বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
Dhaka Prokash

ছাত্রজীবনে মহসিন হলে ছাত্রদলের ভিপি ছিলাম: চুন্নু

জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর বাজছে। শনিবার দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে দলের কাউন্সিল, রওশন এরশাদকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে অপসারণসহ আরও অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে। কেউ কেউ দাবি জানিয়েছেন রওশন এরশাদকে বহিষ্কার করার। এসব বিষয়েই শনিবার রাতে মুঠোফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-

ঢাকাপ্রকাশ: জাতীয় পার্টি কি ভাগ হচ্ছে?

মুজিবুল হক চুন্নু: আমরা তো এক ভাগই আছি, আমাদের তো কেউ যায় নাই। উনার (রওশন এরশাদ) নামে যারা কাউন্সিল ডাকছে এটার তো আমাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নাই। আমাদের দলের তো কেউ যায় নাই ওখানে। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নাই। এটা আমরা জানি না। আমরা আমলেই নিচ্ছি না। আমলে নেওয়ার মতো না। বহিষ্কৃত কয়েকজন গেছে, এটা তো কোনো বিষয়ই না। সাবজেক্টই না আমাদের জন্য।

ঢাকাপ্রকাশ: কিন্তু আজকের বৈঠকে রওশন এরশাদকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে কিছু বলুন।

মুজিবুল হক চুন্নু: ইনডোর মিটিংয়ে কত কিছু হতে পারে। সেটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ওনাকে বহিষ্কার করব কী, তিনি তো দলের কোনো পদে নাই। কীভাবে বহিষ্কার করব? উনি বিরোধীদলীয় নেতা। ওইটা ওনাকে চেঞ্জ করার জন্য এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে উনি তো দলের কোনো পদে নাই।

ঢাকাপ্রকাশ: রওশন এরশাদকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না?

মুজিবুল হক চুন্নু: এটা তো আগেই নিয়েছি। কার্যকর করার কিছু নাই। স্পিকার ফরমাল দেখবেন আইনগতভাবে ঠিক আছে কি না, এই। এটা উনি স্বীকৃতি দেবেন। স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়া কোনো রাস্তা নাই।

ঢাকাপ্রকাশ: মসিউর রহমান রাঙ্গাকে নাকি স্থায়ী বহিষ্কার করা হচ্ছে?

মুজিবুল হক চুন্নু: স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য, প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য মিটিংয়ে সবাই মিলে একমত হয়েছে। কার্যকর করিনি, তবে রেজুলেশন নেওয়া হয়েছে। ঐক্যমত হয়েছি। কার্যকর করবেন চেয়ারম্যান। তবে সবাই দাবি করেছে।

ঢাকাপ্রকাশ: গোলাম মসীহ বলেছেন চুন্নু কে? উনি তো ছাত্রদলের নেতা ছিলেন, উনি জাতীয় পার্টির কী বুঝবেন?

মুজিবুল হক চুন্নু: সেটা ঠিক আছে। উনি বলেছেন উনি বিদ্বান মানুষ, উনি অনেক কিছু বোঝেন, আমি লেখাপড়া কম জানি। তবে উনি যে সাবজেক্টে পড়েছেন আমি একই সাবজেক্টে পড়েছি। উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি ফোর্থ ব্যাচ আমি পঞ্চম ব্যাচ। কাজেই ওনার চেয়ে লেখাপড়ায় কম জানি এটা মনে হয় না। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন ছাত্রদল থেকে মহসিন হলের ভিপি ছিলাম এটা তো ঠিকই আছে।

ঢাকাপ্রকাশ: তাহলে কাউন্সিল হচ্ছে না?

