শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Dhaka Prokash

জীবন সংগ্রামে সফলতার দেখা পেল দেবহাটার ৫ নারী

জীবন সংগ্রামে সমাজ, পরিবারের নানা বাধাঁ কাটিয়ে সফলতার মুখ দেখেছেন দেবহাটার ৫ নারী। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এসব নারীদের ৫টি ক্যাটাগরিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’’ শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় খুঁজে বের করা হয়েছে। এসব নারীদের জীবনে রয়েছে আলাদা আলাদা জীবন কাহিনী। তাদের সেই সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরা হলো।

জীবন চলার পথ মসৃণ নয়, আসে নানান বাঁধা-বিপত্তি। সাহসী মানুষ এসব বাধা অতিক্রম করে আত্মপ্রত্যয়ের উপর ভর করে এগিয়ে যায় এবং সফলতা বয়ে আনে নিজের জীবনে। পাশাপাশি যুক্ত হয় সামাজিক কাজে। অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠে অন্যদের জন্য। এমনই একজন নারী জি. এম স্পর্শ। ১৯৯৩ সালে জেলার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শ্বেতপুর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়। পরে স্বামীর সহযোগিতায় এইচ.এস.সি পাশ করেন তিনি। পরীক্ষার কয়েক মাস পরেই তিনি প্রথম সন্তানের (কন্যা সন্তান) মা হন। যে কারণে অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি।

২০১৯ সালে স্বামী ও পরিবারের সহযোগিতায় জি.এম স্পর্শ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে উপজেলা গভর্ন্যান্স ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের ( ইউজিডিপি) সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক নারী উন্নয়ন ফোরাম সংক্রান্ত গাইড লাইনের আলোকে তিনি উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম গঠন করেন। একই সাথে নারী উন্নয়ন ফোরামকে টেকসই করার লক্ষে উপপরিচালকের কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা থেকে ফোরামের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

এই নারী উন্নয়ন ফোরামের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত নারী সদস্যদের নিয়ে সমাজে নারীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিষদে তাদের ভূমিকা আরও জোরালো করা, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কাজ করা এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশের উপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ বিষয়ে নারীদের উজ্জীবিত করছেন/পরামর্শ দিচ্ছেন জি.এম স্পর্শ। এ ছাড়াও তার নারী উন্নয়ন ফোরামের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক প্রতি বছর যে বরাদ্দ পেয়ে থাকেন সেটা দিয়ে তিনি দেবহাটা উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়/ মাদ্রাসার কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে উঠান বৈঠক, স্কুলে অবহিতকরণ সভা ও নারী জন প্রতিনিধিদের দক্ষতা বিকাশে ব্যয় করছেন। তা ছাড়াও উক্ত বরাদ্দকৃত টাকা থেকে দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের দুঃস্থ-অসহায় নারী ও শিশুদের চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় করছেন তিনি।

এসবের বাইরেও করোনাকালে নিজস্ব অর্থায়নে দরিদ্র অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া, খাদ্য বিতরণসহ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা, নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা এবং উপজেলা পরিষদের সম্মানীর টাকা দিয়ে দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অবদান রেখে চলেছেন তিনি।

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ফুলজান বিবি। তিনি রত্নেশ্বপুর গ্রামের রায়হান হোসেনের স্ত্রী। প্রায় ২২ বছর পূর্বে তার বিয়ে হয়। জানা গেছে, সেই সময় তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তিনবেলা পেট ভরে খাওয়া হতো না। পরপর তার দুটি সন্তান হয়। কিন্তু শিশুদের খরচ চালোনোর মতো সামর্থ্য ছিল না তাদের।

