বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Dhaka Prokash

আড়ত থেকে খুচরা বাজার: ডিমের দাম ডজনে বাড়ে ২২ টাকা!

আড়তে লাল ১০০ ডিমের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক ডজন (১২টি) ১২৮ টাকা করে। কিন্তু সেই ডিম আড়ত থেকে নেওয়ার পর পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। প্রতি ডজনের দাম পড়ছে ১৩২ টাকা। খুচরা ডিম ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন প্রতি ডজন ১৪০-১৫০ টাকা পর্যন্ত।

অর্থাৎ আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে ডিমের দাম ডজনে বাড়ে ১২ টাকা থেকে ২২ টাকা। যা একেবারেই অস্বাভাবিক। এতে ক্রেতাদের পকেট কাটছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। কোনো কারণ ছাড়াই গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজার।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে কাজী ফার্মস, প্যারাগন পোল্ট্রিসহ কয়েকটি কোম্পানি বেশি করে দাম বেঁধে দিচ্ছে। সে দামেই সারা দেশে ডিম বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনোভাবে দায় নিচ্ছে না আড়তদাররা। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেশি দামে ডিম বিক্রির অভিযোগে এর আগেও মামলা হয়েছিল।

ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে খামারিদের বাঁচাতে হলে এই দামই রাখতে হবে। এই দামই স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে হবে। এর চেয়ে ডিমের দাম কমলে আরও খামার বন্ধ হয়ে যাবে। তখন ডিমের দাম আরও বাড়বে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, টাউনহলসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সরেজমিনে ঘুরে ঘুরে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।

দেশের যেখানেই ডিমের উৎপাদন হোক না কেন তা রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ডিমের আড়তে আসে। এখান থেকে ডিম হাত বদল হতে হতে যায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে, পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে। এজন্য দামও বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত কয়েকদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে ডিমের দাম। যা খুচরা পর্যায়ে বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ডজনপ্রতি ১৫০ টাকা গিয়ে ঠেকেছে। এর কমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না ডিম।

বৃহস্পতিবার তেজগাঁও রেলস্টেশনের ডিমের আড়তে ডিম কত করে বিক্রি হচ্ছে সেই খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, সারা দেশ থেকেই এখানে দিনে ২০ থেকে ২৫ লাখ ডিম আসে। সেখানে পাইকারি পর্যায়ে একেক জনের কাছ থেকে একেক রকম তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিমের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে নাসির অ্যান্ড ব্রাদার্স এর মালিক মো. নাসির উদ্দিন ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, কই দাম বেড়েছে। ১০০ ডিম ১ হাজার ৭০ টাকায় বিক্রি করছি। হালি ৪২ টাকা বা ডজন ১২৮ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। এর উপর কখনো উঠেনি। এক লাখ থেকে কমে ৬০ থেকে ৭০ হাজারে নেমে গেছে। ব্যবসা একেবারে নাই। দেখেন না ঘর ভরা দিম। বিক্রি হয়নি।

তিনি বলেন, দাম বাড়লে ব্যবসা একেবারে কমে যায়। হাজারে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভ করলেই যথেষ্ট। সবকিছুর দাম বেশি। তাই ফার্ম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১ হাজার ৫০ টাকায় টাঙ্গাইল থেকেই কেনা। এর সঙ্গে কিছু খরচ আছে। একেবারে অস্থির নয়। কারণ এর চেয়ে কম হলে সব খামার বন্ধ হয়ে যাবে। খামারে তাদের উৎপাদন খরচই সাড়ে ১০ টাকা থেকে ১১ টাকা। তাহলে এর চেয়ে দাম কমবে কী করে। এ বাজারেই রেট নির্ধারণ হয়। আজকেও কাজী, প্যারাগন ১ হাজার ৭০ টাকা রেট দিয়ে গেছে। তারাই বাজারে দাম দেয়। সেভাবে আমরা বিক্রি করি, ৫ পয়সা লাভে।

নীলিমা এন্টারপ্রাইজের জোবায়েরও বলেন, ডিমের দাম ১ হাজার ৭০ টাকা বা পিস ১০ টাকা ৭০ পয়সা। কয়েকদিন থেকেই এ দামে বিক্রি করছি। আমরা ফার্ম থেকে ডিম এনে বাজার দরে বিক্রি করি। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে ২০ পয়সা কমিশন পাই। কাজী, প্যারাগনসহ বিভিন্ন কোম্পানি দর দেয়। রাত ১২টা থেকে সকাল পর্যন্ত ডিম বিক্রি করা হয়। হাজারে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভে আমরা ডিম বিক্রি করি। দাম বাড়লেও আমাদের লোকসান। কারণ এতে পুঁজি বেশি লাগে। বিভিন্ন খরচও আছে।

আল আমিন ট্রেডার্সের আল আমিন বলেন, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ সাইড থেকে মিডিয়ার মাধ্যমে ডিম আনা হয়। বর্তমানে দাম বাড়তি। টাঙ্গাইলে ফার্মে রেট দেওয়া হয়। সেখান থেকে এনে বিক্রি করে কমিশন রেখে তাদের দাম দেওয়া হয়। দিনে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার ডিম আনা হয়। আজকে ৯৫ হাজার ডিম আনা হবে। ১০০ ডিমের দাম ১ হাজার ৭০ টাকা। প্রতি পিস ১০ টাকা ৭০ টাকা। তাদের সাড়ে ১০ টাকায় দেওয়া হবে। আমরা ২০ পয়সা রাখব।

