শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১০ ফাল্গুন ১৪৩০
বেটা ভার্সন
Dhaka Prokash

খালেদা ও তারেককে হারানোর ভয়ে কাউন্সিল করছে না বিএনপি!

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পরপর বিএনপির কাউন্সিল ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু ৬ বছর পার হয়ে গেলেও দলটির কাউন্সিল হয়নি। কবে হবে সেটাও কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলছেন না।

কাউন্সিলের এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণ হিসেবে দলের বিভিন্ন সূত্র বলছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিল করলে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে হারাতে হবে। এই ভয়ে বিএনপি ৬ বছরেও কাউন্সিল করতে পারেনি। অবশ্য এ বিষয়ে দলের নেতারা মুখে তালা দিয়েছেন। কোনো কথা বলছেন না।

অন্যদিকে দীর্ঘ ৬ বছরেও কাউন্সিল না হওয়ায় দল পরিচালনায় তৃণমূলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক গড়তে পারছে না দলটির হাইকমান্ড।

তবে কাউন্সিল না করতে পারার বিষয়ে বিএনপি নেতারা দায়ী করছেন সরকারের দমন-পীড়নকে।

বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্রের ১১(চ) ধারা অনুযায়ী, প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় কমিটির সভা চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে ডাকা যেতে পারে। যে বছর জাতীয় কাউন্সিল হবে, সে বছর ছাড়া প্রতিবছর অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। গঠনতন্ত্রে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও দলটি নির্বাহী কমিটির সভা করছে না। এতে দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক তৎপরতা ও দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দলের কার্যক্রমে সমন্বয় নেই।

বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান আর নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য নিয়ে প্রায় ৫৯৪ সদস্যের বিশাল কমিটি করে বিএনপি।

জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যান ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। তার পাঁচ দিন আগে ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় খালেদা জিয়া দলের নেতাদের দিক-নির্দেশনা দিয়ে যান, যাতে তার অবর্তমানে দলের মধ্যে কোন্দল বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে ২১ আগস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে বসে দল পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তার নির্দেশে দলে পদায়ন, নতুন কমিটি গঠন, কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও দলটির পরবর্তী কাউন্সিলের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও দল ও ব্যক্তি স্বার্থে গঠনতন্ত্রে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করেছে বিএনপি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির রাজনীতি ও আগামী দিনের আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে সমালোচনা থাকলেও একমাত্র কাউন্সিল ইস্যুতে সবার মুখে কুলুপ। সবার মুখে একই সুর, প্রতিকূল পরিবেশের কারণেই দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করা যাচ্ছে না।

তবে বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া, সংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারা, কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে করার ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা পাওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘দলের কাউন্সিল হচ্ছে না, এর মানে এই নয় যে কাউন্সিল আর হবে না। কাউন্সিল হচ্ছে না দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে। হয়তো এমনও হতে পারে এই সরকারের পতনের মধ্যে দিয়ে নতুন একটা পরিস্থিতি তৈরি হলে, অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আমরা ধুমধাম করে কাউন্সিল করব। সেই কাউন্সিল এই বছরের শেষ দিকে নতুবা আগামী বছরের মাঝামাঝি হতে পারে।’

অবশ্য বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চেয়ারপারসনকে ছাড়া কাউন্সিল মানে অভিভাবককে মাইনাস করা। সেটি সিনিয়র নেতারা করতে চাচ্ছেন না। নেতাদের বিশ্বাস, যেকোনো সময় খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন এবং তার উপস্থিতিতেই সম্মেলন হবে। দ্বিতীয়ত, যদি খালেদা জিয়া সম্মতি দেন, সে ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করবেন। কিন্তু তিনি দেশে নেই। স্কাইপে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে হয়তো থাকতে পারবেন। কিন্তু তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে আদালতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে।

তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, দলে দ্রুত শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা উচিত। নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের নির্বাহী কমিটিতে জায়গা দেওয়া উচিত। নইলে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন হোঁচট খাবে। দলও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিংহভাগ নেতায় নিষ্ক্রিয়। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকরা কোনো কাজই করছেন না। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতে হাজিরা দিয়েই অনেকে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। আর বেশিরভাগ নেতায় পদ-পদবি বাগিয়ে চুপচাপ। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলে এসব নেতার কার্যক্রম সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেত। কিন্তু এখন দল পরিচালনা হচ্ছে শুধু গুটিকয়েক নেতার শ্রম, মেধা আর আন্তরিকতার উপর ভর করে। এভাবে বেশিদূর যাওয়া যায় না। তাই বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের দাবি ক্রমশই প্রবল হচ্ছে। দলীয় ফোরামের ভেতরে ও বাইরে এ বিষয়ে কথা বলছেন অনেকে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘কাউন্সিল করার পরিবেশ দেশের রাজনীতিতে নেই। কাউন্সিলের জন্য পরিবেশ নেই বলতে রাজনীতিতে এখন প্রতিকূল পরিবেশ অনুপস্থিত। যেখানে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারবিরোধী মিটিং মিছিল সভায় নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে দলীয় কাউন্সিল করার পরিবেশ থাকছে না। সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমন পীড়ন ও নির্যাতনে সেখানে জাতীয় কাউন্সিলের মতো একটি বড় আয়োজন কীভাবে সম্ভব হবে? বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল হবে উৎসবমুখর পরিবেশে।

এদিকে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের লিখিত পরামর্শক্রমে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করতে পারবেন। কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে নির্বাহী কমিটি কোরাম পূর্ণ হবে। ছয় মাস বা বছরে অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একইভাবে কাউন্সিল করতে চাইলে ৫ দিনের নোটিশে নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা ডাকা যাবে। জরুরি কারণে যদি কোনো সংশোধনী প্রয়োজন হয়ে পড়ে, দলের চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্রে সে সংশোধন করতে পারবেন। তবে জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় ‘ক’তে বর্ণিত সংখ্যাগরিষ্ঠতায় উক্ত সংশোধনী গৃহীত হতে হবে।

সূত্রে জানা যায়, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭নং ধারায় ‘কমিটির সদস্য পদের অযোগ্যতা’ শিরোনামে বলা ছিল, ‘নিন্মোক্ত ব্যক্তিরা জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’
এগুলো হচ্ছে- (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮-এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি এবং (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি। অবশ্য এই ৭ ধারা গোপনে পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই বিএনপিকে ভাঙতে সরকারের একটি মহল থেকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যেমনটা হয়েছিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর। মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ব্যক্তি দলের সদস্য পদের অযোগ্য হবেন বলে যে কথাটি গঠনতন্ত্রে আছে, তা সামনে এনে ওই মহল বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য দলের একটা অংশকে ব্যবহার করতে পারে। এ আশঙ্কার কারণে গঠনতন্ত্রের ৭ ধারাটি তুলে দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব পাস হয়। আগে গঠনতন্ত্রে ৭ (ঘ) ধারাটি ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু কাউন্সিলের ২২ মাস পর এই ধারা বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনে গঠনতন্ত্র জমা দেয় দলটি।

প্রসঙ্গত, বিএনপির সর্বপ্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়, ১৯৮৯ সালের মার্চে তৃতীয়, ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে চতুর্থ, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম এবং ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

এনএইচবি/এসজি

কুমিল্লাকে হারিয়ে প্লে-অফে বরিশাল, খুলনার বিদায়

ছবি: সংগৃহীত

তামিমের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে কুমিল্লাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল বরিশাল। এদিকে, আজকের ম্যাচের ফলাফলের সাথে ঝুলে থাকা খুলনা টাইগার্স টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে। এদিন দারুণ বোলিংয়ে কুমিল্লাকে নাগালে রেখে কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন তাইজুল-সাইফউদ্দিনরা।

সেখান থেকে দারুণ একটি ইনিংস খেলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে না পারলেও দলকে জয়ের কাছে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। কুমিল্লার ১৪০ রানের জবাবে ১৯.৪ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বরিশাল।

শুক্রবার মিরপুরে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় খুলনা টাইগার্স ও ফরচুন বরিশাল। এদিন টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বরিশাল অধিনায়ক তামিম। সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তার প্রমাণ দেন তার দলের বোলাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৪০ রানে প্রতিপক্ষকে বেঁধে ফেলেন তারা। এই রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪টি উইকেট হারায় বরিশাল।

এদিন রান তাড়ায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ৩ ছক্কা ও ছয় চারের মারে সাজানো ইনিংসে ৪৮ বলে ৬৬ রান করেন টাইগার এই ওপেনার। জিতলেই নিশ্চিত হবে প্লে-অফ, হারলেও টিকে থাকবে আশা-এমন সমীকরণের ম্যাচে তামিমের ব্যাটে ভর করে কুমিল্লাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে ফরচুন বরিশাল।