মুজিবুল হক চুন্নু: আমাদের পার্টির কাউন্সিলের এখনো সময় হয়নি। আমরা এখনো পার্টিতে সিদ্ধান্ত নেই নাই।

ঢাকাপ্রকাশ: জিএম কাদের তো কাউন্সিল ছাড়াই চেয়ারম্যান, রওশন অনুসারীরা তো সে কথাই বলছেন…

মুজিবুল হক চুন্নু: না, উনি কাউন্সিল করেই চেয়ারম্যান হয়েছে। ওরা কী বলল তাতে কী যায় আসে। অবশ্যই কাউন্সিল করে হয়েছে। কাউন্সিল হওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হয়েছে। ওরা কী বলে না বলে এটা হ্যাডেক নাই। এরা আসলে বহিষ্কৃত লোক এটা হেডেক না। যাকে বহিষ্কার করা হয়েছে সেও কাউন্সিল ছাড়া হয়েছিল। এখন তো সে বহিষ্কৃত। রাঙ্গাও তো কাউন্সিল ছাড়া মহাসচিব হয়েছে, সে নিজেই তো বলল।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনিও তো কাউন্সিল ছাড়া মহাসচিব…

মুজিবুল হক চুন্নু: হ্যাঁ, আমি তো কাউন্সিল ছাড়া হয়েছি। এটা তো পার্টির চেয়ারম্যানের ক্ষমতা আছে।

ঢাকাপ্রকাশ: তাহলে আপনারা আজকে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানে তো সবাই উপস্থিত…

মুজিবুল হক চুন্নু: আজকে ২০ জন এমপি ছিলেন, তারা স্বাক্ষর করেছেন। প্রেসিডিয়ামের ৪১ জনের ৩৮ জন উপস্থিত ছিলেন। এমপিদের মধ্যে তিনজন নাই। ম্যাডাম তার ছেলে আর রাঙ্গা। আর থাকে ৩ জন। একজন সেলিম ওসমান চিকিৎসাধীন। পীর মিসবাহ ডেঙ্গু থাকায় আসতে পারেননি।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনি এর আগে ঢাকাপ্রকাশ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জাতীয় পার্টি কখনো বিএনপির সঙ্গে যাবে না। অথচ আপনাদের পার্টির চেয়ারম্যান নাকি বিএনপি এবং তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন?

মুজিবুল হক চুন্ন: এটা প্রপাগান্ডা। উনি তারেক রহমানসহ কারও সঙ্গে আলাপ করেন নাই। ফরমালি কোনো কথা হয় নাই। এগুলো পুরো ভুয়া কথা এবং প্রপাগান্ডা। আমি এখনো বলছি, বিএনপি-আওয়ামী লীগ কারও সঙ্গে জোটে যাওয়ার কোনো চিন্তা নাই। আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করব, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের আন্দোলন আমাদের নিজস্ব ধারায়। সরকার পতনের আন্দোলন করে এর সঙ্গে আমাদের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নাই। আমাদের আন্দোলন আমাদের সিদ্ধান্তে। জোটে যাওয়ার মতো চিন্তাভাবনা নাই। ৩০০ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার চিন্তা করছি।

ঢাকাপ্রকাশ: তাহলে সরকার-ই কি জাতীয় পার্টিকে দিয়ে খেলছে?

মুজিবুল হক চুন্নু: এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই।

ঢাকাপ্রকাশ: যদি কাউন্সিল হয় তাহলে তো জাতীয় পার্টি বিভক্ত হবে…

মুজিবুল হক চুন্নু: এটার কোনো সুযোগ নাই। জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর কেউ কাউন্সিলে যায় নাই। বিভক্ত হবে কীভাবে? জাতীয় পার্টি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম ৭৭টি জেলার সভাপতি, সেক্রেটারি, কো-চেয়ারম্যান একজন ব্যক্তিও যায় নাই। ভাঙার সুযোগ নাই।

ঢাকাপ্রকাশ: কাউন্সিল যদি হয়…

মুজিবুল হক চুন্নু: কে করবে? আমি মহাসচিব, আমরা তো কাউন্সিলের তারিখ দেই নাই। বাংলাদেশে আরও ৪-৫টি জাতীয় পার্টি নামে সংগঠন আছে। এখন কেউ যদি জাতীয় পার্টির নামে আর একটা কমিটি করতে চায় করতে পারে। সেটা তে আমাদের সম্পর্ক নাই। জাতীয় পার্টি রেজিস্ট্রার্ড সংগঠন, লাঙল মার্কা সেটা জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। কাউন্সিল আমরা ডাকি নাই।

ঢাকাপ্রকাশ: তাহলে প্রধান পৃষ্ঠপোষক যে কাউন্সিল ডাকলেন সেটা কি অবৈধ?

