বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘এই মুহূর্তে দায়িত্ব নিলে আমি ঠিক করতে পারব’

দেশের চলমান সংকটে বর্তমান সরকারের বিদায় দেখছেন ড. রেজা কিবরিয়া। তার আশা, খুব শিগগির বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে। রাষ্ট্রক্ষমতায় নতুন সরকার আসবে। দেশ আবার ঘুরে দাড়াবে। সরকারের পতন হলে কারা দায়িত্ব নেবে? কার নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে? বিদেশি কোনো প্রভাব কাজ করছে কি-না? এসব নানা বিষয়ে ঢাকাপ্রকাশ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক, সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। যিনি স্বপ্ন দেখছেন আগামী সরকারের অর্থমন্ত্রী হওয়ার।

তার একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকাপ্রকাশ-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শাহজাহান মোল্লা। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা তো বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। আপনার দল গণঅধিকার পরিষদের নিবন্ধন কি পেয়েছেন? না পেলে নিবন্ধন নেবেন কি না?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমরা নিবন্ধন চাইবো। কাজটা প্রায় শেষ। সরকার ইচ্ছা করে একটা বাধা দিয়ে রেখেছে নতুন দলের রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে। এই সরকার চায় না নতুন দলের নিবন্ধন দেওয়া হোক। নিবন্ধন পেতে এতো কাগজপত্র প্রয়োজন যে এটা একজন ক্যারি (বহন) করতে পারবে না, দুই-তিন জন লাগবে এটা নিয়ে যেতে। এতো ভারি হবে কাগজপত্র।

ঢাকাপ্রকাশ: তার মানে আপনার এই নির্বাচন কমিশনকে মেনে নিয়েছেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: হ্যাঁ। নিবন্ধন চাইতে তো ওদের কাছেই যেতে হবে। আর কোথায় যাব? নিবন্ধনের জন্য কমিশন ঠিক আছে, কিন্তু তাদের কোনো কাজে আমরা সন্তুষ্ট না এখন পর্যন্ত। দেখি নিবন্ধনের ব্যাপারে তারা যদি ‘সেনসিবল’ হয় ভালো।

ঢাকাপ্রকাশ: নিবন্ধন পেলে ভোটে যাবেন কি না?

ড.রেজা কিবরিয়া: এই সরকারের অধীনে কোনো ভোটে আমরা যাব না। এই সরকার প্রমাণিত ভোট চোর। প্রমাণিত ভোট চোরের কাছে কী বিশ্বাস করব? কেন বিশ্বাস করব? নির্বাচন কমিশন একটা আছে সেটা ঠিক আছে। নির্বাচনে যাব কি না সেটা সময় বলে দেবে।

ঢাকাপ্রকাশ: সরকার তো বলেছে সংবিধানের বাইরে যাবে না। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাবার কোন সুযোগ নেই। তাহলে আপনারা কোন সরকার চাচ্ছেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: একটা নিরপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ। তাদের কথায় জনগণ বিশ্বাস করে? যারা মিথ্যা ভোটের তথ্য জনগণকে দিয়েছে। যারা মিথ্যা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান দেয়- তাদের কথায় কেউ বিশ্বাস করে? করবে না।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনি বলছেন ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। আমরা তো দেখেছি জনগণের অধিকার কেড়ে নিলে তারা সেটা মেনে নেয় না। জনগণ রাজপথে নেমে আসে গত ৪ বছরে তো সেরকম কিছু দেখিনি।

ড রেজা কিবরিয়া: খুলনাতে যখন ১০৪ শতাংশ ভোট পড়ে তখন সাংবাদিকদেরও একটু সন্দেহ জাগা উচিত। এতো চুরি হয়েছে এতোগুলো আসনে। বিদেশী পর্যবক্ষেকদের আসতে ভিসা দেয়নি। সব কিছু থেকে বোঝা যায় ওদের উদ্দেশ্যেই খারাপ ছিল। ভোট চোরের সরকার জনগণ মেনে নিয়েছে সেটা ভাববেন না। হয়তো মানুষকে খুন করে, গুম করে, রাস্তায় কথা বলার মতো মানুষকে খুন করে তারা কিছু মানুষকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে, কিন্তু সব মানুষ সাহস হারায়নি, আশা হারায়নি। আমাদের দল গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য যা করার করবে।

ঢাকাপ্রকাশ: মানুষ যদি সাহস না হারায় তাহলে সে রকম আন্দোলন কি হয়েছে?

