বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামীতে চলা কঠিন হবে’

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারের মতো নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারেও মাছ, গরুর মাংস, মুরগির মাংসসহ প্রায় ধরনের সবজি দাম বেশি।

ক্রেতাদের অভিযোগ,পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামীতে চলা আরও কঠিন হবে। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় মুরগির মাংস ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ কমার পরেও পূর্বের তুলনায় দাম এখনো অনেক বেশি।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ ) সরেজমিনে নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে বিভিন্ন উৎসব ও হোটেল বন্ধ থাকায় মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমছে। এ ছাড়া, ফার্ম থেকেও দাম কমানো হয়েছে। এ জন্য আমরাও কম দামে কিনে কম দামেই বিক্রি করছি। তবে দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বিক্রি কমেছে।

বনলতা কাঁচাবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, দেখেন আগে ব্রয়লার মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। তাতে লাভ ১০ টাকাও থাকত না। কয়েক দিন থেকে দাম কমতির দিকে। কারণ, একদিকে বিভিন্ন উৎসব, অন্যদিকে হোটেলও বন্ধ। আবার সরকারের চাপাচাপিতে ফার্ম থেকেও দাম কমিয়েছে। তাই আমরাও কম দামে কিনতে পারছি। এ জন্য কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে। এখন কেজিতে ২০ টাকা লাভ থাকছে।

মাংস ব্যবসায়ী হানিফ বলেন, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা। রমজানের আগেও এই দামে বিক্রি করেছি। তাই বাড়েনি। খামার মালিকরা সিন্ডিকেট করে মাংস বিক্রি করছে। তাই দাম বেশি। তারা কমালে দাম কমবে। আব্দুল করিম ও মোহাম্মদ আলাউদ্দীন নামে মাংস ব্যবসায়ী বলেন, ‘লন লন, খাসির মাংস ১০০০ টাকা।’ তারা আরও বলেন, ‘ঈদে আবার চাহিদা বাড়বে। তখন দামও বাড়বে।’

রূপসা চিকেন হাউজের মুরগি ব্যবসায়ী শাওন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ২৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও বর্তমানে ২০৫ থেকে ২১০ টাকা কেজি ব্রয়লার বিক্রি করা হচ্ছে। কম দামে কেনা, তাই কম দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। দাম কম হলে লাভ বেশি হয় জানিয়ে শাওন বলেন, বর্তমানে ১৮০ টাকার মতো কেনা। খরচা বাদে লাভ ২০ টাকা। আর আগে বেশি দামে থাকায় অনেকে ঘুরে ঘুরে কিনত। পাকিস্তানি ও লেয়ার মুরগি ৩৩০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। এখন দাম কম। ঈদের আগে আবার বাড়তে পারে।

লাভলী নামে এক ক্রেতা বলেন, আগে পাকিস্থানি মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি ছিল। বর্তমানে ৩০০ টাকার মতো। একেক দোকানে একেক রকম দাম নিচ্ছে। দাম কমলে সবার জন্য ভালো হয়। কেজিতে ৪০ টাকা কমলে অনেক। তাহলে সবাই কিনতে পারবে।

এখানকার মাছ ব্যবসায়ী মাহতাব বলেন, রুই ও কাতলা মাছ ৪০০ টাকা কেজি। ট্যাংড়া ৮০০ টাকা কেজি। নদীর কোনো মাছ নেই। রমজানের দিনে মিথ্যে কথা বলব না। রমজানে মাছের দাম বাড়েনি। যা বাড়ার আগে বেড়েছে।

অন্যান্য বাজারের মতো নিউমার্কেটেও শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি ও লেবুর হালি ৪০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

বনলতা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন,তাদের বাজারে দাম বেশি এটা ঠিক। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কারওয়ান বাজার, কৃষিমার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনতে হয় এখানে।’

পরিবহন খরচ আছে। সঙ্গে কিছু পণ্য নষ্টও হয়ে যায়, তা ফেলে দিতে হয়। কারণ, এই মার্কেটে কোনো মরা মুরগি, পচা মাছ বিক্রি করা হয় না। এ ছাড়া, তরিতরকারিও টাটকা বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এ মার্কেটে যে দামে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে তা স্বাভাবিক বলে তিনি জানান।

বনলতা বাজারে দেখা গেছে, ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা ডজন। আগে ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে। এ সময় শামিমা নামে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আসলে দাম ওভাবে কমেনি। আগেও ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ডজন ডিম কিনতাম। এখনো প্রায় সে দামই। সরকারের তদারকি থাকলে আরও দাম কমত। দাম বাড়ার কারণে ডিম কেনা কমিয়ে দিয়েছি।

এদিকে নিত্যপণ্যের মতো এই কাঁচাবাজারে ফলের দামও বেশ চড়া। ফল ব্যবসায়ী হেলাল বলেন, তিউনিশিয়া খেজুর ৪৫০ টাকা কেজি বলা হলেও তা ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। আম্বার খেজুর ১০০০ টাকা, ম্যাগজুইস ১২০০ টাকা কেজি। এটাই সর্বোচ্চ দাম। রমজানের আগে ১০০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়েছে। ফরিদা ৩০০ টাকা ও জিহাদী সবচেয়ে কম দামে ১৬০ কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। সব পদের খেজুর রয়েছে।

তিনি বলেন, তারা বাদামতলী ফল মার্কেট থেকে বেশি দামে কেনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু তিনি বাদামতলি মার্কেট থেকে ফল কেনার কোনো মেমো দেখাতে পারেননি বা দোকানের নামও বলতে পারেননি।

ফল ব্যবসায়ী হোসেনসহ অন্যরা বলেন, আপেল ২৮০, মালটা ২২০ টাকা, আঙুর ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। রোজার আগে দাম আরও বেশি ছিল। কয়েকদিন থেকে দাম কিছুটা কমছে। তবে গত রমজানের চেয়ে প্রায় সব ফলের দামই বেশি।

কলা বিক্রেতা হোসেন আলী বলেন, সাগর, সবরি, বাংলা কলা ১২০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে। রোজার আগেও এই দামে বিক্রি করা হতো। তবে নরসিংদীর কলার দাম একটু বেশি, ১৫০ টাকা ডজন। বিক্রিও কম হচ্ছে।

এনএইচবি/এমএমএ/

Header Ad

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার প্রবেশপথ অবরোধ

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলা, নির্যাতন, ও সারাদেশে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

এসময় অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে ভূঞাপুরের ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ, নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রী কলেজ, নলছিয়া মমতাজ ফকির উচ্চ বিদ্যালয় এবং কালিহাতী উপজেলার যমুনা কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতশত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব চত্বরে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমবেত হয়ে অবরোধে অংশ নেয়।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বরে অবরোধের কারণে টানা দেড় থেকে দুই ঘণ্টা মহাসড়কটি দিয়ে ঢাকা ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের ২২টি জেলার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে এলেঙ্গা মহাসড়কের প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

এসময় মহাসড়ক অবরোধ করে মহাসড়কে বসে যায় শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে র‌্যাব ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা এসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে অবরোধ তুলে দিতে সক্ষম হয়। সেখান থেকে সরে যায় তারা।

এদিকে- অবরোধের কারণে তীব্র গরমে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী গণপরিবহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তি পড়েন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী ও শিশুরা। এছাড়া অবরোধ চলাচলকালীন সময়ে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব ও সিরাজগঞ্জ পশ্চিম অংশের টোলপ্লাজা সাময়িকের জন্য টোল আদায় বন্ধ রাখে সেতু কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা প‌দ্ধতি সংস্কার আমাদের প্রাণের দাবি, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের দাবি। যে পর্যন্ত কোটা সংস্কারের সুষ্ঠু সমাধান না হবে সে পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের উপর হামলা, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। নিরহ শিক্ষার্থী‌দের হত‌্যার বিচার দাবি করেছে তারা।

বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ও‌সি) আলমগীর আশরাফ জানান, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর অবরোধ করে। একপর্যায়ে তারা মহাসসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। এছাড়া বিশৃঙ্খলারোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

কোটা সংস্কার আন্দোলন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা: আসিফ নজরুল