এক পর্যায়ে খরচ সামলাতে বাড়িতে গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করা শুরু করেন ফুলজান বিবি। তাতে যে টাকা আয় হতো তাতেও সংসার চলত না। তখন তিনি সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। পরে এনজিও থেকে লোন নিয়ে স্বামীকে ডেকোরেটরের ব্যবসা ছোট থেকে বড় আকারে রূপ নিতে শুরু করে। এতে করে তাদের অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। তাদের পূর্বের অবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় এখন সমাজের মানুষের কাছে সম্মাননীয় ব্যক্তি হিসাবে সম্মান পায়। বর্তমানে ফুলজান বিবির পরিবার অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করেছে।

নির্যাতনে বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন জীবন শুরু করেছেন আরিফা পারভিন। তিনি জগন্নাথপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের কন্যা।

জানা গেছে, গত ২ বছর আগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাড়দ্দহা গ্রামে বিয়ে হয় আরিফার। বিয়ের পর থেকে কিছু দিন স্বামীর সংসারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো ছিল। কয়েক মাস যাওয়ার পর তার স্বামী বিভিন্ন নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এমনকি বিয়ে করা স্ত্রীকে সহ্য করতে পারত না। এক সময় কথায় কথায় শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে তার স্বামী। অনেক সহ্য করার পরেও যখন তার স্বামীর অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি তখন শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সকলকে নির্যাতনের বিষয়টি জানান তিনি। জানানোর পরেও তারা তার অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে পারিনি।

স্বামীর অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করে যখন ব্যর্থ হন তখন ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির অফিসে অভিযোগ করেন আরিফা। ব্র্যাক অফিসে শালিসের মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তারা। এক পর্যায়ে দেনমোহর ও ভরনপোশন বাবদ মাত্র ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তালাক দেন স্বামীকে। সেই টাকা দিয়ে পানির ফলের ব্যবসা শুরু করেন আরিফা। সেইসঙ্গে কিছু জমি বন্ধক রেখে ফসলের চাষ শুরু করেন। এসবের পাশিপাশি একটি কারখানার ব্যাগ তৈরির কাজে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে যে টাকা উপার্জন হতো তা দিয়ে নিজের ও পরিবারের আর্থিক খরচ চালাতে সক্ষম হন।

শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উপেক্ষা, স্বামীর নির্যাতন, অসহযোগিতা এত কিছু আরিফাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা, পরিশ্রম, সততা ও একাগ্রতা তাকে সাফল্যে পৌঁছাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। সত্যিকার অর্থে নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার যে অভিপ্রায় সেটা অর্জন করেছেন তিনি।

সফল জননী নারী পারভিন আক্তার। তিনি মাঝ-পারুলিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের স্ত্রী।

পারভিন আক্তার জানান, তার স্বামী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীনের পরে তিনি কিছুই করতেন না। স্বামীর তেমন জমি জায়গাও ছিল না। আমার বিয়ের পর আমাদের ৩টি ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। স্বামী ও ৩টি সন্তান নিয়ে সংসার খুব ভালো চলছিল না। সব বাধা উপেক্ষা করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। সংসার ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ কোনোভাবে নিজেই চালাতে লাগলাম।

তিনি আরও জানান, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগানোর জন্য বাড়িতে হাঁস-মুরগি ও গাভি পালন শুরু করলাম। পালিত পশু-পাখি থেকে পাওয়া মাংস ও ডিম ছেলে-মেয়েদের চাহিদার পাশাপাশি বিক্রি করে তাদের বই, খাতা, কলম ও পড়া লেখার খরচ যোগাতাম। ছেলে মেয়েরা সবাই ছিল মেধাবী ও পরিশ্রমী । স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাফল্যের সাথে পড়াশোনা করে। বর্তমানে ৩ ছেলে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সবাই সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়। আমার বড় ছেলে তাহাজাত হোসেন (হিরু) সাউথ ইস্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট, মেঝ ছেলে শাহাদাত হোসেন (বিরু) মেহেরপুর জেলা আনসার কমান্ডার। ছোট ছেলে ইমদাদ হোসেন (মিথ) ঢাকা পলিটেকনিক কলেজের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদেরকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমার দেখা দেখি অন্য নারীরাও তাদের সন্তানদেরকে বিদ্যালয়মুখী করার জন্য আগ্রহী হচ্ছেন ।

শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী তুতিয়া খাতুন। তিনি বটিয়াঘাটা থানার নারায়নখালী গ্রামে ১৯৬৪ সালে মৃত আবু বকর শেখ ও নুরজাহানা বেগমের কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে আসেন।

তুতিয়া খাতুন তার জীবন সংগ্রাম নিয়ে বলেন, আমার পিতা একজন বিশিষ্ট বস্ত্র ব্যবসায়ী। মাতা ছিলেন একজন গৃহিনী। আমার পিতা তৎকালীন সময়ে ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি ছোট বেলা থেকেই পড়ালেখায় ভালো ফলাফল অর্জন করে চলছিলাম। উপযুক্ত বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। সেই থেকে আমার উপরে এবং শিক্ষা জীবনে চরম বাধা বিপত্তি আসে। অনেক বাধা বিপত্তির মধ্যে দিয়ে স্বামীর একান্ত প্রচেষ্টায় মেমোরিয়াল সিটি কলেজ খুলনাতে বিজ্ঞান শাখায় ১ম বর্ষে ভর্তি হই। সেখানে থেকে ১৯৮৩ সালে বিজ্ঞান শাখা থেকে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হই। সেখানেও আমি বিভিন্ন রিসাইটেশনের সাথে জড়িত থাকি এবং পুরুস্কার পেয়েও থাকি। এমন মুহূর্তে আমার একটি পুত্র সন্তান হয়, তাকে নিয়ে আমি বেশ কষ্টেও লেখাপড়া করি। ১৯৮৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.কম সম্মান শ্রেণিতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভর্তি হই এবং ১৯৮৬ সালে বি.কম সম্মান ব্যবস্থাপনা বিষয়ের উপর ডিগ্রি লাভ করি। সে সময় আমার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। এত কষ্ট সত্ত্বেও আমি ১৯৮৭ সালে এম কম শেষ বর্ষে ভর্তি হই। সেখান থেকে এম কম ব্যবস্থাপনা বিষয়ের উপরে ডিগ্রি লাভ করি। এরপর ১৯৯৩ সালে কলারোয়ার শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক পদে নিয়োগ হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীর বাড়ি দেবহাটার সখিপুর হওয়ায় প্রতিদিন ৭২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আমাকে আমার কর্মস্থলে যেতে হতো। সংসারের সব কাজ শেষ করে সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত হতাম। নির্দিষ্ট কয়েক বছর চাকরির পরে সহকারী অধ্যাপক পদে উপনীত হই। বর্তমানে ওই কলেজে যথেষ্ট সততা ও কর্মদক্ষতার সাথে (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত আছি।

তুতিয়া খাতুন বলেন, বর্তমানে আমি স্বচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দময়ী একজন নারী। আমি আমার কর্মস্থলে যথেষ্ট সুনামের সাথে নিয়োজিত আছি।

এসআইএইচ

Header Ad

টাঙ্গাইলে আ.লীগ নেতার উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এমএ মালেক ভূইয়া নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার উপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকীর লোকজনের বিরুদ্ধে।

এমএ মালেক ভূইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

শুক্রবার (২৪ মে) বিকালে উপজেলা শহরের হাসপাতাল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, ঘটনার পর পরই প্রতিবাদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়ক অবরোধ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকীর পক্ষে বিজয় মিছিলের প্রস্তুতি নেয় তার অনুসারীরা। অপরদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী তার বাসায় একটি মিটিংয়ের আয়োজন করেন। সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় কালিহাতী হাসপাতাল মোড়ে এমএ মালেক ভূইয়ার গাড়িতে হামলা চালায় সংঘবদ্ধ একটি গ্রুপ।

