শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১০ ফাল্গুন ১৪৩০
বেটা ভার্সন
Dhaka Prokash

‘ট্রাফিক পুলিশকে জনবান্ধব করতে কাউন্সেলিং জরুরি’

মাঝে মধ্যেই কতিপয় পুলিশ সদস্যের উগ্র আচরণ, নিরাপত্তার বদলে সাধারণ মানুষকে আরও নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক পুলিশের আচরণগত বেশ কিছু ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাফিক পুলিশকে জনবান্ধব করতে হলে যথাযথ কাউন্সেলিং প্রয়োজন। অন্যথায় জটিলতা আরও বাড়তে পারে। রাস্তায় দায়িত্ব পালনের সময় তাদের কথা কম বলতে হবে এবং চালকদের সঙ্গে কৌশলে ভালো ব্যবহার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী থানা এলাকার পাঁচটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে অটোরিকশা চালকদের (ব্যাটারিচালিত রিকশা) হামলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রাফিক পুলিশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাফিক পুলিশের বেশ কিছু সদস্য মাঝে মাঝে মানুষের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করে। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার সাধারণ মানদণ্ডও তারা মানে না।

জানা যায়, পুলিশ প্রথমে প্রতিবন্ধী এক রিকশাচালককে মারধর করে। এই ঘটনা প্রচার হওয়ার কিছু সময় পর অটোরিকশা চালকেরা সংগঠিত হয়ে ট্রাফিক পুলিশের উপর হামলা করে। এতে মিজানুর রহমান নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। অবশ্য মিরপুর ও পল্লবী ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অটোরিকশা সড়কে নিষিদ্ধ। সে জন্য নিয়মিত অভিযানে দুটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়। এরপর কতিপয় অটোরিকশা চালক একত্রিত হয়ে এই হামলা করেন।

সমাজ বিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাফিক পুলিশকে জনবান্ধব করতে হলে তাদের মানুষের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হবে এ নিয়ে কাউন্সেলিং করা দরকার। বিভিন্ন সময় তাদেরকে নিয়ে সেমিনারসহ অন্যান্য কোর্স চালু রাখা দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ হলো সাধারণ মানুষের বন্ধু, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশ কেন খারাপ আচরণ করবে বা মানুষ কেন তাদের প্রতি খারাপ ধারণা নিবে। এসব থেকে সাধারণ মানুষ এবং পুলিশকে বের হয়ে আসতে হবে। সবাই যদি এ বিষয়ে সচেতন হয় তাহলে এ ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা কমে আসবে।

মিরপুর পুলিশ বক্সে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি ‍পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, পাঁচটি ট্রাফিক বক্সে হামলার ঘটনা পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশে এবং পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে। ওই এলাকার কিছু মানুষের ইন্ধনে তারা এ হামলায় অংশ নেয়। পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট, মনোবল ভাঙা এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এই হামলা করা হয়েছে। এখানে ট্রাফিক পুলিশের আচারণগত কোনো সমস্যা নেই।’

রাইড শেয়ারিং চালক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ অনেক সময় আমাদের উপর অত্যাচার করে এবং জোর করে মামলা দেয়, খারাপ ব্যবহার করে। তাদের আচরণের কাউন্সেলিং করা দরকার।’

পাঠাও চালক জয়নাল মিয়া বলেন, ‘আমাদের মতো শ্রমিক, দিন মজুরদের উপর মাঝে মাঝে ট্রাফিক পুলিশ অত্যাচার করে। তারা বিনা কারণে মামলা দেয় এবং খারাপ খারাপ কথা বলে, ২-৩ ঘণ্টা ধরে রাস্তায় আটকে রাখে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা বেশি। সাধারণ চালক ও ট্রাফিকের মধ্যে মাঝে মাঝে ঘুষের কিছু ঘটনা ঘটে। এসব থেকে স্বার্থ কেন্দ্রিক অনেক সময় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। পুলিশকে পুরোপুরি জনবান্ধব হিসেবে তৈরি করতে হলে তাদের বিভিন্ন সেমিনার, কোর্স এবং কাউন্সেলিং চলমান রাখা উচিত। কারণ, মিরপুরের ঘটনাটি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু না কিছু ত্রুটি ছিল যার কারণে হয়তো এসব ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ প্রতিদিন অনেক মানুষকে ফেস করে সেখান থেকে অনেক ধরনের কথা শুনতে হয় তাদের। অনেক সময় তারা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না, যার কারণে মানুষের সঙ্গে তাদের ঝগড়া বা বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। পুলিশকে মনে রাখতে হবে তারা জনগনের সেবক। পুলিশকে দায়িত্বরত অবস্থায় কথা কম বলতে হবে এবং কৌশলে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তা ছাড়া, সাধারণ মানুষ রাস্তায় চলাচলের সময় আইন মেনে চললে এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চললেই বিভিন্ন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা এড়িয়ে চলা সম্ভব।’