ড. রেজা কিবরিয়া: সে রকম বড় কিছু হয়নি। আমাদের দল তো মাত্র সক্রিয় হয়েছে কয়েক মাস। আমরা কি করবো সেটা অন্য দলের সঙ্গে তুলনা করবেন না। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে আমাদের দল খুবই শক্তিশালী। ভবিষ্যতে দেখবেন। সব দল করে না বা করতে চায় না, আমরা করে দেখিয়েছি। ভবিষ্যতে প্রমাণ দেখতে পাবেন। জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, বিদ্যুতের দাম আবার বাড়াবে। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে না। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি।

ঢাকাপ্রকাশ: তাহলে বিএনপি কি জনগণের কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ বলে মনে করেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমরা বিএনপি থেকে অনেক কিছু আশা করি। হয়তো পুরোপুরি আমরা পাইনি, কিন্তু তাদেরও তো অসুবিধা আছে। তাদের নেতা একজন লন্ডনে আর একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

ঢাকাপ্রকাশ: সমালোচনা আছে যাদের নিবন্ধনই নাই। যাদের এখনও ভোট করার অধিকার হয়নি। তারা কিভাবে সরকারের পতন ঘটাবে?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমি আশাবাদী। এই ধরনের কথা যারা বলে তারা হতাশ হয়ে বলছে বা সরকারের দালাল লোক এসব কথা বলেন। ঘটনা এবং সময় প্রমাণ করবে আমরা পারব কিনা।

ঢাকাপ্রকাশ: সেই সময়টা কবে?

ড. রেজা কিবরিয়া: খুব বেশি দিন বাকি নেই। এই বছরেই হতে পারে। সময় বলবো না, কিন্তু এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন হবে। হিটলারের পতন হয়েছিল, মুসলিনির পতন হয়েছিল, গাদ্দাফির পতন হয়েছিল, এই সরকারেরও পতন হবে। মনে হবে তারা খুবই শক্তিশালী, কিন্তু তারা এক সময় দেখবে বিপদে পড়ে মানুষের কাছে কিভাবে কৈফিয়ত দিতে হয়; এটা ঘটবে ইনশাল্লাহ। খুব বেশি দেরি নাই। অনেক বছর অপেক্ষা করছি। আর কিছু দিন সবুর করেন।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা যে আন্দোলন করছেন, আপনাদের কথা কী সরকারের কাছে পৌছায় বা বাইরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: সরকারের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। ওদেরকে আগে থেকে খবর দেওয়ার প্রয়োজন নাই। আমি জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাই। আমাদের কেউ হারাতে পারবে না, কারণ আমরা জনগণের অধিকারের কথা বলছি। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ সরকারকে ভয় করে না। স্বৈরাচারি দেশে জনগণ সরকারকে ভয় পায়। কখন তুলে নিয়ে যায় এই ভয় থাকে। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ রাস্তায় নামলে সরকার ভয় পায়।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনার কাছে কী মনে হয় আপনাদের ডাকে মানুষ রাস্তায় নামবে?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমাদের ডাকে আসবে কি না জানিনা। আমরা থাকব মাঠে। জনগণ যেটা করতে রাজি নই, আমরা করতে রাজি আছি। আমরা সেই ঝুঁকি নিতে রাজি আছি। কষ্ট করতে রাজি আছি।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনাদের আন্দোলন তো শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক।

ড. রেজা কিবরিয়া: কথাটা সঠিক না। ঢাকার বাইরে জনপ্রিয়তা একটু বেশি ঢাকার চেয়ে। তবে ঢাকার রাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের আন্দোলন ঢাকা কেন্দ্রিক। তবে আমাদের দলটা খুবই জনপ্রিয় সাধারণ মানুষ কাছে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনি বলছেন ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার সবগুলো আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো প্রস্তুতি আপনাদের আছে?

ড. রেজা কিবরিয়া: ঢাকার ১৮ টি আসনে নাই, কিন্তু অনেকগুলোতে আছে। তবে আমাদের কমিটি সবখানে হয়ে গেছে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা যে গণতন্ত্র মঞ্চ করলেন সেটার উদ্দেশ্য কী?

ড. রেজা কিবরিয়া: উদ্দেশ্য আমাদের মধ্যে যে ঐক্য আছে, সেটা বোঝানোর জন্য। জেনারেল এরশাদকে সড়াতে যে বড় ঐক্য হয়েছিল, সে ধরণের ঐক্য করতেই এই মঞ্চ। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই সরকারকে হটানো এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা আওয়ামী লীগকে হটাতে চান? তাহলে কি আপনারা আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপিকে নিতে চাচ্ছেন ক্ষমতায়?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমরা সে ধরণের কোন পরিকল্পনা করছি না এই মুহূর্তে। জনগণ যদি চায় তাহলে যে কোন দলকে তারা ভোট দেবে। মনে হতে পারে আমরা ছোট দল, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের দল বেশি ভোট পাবে আওয়ামী লীগের চেয়ে।

ঢাকাপ্রকাশ: বিএনপির চেয়েও আপনারা জনপ্রিয়?