তামিম ছাড়া তার দলের বাকি কোনো ব্যাটারই বেশি ভালো করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন কাইল মায়ার্স। তার সংগ্রহ ২৫ বলে ২৫ রান। তাছাড়া, আহমেদ শেহজাদ ৭ বলে ১, মুশফিকুর রহিম ২৪ বলে ১৭ রান করে আউট হন। আর মাঠে থেকে জয় নিশ্চিত করেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাদের সংগ্রহ যথাক্রমে ৩ বলে ৬ ও ১১ বলে ১২ রান।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে জাকের আলির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে মান বাঁচায় দলটি। অবশেষে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে তোলে ১৪০ রান।

এদিন মিরপুর যেন তার স্বভাবজাত ব্যবহারটাই করছিল। ব্যাটে-বলে হচ্ছিলো না ঠিকমতো। মইন আলি- আন্দ্রে রাসেলরাও পারেননি রানরেট ঊর্ধ্বমুখী করতে। শেষ দিকে জাকের আলির ১৬ বলে ৩৮* রান বলার মতো সংগ্রহ এনে দেয় কুমিল্লাকে।

ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে সুনিল নারিন হাত খোলার আগেই ফেরেন ১৮ বলে ১৬ করে। লিটন দাসও পারেননি থিতু হতে, ১২ রান আসে তার ব্যাটে। চারে নেমে মাইদুলও ফেরেন দ্রুত (১)। ৮.১ ওভারে ৪০ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তাওহীদ হৃদয়। তবে ২৬ বলে ২৫ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।

মইন আলিও চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ২৩ রানেই থামতে হয় তাকে। আন্দ্রে রাসেলও ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাইজুল বাঁধা পেরোতে পারেননি তিনিও। লিটন, মাইদুলের পর রাসেলকেও ফেরান এই স্পিনার। রাসেল করেন ১১ বলে ১৪ রান। ২ বল পরই ম্যাথু ফোর্ডও ফেরেন, ৯৭ রানে ৭ উইকেট হারায় কুমিল্লা।

তবে শেষ দিকে জাকের আলি ২ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় ৩৮ রান করেন। ওবেদ ম্যাকয় ও সাইফুদ্দিন নেন জোড়া উইকেট, তিন উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম।

 

বাজারের উত্তাপে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি, মানুষ দিশাহারা

ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার শবেবারাত তাই অনেকেই কাঁচা বাজার মুখি হয়েছেন। ছুটি দিন হওয়ার ভিড়ও বেশি। তবে প্রয়োজিনীয় পণ্যের দামের কথা শুনে অনেকের মুখ শুকিয়ে যায়।

অন্যদিকে, পবিত্র শবে বরাতকে সামনে রেখে বেড়েই চলেছে গরুর মাংসের দাম। বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও চড়া দামে গিয়ে আটকে গেছে।

আসন্ন পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী ১২ অথবা ১৩ মার্চ। সেই হিসাবে এখনো রোজার বাকি ১৮/১৯ দিন। কিন্তু এর আগেই বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মুরগির দাম। ক্রেতারা বলছেন, রোজা না আসতেই মুরগির দামের এই অবস্থা। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়তে থাকলে আমরা চলব কী করে?

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদপুর স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের মুরগির মাংসের দামই ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

দামের এই ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, মুরগির দাম বেশ কয়েকদিন ধরেই বেড়েছে। কেনা দাম বেশি পড়ায় বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

শীতের ভরা মৌসুমে চড়া থাকা সবজির দাম বসন্তে এসে সামান্য কমেছে। তবে বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এখনও দাম বেশি।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সিম, মুলা, শালগম, ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার মধ্যে। যা গত সপ্তাহের চেয়ে প্রকারভেদে ১০-২০ টাকা কম। এরমধ্যে প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আলুর কেজি ৩০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, পেঁপের ৪০ টাকা, টমেটো গাজার ও শসার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙা ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, বরবটি ও করলা ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, রোজার বাজারে প্রায় প্রতিবছরই দাম বাড়ে চিনির। এবার দাম কমাতে পণ্যটি আমদানিতে কিছুটা শুল্কছাড় দিয়েছে সরকার। এছাড়া ভোজ্যতেল চাল ও খেজুরের শুল্ক কর কমানো হয়েছে। তবে এসব পণ্যের দামে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

রাজধানীতে এখন এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে দর ছিল ১১০-১২০ টাকা।

এছাড়া বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, পেঁয়াজ, মাছ, মাংস ও ডিমের দাম এখনও চড়া।

এদিকে, বাজারে কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। ভোটের আগে প্রতি কেজির গরুর মাংস ৬০০ টাকা পর্যন্ত নামলেও ভোটের পরে তা ৭০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে আরও দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়।