কাউন্সেলিং বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, থানা থেকে শুরু করে পুলিশ লাইন, পুলিশ ক্যাম্প,ট্রাফিক বিভাগ সবখানেই কাউন্সেলিং চলছে। দিনের শুরুতে পুলিশ সদস্যদের হাজিরা নেওয়ার সময় সবাইকে একসঙ্গে করে সিনিয়র অফিসাররা এই কাউন্সেলিং করে থাকেন। বিশেষ করে যানবাহন তল্লাশি বা চেক করার নামে সাধারণ মানুষকে যাতে হয়রানি করা না হয় সেই ট্রেনিং তাদের দেওয়া হয়।

কাউন্সেলিংয়ে পুলিশ সদস্যদের কী বলা হয় বা হয়ে থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো তল্লাশি চালাতে হলে কী নিয়ম মানতে হবে, কী ধরনের আচরণ করতে হবে সেটা বলে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে যেনো সম্মান দেওয়া হয়, তাদের প্রতি যেনো ভদ্র আচরণ করা হয়, সেগুলো তাদের বলা হচ্ছে। সম্প্রতি কিছু ঘটনায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরূপ ধারণা হওয়ার আশঙ্কায় এই কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে এবং এটি নেওয়া হয়। মানবাধিকারের বিষয়টিও থাকছে কাউন্সেলিংয়ে।’

জানতে চাইলে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের মানসিক চিকিৎসক ফারহানা আক্তার বলেন, ট্রাফিক পুলিশকে কেবল মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দিলে হবে না। রাষ্ট্র যদি জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা না করে সেখানে কেবল কাউন্সেলিং দিয়ে হবে না। ট্রাফিক পুলিশ বা অন্যান্য দায়িত্বে থাকা পুলিশের পেশাগত কাজের মানোন্নয়নে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ,পুলিশ হচ্ছে রাষ্ট্রের একটি দায়িত্বশীল অঙ্গ।

জানতে চাইলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী ফেরদাউস সুলতানা বলেন, পুলিশকে মানবিক এবং দায়িত্বশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে চালক বা সাধারণ মানুষ যাতে তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট না হয় সেদিকে নজর রেখে কৌশলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনএইচবি/এমএমএ/

কুমিল্লাকে হারিয়ে প্লে-অফে বরিশাল, খুলনার বিদায়

ছবি: সংগৃহীত

তামিমের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে কুমিল্লাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল বরিশাল। এদিকে, আজকের ম্যাচের ফলাফলের সাথে ঝুলে থাকা খুলনা টাইগার্স টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে। এদিন দারুণ বোলিংয়ে কুমিল্লাকে নাগালে রেখে কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন তাইজুল-সাইফউদ্দিনরা।

সেখান থেকে দারুণ একটি ইনিংস খেলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে না পারলেও দলকে জয়ের কাছে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। কুমিল্লার ১৪০ রানের জবাবে ১৯.৪ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বরিশাল।

শুক্রবার মিরপুরে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় খুলনা টাইগার্স ও ফরচুন বরিশাল। এদিন টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বরিশাল অধিনায়ক তামিম। সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তার প্রমাণ দেন তার দলের বোলাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৪০ রানে প্রতিপক্ষকে বেঁধে ফেলেন তারা। এই রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪টি উইকেট হারায় বরিশাল।

এদিন রান তাড়ায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ৩ ছক্কা ও ছয় চারের মারে সাজানো ইনিংসে ৪৮ বলে ৬৬ রান করেন টাইগার এই ওপেনার। জিতলেই নিশ্চিত হবে প্লে-অফ, হারলেও টিকে থাকবে আশা-এমন সমীকরণের ম্যাচে তামিমের ব্যাটে ভর করে কুমিল্লাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে ফরচুন বরিশাল।