মুজিবুল হক চুন্ন: অবশ্যই অবৈধ, অগঠনতান্ত্রিক। ওনার কোনো এখতিয়ার নাই কাউন্সিল ডাকার।

ঢাকাপ্রকাশ: তাহলে রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির কেউ না?

মুজিবুল হক চুন্নু: না, উনি পার্টির কেউ না। উনি তো পার্টির কোনো পদে নাই। আমরা ওনাকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক করে রাখছি অলংকার পদ হিসেবে।

ঢাকাপ্রকাশ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

মুজিবুল হক চুন্নু: আপনাকেও ধন্যবাদ।

এসজি/এএস

Header Ad

শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত: ওবায়দুল কাদের

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে বিএনপি-জামায়াত তাদের পুরনো আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য স্থানে ছাত্রলীগের ওপর নির্যাতন করেছে। ৩০০ মত আহত হয়েছে, যেখানে অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায়। ছাত্রলীগের নারী শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। মেয়েদের বেধড়ক পিটিয়েছে। পুলিশ, সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে ইতোমধ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রথম থেকেই পুলিশ সহনীয় ভূমিকা পালন করেছে। যার কারণে রাষ্ট্রপতি বরাবর শিক্ষার্থীরা তাদের স্বারকলিপি সরাসরি প্রদান করতে পেরেছেন।

তিনি জানান, বিএনপি মধ্যযুগীয় কায়দায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, মাহবুবউল আলম হানিফ; সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দি; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন বিবেচনার প্রশ্নে যা বলল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের ওপর হামলা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবারো নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ প্রতিক্রিয়ায় দেশটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। এদিনের ব্রিফিংয়ে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এমনকি বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ নীরব হয়ে যাওয়ার বিষয়েও উঠেছে প্রশ্ন। যদিও বাংলাদেশ ইস্যুতে নীরব থাকার বিষয়টি মানতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র।

এদিনের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং তাদের ওপর হামলা-সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ছাত্র বিক্ষোভের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অন্তত ছয় ছাত্র নিহত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন সরকারের দলীয় শাখা ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশেষভাবে নিষ্ঠুর আচরণ করছে, বিশেষ করে মেয়ে ও নারীদের ওপর। এবং তারা গত দেড় দশক ধরেই বারবার এটি করে আসছে। আপনারা কি ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করবেন?

জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, এই বিষয়ে (ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন বিবেচনা করা) আমি নির্দিষ্ট করে কোনও কথা বলব না। তবে আমি বলব, ঢাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভের সময় যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা আমরা নজরে রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে করার বিষয়েও আমরা অব্যাহত আহ্বান জানিয়েছি। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যেকোনও ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাই আমরা।

এরপর ওই সাংবাদিক কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বোরোবি) অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের তরুণ ছাত্র আবু সাঈদ তার সহপাঠীদের বাঁচাতে পুলিশের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের বাহিনী তাকে গুলি করতে দ্বিধা করেনি এবং এমনকি সে নিজেও বুঝতে পারেনি যে, বন্ধুদের উদ্ধার করার চেষ্টা করার সময় তাকে গুলি করা হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে থেকে এভাবেই ক্ষমতা ধরে রেখেছেন শেখ হাসিনা। আমি দুঃখিত– মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, সারা বিশ্ব বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে এবং এ জন্য মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু যখন জনগণের (ভোটের) অধিকার ছিনতাই করা হলো, তখনই হঠাৎ আপনারা নীরব হয়ে গেলেন। কেন এমন হলো?

জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে- আপনি যেটা বলেছেন তা ঠিক নয়। আপনি আমাকে এই সপ্তাহজুড়ে বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে কথা বলতে শুনেছেন - গত সোমবার বলেছি - আমার মনে হয় আমি গতকালও আবার বলেছি; আমি আজ আবারও বলছি - শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বিরুদ্ধে যেকোনও সহিংসতার নিন্দা করি আমরা।

তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়টিকে (ঢাকায়) আমাদের দূতাবাস থেকে খুব কাছ থেকে দেখছি এবং ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বিক্ষোভের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। বিক্ষোভে লোক মারা যাওয়ার, নিহত হওয়ার খবরও আমরা দেখেছি।

মিলার আরও বলেন, এবং আমরা আবারও, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার বিষয়ে মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

দেশের যুব সমাজকে মাছ উৎপাদনে নজর দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

দেশের যুব সমাজকে মাছ উৎপাদনে নজর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে হাইড্রোইলেক্ট্রনিক উৎপাদন বাড়তে হবে। মৎস্য শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেওয়া হবে।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইন্ট্যারন্যাশনাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড সিফুড শো-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনার জন্য আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা জানিয়ে যাচ্ছি। আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য এই খাতটা অবদান রাখতে পারে সেই ব্যবস্থাটাও আমরা নিয়েছি। আমাদের টেকসই স্বাস্থ্য সম্মত, পরিবেশবান্ধব মৎস্য সম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ এবং মৎস্য চাষ সম্প্রসারণের দিকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ আমরা করছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভাষণের শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে অত্যন্ত বেদনা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের আত্মসামাজিক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থা করে জনগণকে উন্নত জীবনযাত্রা দিতে শুরু করেছি। অনেক সাফল্য অর্জন করেছি। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটা মর্যাদার আসনে আসীন করতে সক্ষম হয়েছি। তারপর আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে একটা পরিপত্র জারি করে সরকার। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে উচ্চ আদালত ২০১৮ সালের জারি করা সরকারি পরিপত্র বাতিল করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে পরিপত্র বহাল রাখার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। আদালত শুনানির দিন ধার্য করেন। এ সময় ছাত্ররা কোটা বাতিলের দাবি নিয়ে আবারও আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার যথেষ্ট ধৈর্য ও সহশীলতার পরিদর্শন করেছে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। রাষ্ট্রপতির কাছে যখন আন্দোলনকারীরা স্মারকলিপি প্রদানের ইচ্ছাপোষণ করে সেক্ষেত্রে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সর্বশেষ সংবাদ

শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত: ওবায়দুল কাদের
ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন বিবেচনার প্রশ্নে যা বলল যুক্তরাষ্ট্র
দেশের যুব সমাজকে মাছ উৎপাদনে নজর দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থী নিহত
পরিস্থিতি বুঝে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে: পলক
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সব জেলার বাস যোগাযোগ বন্ধ
রাজধানীতে আ. লীগের প্রতিবাদ সমাবেশ পণ্ড করে দিলেন আন্দোলনকারীরা
যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ২ পথচারী গুলিবিদ্ধ
স্বামীকে তালাক দিলেন দুবাইয়ের রাজকন্যা শেখা মাহরা
সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ব্র্যাকের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকিয়ে দিল পুলিশ
কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে রাস্তায় নামবো: চমক
ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে চলছে না মোবাইল ডাটা
রিয়াল মাদ্রিদে আরো এক বছর লুকা মদ্রিচ
করোনায় আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
আজ কোটা আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি
হানিফ ফ্লাইওভারে কোটা আন্দোলন নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে তরুণ নিহত
শাবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা
যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৩০