হামলার শিকার এমএ মালেক ভূইয়া বলেন, সাবেক এমপি সোহেল হাজারীর বাসায় যাওয়ার সময় আমার গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কয়েকজন লোক। এ সময় আমি ও আমার গাড়ি চালক গুরুতর আহত হই। নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ সিদ্দিকীর লোকজন এ হামলা করেছে। এতে আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন- নির্বাচনের পর থেকে কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতা মালেক ভূইয়ার ন্যাক্কারজনক উপর হামলার প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা এলেঙ্গা মহাসড়ক প্রায় আধা ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন।

এরপর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা এসে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তিনি এ হামলার জন্য স্থানীয় এমপি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ সিদ্দিকীর বাহিনীকে দায়ী করেছেন।

এ ব্যাপারে নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী বলেন, আমাদের বিজয় মিছিলে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী হামলা চালায়। এতে আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক বলেন, নব‌নির্বা‌চিত উপ‌জেলা চেয়ারম‌্যান আজাদ সিদ্দিকীর বিজয় মিছিল নিয়ে আসার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মালেক ভূইয়ার উপর হামলা করে অজ্ঞাতরা। এ সময় গাড়ি ভাঙচুর করে। এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অ‌ভি‌যোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কঠিন হয়ে গেল দুবাই ভ্রমণ, ভিজিট ভিসায় প্রবেশে নতুন শর্ত

ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী ও আকর্ষণীয় রাজ্য দুবাই। বিলাসবহুল জীবনযাপন, আকাশচুম্বী অট্টালিকা, হোটেলসহ নানা কারণে দুবাই ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের শীর্ষে।

কিন্তু আগে যেভাবে সহজ উপায়ে দুবাইয়ে ভিজিট ভিসায় প্রবেশ করা যেত এখন তা আর হচ্ছে না। ভ্রমণকারীদের প্লেনে ওঠার আগে বাধ্যতামূলক তিন হাজার দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৬ হাজার টাকা) নগদ, একটি বৈধ রিটার্ন টিকিট ও বাসস্থানের বৈধ (ইজারি) কাগজপত্রের প্রমাণ দেখাতে হবে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে পর্যটন সংস্থাগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আমিরাতে প্রবেশের নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করছে কর্তৃপক্ষ। কিছু যাত্রী যারা এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে তারা বলেছেন তাদের ভারতীয় বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ফ্লাইটে উঠতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু যাত্রী দুবাইয়ের বিমানবন্দরে আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে।

তাহিরা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ফিরোজ মালিয়াক্কাল বলেন, দুবাই ভ্রমণকারীদের অবশ্যই কমপক্ষে ছয় মাসের বৈধতা থাকা পাসপোর্টসহ একটি বৈধ ভিসা থাকতে হবে। যাত্রীকে অবশ্যই রিটার্ন টিকিট বহন করতে হবে। এগুলো আগেও চেক করা হয়েছে। তবে এখন দুবাইতে থাকার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য চেক করা হচ্ছে। এ অর্থের পরিমাণ হবে নগদ বা ক্রেডিট কার্ডে তিন হাজার দিরহামের সমতুল্য যেকোনো মুদ্রা।

সেইসঙ্গে ভ্রমণকারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসস্থানের বৈধ ঠিকানার প্রমাণ প্রদান করতে হবে; এটা হয় আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়ি বা হোটেল বুকিং– যেকোনো কিছু হতে পারে, যোগ করেন ফিরোজ।

ট্র্যাভেল এজেন্টরা জানিয়েছেন, এ নিয়ম দীর্ঘকাল ধরেই আছে। তবে এখন ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থেই কর্তৃপক্ষ নজরদারি কঠোর করেছে। রুহ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের লিবিন ভার্গিস বলেছেন, দুবাই ভ্রমণকারীদের সুরক্ষার জন্য বিমানবন্দরেই চেক করা হচ্ছে। এর আগে ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও থাকার অনেক ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের এ পদক্ষেপটি আমিরাতের পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও আমিরাতে ভ্রমণকারীদের যেকোনো অসংগতি এড়াতে কঠোরভাবে এসব চেক করা হচ্ছে।