গরুর মাংসের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মুর্তজা বলেন, রোজা ও কোরবানিকে সামনে রেখে খামারিরা গরু বিক্রি কমিয়েছে। সে জন্য বাজারে সরবরাহ কম, দাম বাড়ছে।

শতক পেরিয়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম এখনও কমেনি। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। একই সঙ্গে চড়া দামে আদা ও রসুন দুই-ই বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে।

সুসময় আসলে সকল হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি: সাবেক মেয়র মিনু

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী মহানগরের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এসব কোনো ঘটনার বিচার হয়নি। সুসময় আসলে সকল হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নওগাঁয় গুপ্ত হামলায় নিহত বিএনপির নেতা কামাল আহমেদ ও কারাবন্দী বিএনপি নেতা মতিবুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা।

নওগাঁ পৌরসভার রজাকপুর এলাকায় নিহত কামাল আহমেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, নওগাঁ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, সদস্য সচিব বায়জিদ হোসেন পলাশ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, শেখ রেজাউল ইসলাম,মামুনুর রশিদ রিপন, জেলা যুবদলের আহবায়ক মাসুদ হায়দার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম রওশন উল ইসলাম, সদস্য সচিব রুহুল আমিন, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া আলম রোমিও, সাধারণ সম্পাদক মামুন বিন ইসলাম দোহা প্রমুখ।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

মিজানুর রহমান বলেন, কামাল আহমেদকে হত্যার ঘটনার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি এই ঘটনার রহস্য পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেনি। অথচ নিহতের স্বজনেরা ও এলাকাবাসী সবাই জানে কামালকে নিহতের ঘটনায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়িত। ঘাতকদের সবাই চেনে। বিএনপির সুসময় আসলে এই হত্যার বিচার করা হবে। সকল অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এ সময় নিহত বিএনপি নেতা কামাল আহমেদের স্ত্রী ও সন্তানদের সান্ত্বনা দেন মিজানুর রহমান৷ শিঘ্রই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহত বিএনপি নেতাদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাত সোয়া ৯টার দিকে নওগাঁ-সান্তাহার সড়কের ইয়াদ আলীর মোড় এলাকায় কামাল আহমেদকে বহনকারী অটোরিকশার গতি রোধে হামলা করে হেলমেট ও মাস্ক পরা দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক কামাল আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন নওগাঁ সদর থানায় নিহত কামাল আহমেদের ছেলে নবাব আলী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত কামাল আহমেদ নওগাঁ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি। এছাড়া তিনি নওগাঁ জেলা ট্রাক বন্দোবস্তকারী কমিটির সাবেক সভাপতি।

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা মতিবুল ইসলাম নওগাঁ কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। মতিবুল নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

কুমিল্লাকে হারিয়ে প্লে-অফে বরিশাল, খুলনার বিদায়
বাজারের উত্তাপে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি, মানুষ দিশাহারা
সুসময় আসলে সকল হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি: সাবেক মেয়র মিনু
অবৈধ মজুতকরে যারা ক্রাইসিস তৈরি করে তারা দেশের শত্রু: খাদ্যমন্ত্রী
মহাসড়কের পাশে ১ দিনে সাড়ে ৩ হাজার স্থাপনা উচ্ছেদ
কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি : ঢাবি উপাচার্য
সৈয়দপুরের চেয়েও বড় রেল কারখানা হবে রাজবাড়ীতে: রেলমন্ত্রী
মাহির ছবি প্রকাশ করে যা বললেন তার স্বামী
বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: রাষ্ট্রপতি
গাজায় ক্ষুধা-অপুষ্টির নিষ্ঠুরতায় ভুগছে হাজার হাজার মানুষ: জাতিসংঘ
টাঙ্গাইলে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে বিনামূল্যে বই বিতরণ
পাকিস্তানে নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে পিটিআই
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেন ইলন মাস্ক
ভোটার টানতে কন্ডমের প্যাকেটে দলীয় প্রতীক ছাপিয়ে বাড়ি বাড়ি বিলি
ভালোবাসার মাসে মা হলেন মিথিলা, বাবা সৃজিত
মাকে শেষ বিদায় দিতে এসে সড়কেই প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসীর
আগামীতে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী
'সহায়তা অব্যাহত রাখবে বিশ্বব্যাংক'
ডিবিতে ৫০ মিনিট কি করলেন নিপুন
পুলিশ পদক পেলেন ৪০০ জন কর্মকর্তা