ড. রেজা কিবরিয়া: না, সেটা আমি ভাবছি না। কিন্তু আওয়ামী লীগের চেয়ে তিন-চার গুণ জনপ্রিয় হবো এই মুহূর্তে। এককভাবে যেতে পারলে ভালো, আমরা যদি জোটগত ভাবে যাই সেটা পরে দেখা যাবে। তবে বড় একটা পরিবর্তন দরকার। ৫২ বছর যেভাবে দেশ চলেছে সেভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। তাদের (বিএনপির) সঙ্গে নিয়ে আমরা সামনে থাকব। তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা কাজ করব। বিএনপির স্টাটিজিতে ভুল ছিল, না হলে এখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হতো না। বিএনপির দুর্বলতার কারণে তারা এখন ক্ষমতায় নাই।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনাদের গণতন্ত্র মঞ্চ এবং বিএনপির মধ্যে যদি ঐক্য হয় আপনাদের ইমাম কে হবেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: জনগণের মতামত নিয়ে ইমাম ঠিক হবে। আমরা এক সঙ্গে কাজ করব।

ঢাকাপ্রকাশ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আপনাদের কথা হয়েছে?

ড. রেজা কিবরিয়া: না, সেরকম না। মির্জা ফখরুল ভাইয়ের সঙ্গে অনেক দিন কথা হয়েছে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনাদের সঙ্গে জামায়াত আছে?

ড. রেজা কিবরিয়া: সেটা দেখছি না। খুশি হবো, আওয়ামী লীগ, জামায়াত বিএনপির যদি কেউ আসে।

ঢাকাপ্রকাশ: একটা কথা বাইরে প্রচলিত আছে আপনাদের কেউ নামিয়ে দিয়েছে? আসলে কী?

ড. রেজা কিবরিয়া: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশীদের হাত আছে কোন সাল থেকে? ১১০০ সাল থেকে, যখন দিল্লীর সুলতানরা এসে দখল করল। বাইরের প্রভাব ১৯৭১ সালেও ছিল, ১৯৭৪ সালেও ছিল। কোন সালে বিদেশী প্রভাব আমাদের উপর পড়েনি। আমরা এখনও জাপান বা আমেরিকার মতো হয়নি যে বাইরের কোন প্রভাব আমাদের উপর পড়বে না। কিন্তু কেউ আমাদের নামিয়েছে এটা হাস্যকর। ওই সব দেশ যদি কাউকে নামায় তাদের শক্তি এবং প্রভাব দিয়ে যে কোন সরকারকে উৎখাত করতে পারে কয়েক দিনে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা কারও কাছে যাচ্ছেন পরিবর্তনের জন্য?

ড. রেজা কিবরিয়া: কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধী দলকে একটা জায়গা দেওয়ার জন্য বলি। আমরা গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে আলোচনা করি। গণতান্ত্রিক দেশগুলো সাপোর্ট করবে, এটাই স্বাভাবিক। তারা চায় বাংলাদেশের জনগণের অধীনে সরকার থাকবে। কোনো দেশ যদি চায় জনগণের কাছে ক্ষমতা থাকুক এতে দোষের কিছু নেই।

ঢাকাপ্রকাশ: গণঅধিকার পরিষদে সাবেক আমলা এবং অবসরপ্রাপ্ত সামরিক- বেসামরিক অফিসার যোগদান করার কথা শুনেছি, কতটা সত্য?