আসিফ নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, কোটা সংস্কার দাবিতে যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, তাদের আন্দোলনটাই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর দেড়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা চত্বরে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‌‘৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বড় চেতনা হচ্ছে অসাম্য, বৈষম্যহীনতা ও সমান অধিকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, তাদের রাজাকার ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এটা প্রত্যাখ্যান করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজাকার না।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে মাত্র এক শতাংশ রাজাকার ছিল, ৯৯ শতাংশই ছিল মুক্তিযোদ্ধা। আজকে যারা আন্দোলন করছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা। তারা জনযুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সুতরাং তাদের রাজাকার ট্যাগ দেওয়া বন্ধ করেন। রাজাকার ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি বন্ধ করেন। এটা করতে করতে আপনারা মুক্তিযোদ্ধাকে হেও করছেন।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘যারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছেন, নির্যাতন করেছেন, এটা ফৌজদারি অপরাধ। এটা হচ্ছে মার্ডার, মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। অবশ্যই এই অপরাধের বিচার করতে হবে। সরকারের যে মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা প্রকাশ্যে ছাত্রলীগকে আন্দোলন দমনে নির্দেশ দিয়েছেন, তারাও এই অপরাধের সমান অংশীদার। এই অপরাধের সহায়তাকারী হিসেবে তাদেরকে বিচার করতে হবে। দেশে যদি কোনো অপরাধ হয় সেটা দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, বিচার বিভাগের, ছাত্রলীগের না।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত কি আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দেওয়া হলো? তাদের স্বার্থকে বিবেচনা করা হয়েছে? নাকি তাদের কণ্ঠ বিবেচনা করা হয়েছে? আজকে আমরা শুনেছি সন্ধ্যার মধ্যে হল খালি করার সিদ্ধান্ত এসেছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই হল ত্যাগ করার সিদ্ধান্তে সাধারণ ছাত্ররা হল ত্যাগ করুক আর না করুক সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু হলে বা অন্য কোথাও তাদের উপর হামলা নির্যাতন আমরা আর সহ্য করবো না।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের অশুভ শক্তির হাতে। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ চুপ থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্রও নিয়ে কেনো রাস্তাঘাট দখল করবে, সহিংসতা করবে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। এই অবস্থায় আমরা চুপ থাকতে পারি না। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। আমাদের অস্তিত্বের ওপর হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। কাজেই আপনারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান।

পত্রিকার শিরোনাম উল্টো কথা বলছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা ছাত্রলীগের কর্মী। তাদেরকে আক্রমণ করেছে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি। পত্রিকার শিরোনামে এসব আসেনি। সহকারী প্রক্টরকে যেভাবে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, সেটা গণমাধ্যমে আসেনি। গণমাধ্যম সত্য ঘটনা তুলে ধরবে, সেটাই আমরা চাই।

দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সারা দেশের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশ দিচ্ছি, সারা দেশে সতর্ক হয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে এই অশুভ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করা যাবে না।

এসময় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ করে কাদের বলেন, আইনের পাশে থাকুন। আদালতের নির্ধারিত তারিখে শুনানির জন্য অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরেন। ফাঁদে পা দেবেন না অপশক্তির। আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।

এ সময় আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

সর্বশেষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার প্রবেশপথ অবরোধ
কোটা সংস্কার আন্দোলন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা: আসিফ নজরুল
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন, শাহবাগে ছাত্রলীগ-যুবলীগ
সান্তাহারে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ৩ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে পুলিশ : ডিবিপ্রধান
জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে তোপের মুখে নিপুণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, সন্ধ্যার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কোটা আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ
এবার ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের কক্ষ ভাঙচুর
তিস্তায় ভেসে এলো ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর লাশ
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের রুমে ভাঙচুর, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
কোটা আন্দোলন: হামলা-সংঘর্ষ-হত্যা নিয়ে যা বলছে জাতিসংঘ
রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল শুরু
গভীর রাতে বোরখা পরে পালিয়েছেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
ইউজিসি কি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করতে পারে, প্রশ্ন ঢাবি অধ্যাপকের
রক্তপাত বন্ধের আহ্বান হৃদয়-শরিফুলের
স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের ২ নেতাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
আজ গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল করবে আন্দোলনকারীরা