তামিম ছাড়া তার দলের বাকি কোনো ব্যাটারই বেশি ভালো করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন কাইল মায়ার্স। তার সংগ্রহ ২৫ বলে ২৫ রান। তাছাড়া, আহমেদ শেহজাদ ৭ বলে ১, মুশফিকুর রহিম ২৪ বলে ১৭ রান করে আউট হন। আর মাঠে থেকে জয় নিশ্চিত করেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাদের সংগ্রহ যথাক্রমে ৩ বলে ৬ ও ১১ বলে ১২ রান।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে জাকের আলির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে মান বাঁচায় দলটি। অবশেষে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে তোলে ১৪০ রান।

এদিন মিরপুর যেন তার স্বভাবজাত ব্যবহারটাই করছিল। ব্যাটে-বলে হচ্ছিলো না ঠিকমতো। মইন আলি- আন্দ্রে রাসেলরাও পারেননি রানরেট ঊর্ধ্বমুখী করতে। শেষ দিকে জাকের আলির ১৬ বলে ৩৮* রান বলার মতো সংগ্রহ এনে দেয় কুমিল্লাকে।

ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে সুনিল নারিন হাত খোলার আগেই ফেরেন ১৮ বলে ১৬ করে। লিটন দাসও পারেননি থিতু হতে, ১২ রান আসে তার ব্যাটে। চারে নেমে মাইদুলও ফেরেন দ্রুত (১)। ৮.১ ওভারে ৪০ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তাওহীদ হৃদয়। তবে ২৬ বলে ২৫ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।

মইন আলিও চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ২৩ রানেই থামতে হয় তাকে। আন্দ্রে রাসেলও ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাইজুল বাঁধা পেরোতে পারেননি তিনিও। লিটন, মাইদুলের পর রাসেলকেও ফেরান এই স্পিনার। রাসেল করেন ১১ বলে ১৪ রান। ২ বল পরই ম্যাথু ফোর্ডও ফেরেন, ৯৭ রানে ৭ উইকেট হারায় কুমিল্লা।

তবে শেষ দিকে জাকের আলি ২ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় ৩৮ রান করেন। ওবেদ ম্যাকয় ও সাইফুদ্দিন নেন জোড়া উইকেট, তিন উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম।

 

বাজারের উত্তাপে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি, মানুষ দিশাহারা

ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার শবেবারাত তাই অনেকেই কাঁচা বাজার মুখি হয়েছেন। ছুটি দিন হওয়ার ভিড়ও বেশি। তবে প্রয়োজিনীয় পণ্যের দামের কথা শুনে অনেকের মুখ শুকিয়ে যায়।

অন্যদিকে, পবিত্র শবে বরাতকে সামনে রেখে বেড়েই চলেছে গরুর মাংসের দাম। বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও চড়া দামে গিয়ে আটকে গেছে।

আসন্ন পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী ১২ অথবা ১৩ মার্চ। সেই হিসাবে এখনো রোজার বাকি ১৮/১৯ দিন। কিন্তু এর আগেই বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মুরগির দাম। ক্রেতারা বলছেন, রোজা না আসতেই মুরগির দামের এই অবস্থা। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়তে থাকলে আমরা চলব কী করে?

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদপুর স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের মুরগির মাংসের দামই ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

দামের এই ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, মুরগির দাম বেশ কয়েকদিন ধরেই বেড়েছে। কেনা দাম বেশি পড়ায় বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

শীতের ভরা মৌসুমে চড়া থাকা সবজির দাম বসন্তে এসে সামান্য কমেছে। তবে বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এখনও দাম বেশি।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সিম, মুলা, শালগম, ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার মধ্যে। যা গত সপ্তাহের চেয়ে প্রকারভেদে ১০-২০ টাকা কম। এরমধ্যে প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আলুর কেজি ৩০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, পেঁপের ৪০ টাকা, টমেটো গাজার ও শসার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙা ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, বরবটি ও করলা ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, রোজার বাজারে প্রায় প্রতিবছরই দাম বাড়ে চিনির। এবার দাম কমাতে পণ্যটি আমদানিতে কিছুটা শুল্কছাড় দিয়েছে সরকার। এছাড়া ভোজ্যতেল চাল ও খেজুরের শুল্ক কর কমানো হয়েছে। তবে এসব পণ্যের দামে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

রাজধানীতে এখন এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে দর ছিল ১১০-১২০ টাকা।

এছাড়া বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, পেঁয়াজ, মাছ, মাংস ও ডিমের দাম এখনও চড়া।

এদিকে, বাজারে কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। ভোটের আগে প্রতি কেজির গরুর মাংস ৬০০ টাকা পর্যন্ত নামলেও ভোটের পরে তা ৭০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে আরও দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়।