ড. রেজা কিবরিয়া: হ্যাঁ। এই সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়ছে। অনেক আবেদন জমা আছে। আমরা সবাইকে নিইনি। আমরা কিছুটা পর্যবেক্ষণ করে দেখি লোকটা দলে যোগ দেবে কি-না? তার ব্যাকগ্রাউন্ড কি? অনেক মানুষ পাইপ লাইনে আছে। অনেক মানুষ দরখাস্ত দিয়েছে তাদেরকে এখন পরিপূর্ণভাবে দলে যুক্ত করিনি। গ্রামে এবং বিভিন্ন জেলায় অনেক সিনিয়র মানুষ যোগদান করেছে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনার কথা অনুযায়ী, সরকার চলে গেলে আপনারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমরা প্রস্তুত। আমার আত্মবিশ্বাস আছে আমি পারবো। এই মুহূর্তে আমি পারবো। তবে দেড় বছর পর যদি আমাকে বলা হয় আপনি পারবেন কি না, আমার মনে হয় আমি পারব না। তখন বলব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর কাছে যান, ওরাই ঠিক করবে। এই মুহূর্তে আমি পারব, আরও দেড় মাস, দুই মাস ঠিক আছে ম্যানেজ করতে হবে। কষ্ট হবে, আমার কষ্ট হবে দেশের মানুষের কষ্ট হবে। এজন্য আত্মত্যাগ করতে হবে। আমি পারবো। আমি ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। অনেক দেশে এরকম-খারাপ অবস্থায় উপদেষ্টা ছিলাম। বের হওয়ার পথ আমি জানি। এই পরিস্থিতি যেন না হয় তার জন্য আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে, সেগুলো কাজে লাগাব।

ঢাকাপ্রকাশ: নতুন সরকার হলে আপনি কি অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চান?

ড. রেজা কিবরিয়া: জনগণ তো তাই ভাবে। দেখা যাক। আমিও প্রস্তুত।

দ্বিতীয় পর্বে পড়ুন: আওয়ামী লীগকে কোথাও খুঁজে পাবেন না।

এনএইচবি/এমএমএ/

Header Ad

শাবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিসহ সকল ধরনের লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাবিপ্রবির সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনীতি এখন থেকে চলবে না। ছাত্রলীগের রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়ায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানা থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত মহাসড়ক বন্ধ রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে প্রস্তুত রয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কিছুক্ষণের মধ্যে তারা অ্যাকশনে যাবে। অন্যদিকে হানিফ ফ্লাইওভারের কুতুবখালী টোলপ্লাজায় মোটরসাইকেল ও সিএনজি পুড়িয়ে দিয়েছে আন্দোলনকরীরা। এর আগে যাত্রাবাড়ী থানায় হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে, একই স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুই বছরের শিশু রহিত তার বাবা বাবুল হোসেনসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন সবজি বিক্রেতা মো. বাবলু (৪০) ও তার শিশু সন্তান রোহিত (২), মনিরুল ইসলাম (২০), মো. ফয়সাল (২৭), নবম শ্রেণির ছাত্র মাহিন আহমেদ পিয়াস (১৫), মো. সোহাগ (২৮)।

হাসপাতালে আহত শিশুটির মা লিপি আক্তার জানান, তাদের বাসা শনিরআখড়া এলাকায়। পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচতলায় থাকেন তারা। তাদের বাসার সামনের রাস্তায় কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। এদিকে শিশুটি গরমের কারণে কান্নাকাটি করতে থাকায় তার বাবা রহিতকে কোলে নিয়ে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাস্তার পরিস্থিতি দেখছিলেন। তখন শটগানের গুলি এসে শিশুটির বাবার মুখ, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাগে। এছাড়া কোলে থাকা শিশু রহিতের ডান হাতে এবং বুকে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, শনিরআখড়া থেকে আসা আহত ছয়জনকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় কোটা আন্দোলনের ঘটনায় অন্তত ৫২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে আন্দোলনকারী, ছাত্রলীগ সদস্য, পুলিশ ও সাংবাদিক রয়েছেন।

ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৩০

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গার পূর্ব সদরদী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী বিআরটিসি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা শাহ জালাল পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারে কাজ করেছি। এ ছাড়া আমাদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানাতে পারব।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মোহাম্মদ খায়রুল আনাম জানান, আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা ও ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে পুলিশ।

সর্বশেষ সংবাদ

শাবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা
যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৩০
কাল সারা দেশে বিক্ষোভ ডেকেছেন চরমোনাই পীর
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা কোটাবিরোধীদের
কোটা নিয়ে যেসব কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর মাথায় পুলিশের গুলি
গায়েবানা জানাজা বলে কিছু নেই বলে ইমামকে নিয়ে গেল ওসি আমিনুল
ঢাবিতে গায়েবানা জানাজায় কফিন ছুঁয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ
রণক্ষেত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আহত শতাধিক
বৃহস্পতিবার ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক
সাংবাদিকদের মাঝে সাউন্ড গ্রেনেড মারলো পুলিশ, অন্তত তিন সংবাদকর্মী আহত
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার প্রবেশপথ অবরোধ
কোটা সংস্কার আন্দোলন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা: আসিফ নজরুল
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন, শাহবাগে ছাত্রলীগ-যুবলীগ
সান্তাহারে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ৩ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে পুলিশ : ডিবিপ্রধান
জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের