সারাদেশ
পাথর লুটপাটের ক্ষত মুছতে পানি স্প্রে! (ভিডিও)
মহাসমারোহে প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় হরিলুট হয়েছে সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর। প্রশাসনের নীরবতা ও নজরদারির অভাবে পাথর লুটপাটে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র।
এতে সরগরম হয়ে ওঠে পুরোদেশ। নানা মহলের সমালোচনার পর অবশেষে পর্যটন শিল্পে ভিন্ন মাত্রা যোগ করা এই পাথর আগের স্থানে ফেরানো হচ্ছে।
মিল, উঠান, রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখা হয় সাদাপাথর। পরে মাটি খুঁড়ে সেগুলো উদ্ধার করে প্রশাসন। লুটের পাথর সরানো ঠেকাতে সিলেটের সড়কে সেনা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। চেকপোস্টে পাথরবোঝাই শত শত ট্রাক আটকে চালানো হয় তল্লাশি।
পাথর লুটের ঘটনায় সিলেটের দুইটি পর্যটন স্পট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদা পাথর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এ পর্যন্ত প্রশাসনের অভিযানে সিলেটে উদ্ধার করা হয়েছে আড়াই লক্ষ ঘনফুট পাথর । যার বড় অংশ ধলাই নদীতে ফেরত দেওয়ার কাজ চলছে, যাতে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়।
এদিকে, পাথর লুট ও চুরির ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ১৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক। ইতিমধ্যেই পাথর লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে পাথর ফিরতে শুরু করলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে অনেক। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন যে হারে পাথর লুটে নেয়া হয়েছিল, ফিরছে তার তুলনায় অতি নগণ্য। তাই দৃষ্টিনন্দন এ পর্যটনকেন্দ্র সহসাই আগের রূপে ফিরবে কি না, তা নিয়ে আছে সংশয়।
এদিকে শনিবার দুপুরে লুটের সেই ক্ষত মুছতে সাদাপাথরে পানি স্প্রে করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
ফেসবুকে নেটিজেনরা মন্তব্য করেছেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে এমনিতেই গর্ত ভরাট হয়ে যেত। কিন্তু তা না করে কৃত্রিমভাবে শ্রমিক দিয়ে গর্ত ভরাট ও ফায়ার সার্ভিস দিয়ে পানি স্প্রে করার অযৌক্তিক ও দায়সারা কর্মকাণ্ডের জন্ম দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু সালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে গর্ত ভরাটকারী শ্রমিকের গরম বালু থেকে প্রশান্তি ও বালু নিচের পাথর ভাসানোর জন্য পানি স্প্রে করা হয়েছে।