গরুর মাংসের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মুর্তজা বলেন, রোজা ও কোরবানিকে সামনে রেখে খামারিরা গরু বিক্রি কমিয়েছে। সে জন্য বাজারে সরবরাহ কম, দাম বাড়ছে।

শতক পেরিয়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম এখনও কমেনি। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। একই সঙ্গে চড়া দামে আদা ও রসুন দুই-ই বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে।

সুসময় আসলে সকল হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি: সাবেক মেয়র মিনু

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী মহানগরের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এসব কোনো ঘটনার বিচার হয়নি। সুসময় আসলে সকল হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নওগাঁয় গুপ্ত হামলায় নিহত বিএনপির নেতা কামাল আহমেদ ও কারাবন্দী বিএনপি নেতা মতিবুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা।

নওগাঁ পৌরসভার রজাকপুর এলাকায় নিহত কামাল আহমেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, নওগাঁ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, সদস্য সচিব বায়জিদ হোসেন পলাশ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, শেখ রেজাউল ইসলাম,মামুনুর রশিদ রিপন, জেলা যুবদলের আহবায়ক মাসুদ হায়দার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম রওশন উল ইসলাম, সদস্য সচিব রুহুল আমিন, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া আলম রোমিও, সাধারণ সম্পাদক মামুন বিন ইসলাম দোহা প্রমুখ।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

মিজানুর রহমান বলেন, কামাল আহমেদকে হত্যার ঘটনার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি এই ঘটনার রহস্য পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেনি। অথচ নিহতের স্বজনেরা ও এলাকাবাসী সবাই জানে কামালকে নিহতের ঘটনায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়িত। ঘাতকদের সবাই চেনে। বিএনপির সুসময় আসলে এই হত্যার বিচার করা হবে। সকল অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এ সময় নিহত বিএনপি নেতা কামাল আহমেদের স্ত্রী ও সন্তানদের সান্ত্বনা দেন মিজানুর রহমান৷ শিঘ্রই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহত বিএনপি নেতাদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাত সোয়া ৯টার দিকে নওগাঁ-সান্তাহার সড়কের ইয়াদ আলীর মোড় এলাকায় কামাল আহমেদকে বহনকারী অটোরিকশার গতি রোধে হামলা করে হেলমেট ও মাস্ক পরা দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক কামাল আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন নওগাঁ সদর থানায় নিহত কামাল আহমেদের ছেলে নবাব আলী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত কামাল আহমেদ নওগাঁ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি। এছাড়া তিনি নওগাঁ জেলা ট্রাক বন্দোবস্তকারী কমিটির সাবেক সভাপতি।

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা মতিবুল ইসলাম নওগাঁ কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। মতিবুল নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

কুমিল্লাকে হারিয়ে প্লে-অফে বরিশাল, খুলনার বিদায়
বাজারের উত্তাপে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি, মানুষ দিশাহারা
সুসময় আসলে সকল হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি: সাবেক মেয়র মিনু
অবৈধ মজুতকরে যারা ক্রাইসিস তৈরি করে তারা দেশের শত্রু: খাদ্যমন্ত্রী
মহাসড়কের পাশে ১ দিনে সাড়ে ৩ হাজার স্থাপনা উচ্ছেদ
কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি : ঢাবি উপাচার্য
সৈয়দপুরের চেয়েও বড় রেল কারখানা হবে রাজবাড়ীতে: রেলমন্ত্রী
মাহির ছবি প্রকাশ করে যা বললেন তার স্বামী
বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: রাষ্ট্রপতি
গাজায় ক্ষুধা-অপুষ্টির নিষ্ঠুরতায় ভুগছে হাজার হাজার মানুষ: জাতিসংঘ
টাঙ্গাইলে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে বিনামূল্যে বই বিতরণ
পাকিস্তানে নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে পিটিআই
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেন ইলন মাস্ক
ভোটার টানতে কন্ডমের প্যাকেটে দলীয় প্রতীক ছাপিয়ে বাড়ি বাড়ি বিলি
ভালোবাসার মাসে মা হলেন মিথিলা, বাবা সৃজিত
মাকে শেষ বিদায় দিতে এসে সড়কেই প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসীর
আগামীতে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী
'সহায়তা অব্যাহত রাখবে বিশ্বব্যাংক'
ডিবিতে ৫০ মিনিট কি করলেন নিপুন
পুলিশ পদক পেলেন ৪০০ জন কর্মকর্তা