কখন কোথায় আঘাত হানতে পারে ‘ঘূর্ণিঝড়’ রেমাল

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আরও ঘনীভূত হয়ে রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। আর তেমনটা হলে এটি রোববার ভোর নাগাদ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। নিম্নচাপটির এখনকার গতিপথ বাংলাদেশের পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার দিকে। এরই মধ্যে সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ রূপ নিয়েছে নিম্নচাপে। কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চে গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। আরও শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর-পূর্ব দিকে এগুচ্ছে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে।

ভূ-উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, শনিবার নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় রেমালে রূপ নিতে পারে। আর এর অগ্রভাগ মোংলা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী উপকূলে অতিক্রম শুরু করতে পারে রোববার ভোরে। কেন্দ্র বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘এখন যেই অবস্থানটা দেখাচ্ছে, তার কেন্দ্রটাই বাংলাদেশের ওপরে দেখাচ্ছে। ডান পাশ ও বাম পাশ দুটোই বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যেতে পারে। আমাদের হাতে থাকা মডেল অনুযায়ী, এটি ভয়াবহ সাইক্লোনও রুপ নিতে পারে।’

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সারা দেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উপকূল অতিক্রমের সময় জোয়ার থাকলে হতে পারে জলোচ্ছ্বাস।

আজিজুর রহমান বলেন, ‘আগামীকাল (শনিবার) রাত থেকেই আমাদের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম পর্যন্ত। এটি যতই অগ্রগর হবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

নিম্নচাপের কেন্দ্রে সাগর উত্তাল রয়েছে। এরই মধ্যে সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে আ.লীগ নেতার উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ
কঠিন হয়ে গেল দুবাই ভ্রমণ, ভিজিট ভিসায় প্রবেশে নতুন শর্ত
কখন কোথায় আঘাত হানতে পারে ‘ঘূর্ণিঝড়’ রেমাল
জাভিকে বরখাস্ত করলো বার্সেলোনা
গোবিন্দগঞ্জে ২ হাজার পিস বুফ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার
সৌদি পৌঁছেছেন প্রায় ৩৯ হাজার হজযাত্রী
রাজনীতিতে আসার ইঙ্গিত দিলেন আনারকন্যা ডরিন
আজিজ ও বেনজীরের দুর্নীতির দায় সরকার এড়াতে পারে না: দুদু
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রাতে মাঠে নামছে হায়দরাবাদ-রাজস্থান
এমপি আনার হত্যা: ১২ দিনের রিমান্ডে কসাই জিহাদ
মারা গেছে মিমস জগতের জনপ্রিয় কুকুরটি
ফিক্সিং প্রমাণিত হলে ১০ বছর নিষিদ্ধ পাকুয়েতা!
নিম্নচাপে পরিণত সাগরের লঘুচাপ, বন্দরে সতর্কতা জারি
নওগাঁয় ভুয়া ডাক্তারকে অর্ধলক্ষ টাকা জরিমানা ও ৩ মাসের জেল
আনারের মরদেহ টুকরো টুকরো করে কাটার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ‘কসাই’ জিহাদ
এমপি আনারকে হত্যার বিষয়ে যা জানালেন মাস্টারমাইন্ড শাহীন
এমপি আনারের টুকরো টুকরো লাশের সন্ধান দিল গাড়িচালক
নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহারে ৪৬ প্রার্থীর ২৫ জনেই জামানত হারালেন
বিশ্বকাপে চাপ থাকবে, নার্ভ ধরে রাখতে হবে : সাকিব
সরকার কাউকে প্রটেকশন দেয় না : ওবায়দুল কাদের