্বারের বিভিন্ন এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণা ছিল মুখর। তিনি পৌরসভার ভিংলা বাড়ি, মোহনপুর ইউনিয়নের বিহারমন্ডল, ছোটনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং শান্তির রোডে পৃথক উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া বরকামতা ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে তার নির্বাচনি কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শহীদসহ ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।