তিনি আরও বলেন, ১০ হাজার টাকার ডিম বিক্রি হলে সাড়ে ৭ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া, সঙ্গে স্টাফের খরচ, কিছু ডিমও ভাঙে। সব মিলে কিছু থাকে না।

তাহলে কি লোকসান করে ব্যবসা করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক টাকা বাকি পড়ে আছে। ব্যবসা একেবারে বন্ধ করে দিলে তো আর টাকা আসবে না। ব্যবসা মানে তো লাভ-লোকসান। কিছুদিন আগে ১০০ ডিম ১ হাজার ২০ টাকা, মাস খানেক আগে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছি। বড় বড় ফার্ম কাজী, প্যারাগন, ডায়মন্ড কোম্পানি তাদের লোকের মাধ্যমে রেট দিয়ে দেয়। ২০ থেকে ২৫ লাখ প্রতিদিন ডিম আসে। আগে ৪০ লাখও আসত। খামারিরা লোকসান সামলাতে পারছে না। অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা বিপদে আছি। কারণ আমাদের খামার বন্ধ হয়ে গেলে আর ডিম পাব না। সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ পয়সা লাভ থাকে। এর বেশি কেউ লাভ করতে পারবে না। চা দোকানের চেয়ে খারাপ।

মেসার্স মুন্সি ট্রেডিং এর শফিক এর কাছে ডিমের দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ডিম নেই। অথচ আড়ত ভরা ডিম বলা মাত্র তিনি বলেন, এগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। দাম কত জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ১০০ ডিমের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা। কম দামে কেনা হলে কম দামেই বিক্রি করা হয়।

পাশেই ডিমের পাইকারি বাজার। সেখানে গিয়ে শাহ আলী ট্রেডার্স এর মালিক আব্দুল হালিমের কাছে ডিমের দাম জানতে চাইলে তিনি ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ১০০ লাল ডিমের দাম ১ হাজার ১০০ টাকা। পাইকারি দাম এটা। কাঁচামাল। তাই প্রায় দিন দাম উঠানামা করে। পাঁচ দিন থেকে একই বাজার। আগে কম ছিল। বেশি দামে কেনা। পাশের অন্যান্য পাইকারি ডিম বিক্রেতারাও জানান, কয়েকদিন থেকে দাম বেশি। আগে কম ছিল।

ওই বাজারের একটু দূরেই খুচরা ডিম বিক্রেতা টিটো বলেন, খুচরা ডিমের ডজন ১৪০ টাকা। কয়েকদিন থেকেই এ দাম। বেশি না?-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এইতো ১০০ ডিম ১ হাজার ৮০ টাকায় কেনা। আগে কম ছিল।

এসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিরণ নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রচুর দাম। কেনা কমিয়ে দিয়েছি। আগে ২৭০ টাকা খাঁচি নিয়েছি। এখন ৩০০ টাকারও বেশি। শুধু বাড়তি আর বাড়তি।

পাশের আরেক খুচরা ডিম বিক্রেতা রহমত জানান, ৩৪০ টাকা খাঁচি। খুচরা বেশি, ৪৮ টাকা হালি। এত বেশি কেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কী করমু, দাম বেশি। ডিরেক্ট আসে মাল। খাবারসহ সব জিনিসের দাম বেশি। তাই আড়তে বাড়তি দাম। আমাদেরও বেশি দামে কেনা। কিছু লাভ করে বিক্রি করি।

বাড়তি ডিমের এই রেট শুধু এই বাজারেই নয়, মোহাম্মদপুরের টাউনহল, কৃষিমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারের একই চিত্র। আর পাড়া-মহল্লায়ও বাড়তি দাম বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুর ফিউচার টাউনহল হাউজিং এর আল আমিন এন্টারপ্রাইজের আনোয়ার বলেন, ১৫০ টাকা ডজন, তবে একটু কমে ১৪৫ টাকা। এর কমে বিক্রি করা যাবে না।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছিল ডিমের বাজার। ওই সময় বাধ্য হয়ে ভোক্তা অধিদপ্তর মাঠেও নামে। বেরিয়ে আসে ডিম কারসাজির বিষয়টি। কাজী ফার্মস ডিলার দাম বাড়িয়ে লুফে নেয় বাড়তি মুনাফা। প্যারাগনও সে সুযোগ নেওয়ায় বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন কাজী ফার্মস, প্যারাগনসহ কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাও করেছে। কিন্তু সেসব মামলার এখানো সুরাহা হয়নি। তারপরও বাজার অস্থির করছে সেই কাজী, প্যারাগনসহ কয়েকটি কোম্পানি। এর ফলে কয়েক দিন থেকেই পাইকারি, খুচরা ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছেন, বাজারে নৈরাজ্য তৈরি করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন।

পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান জানিয়েছেন, সংকটের সময় বাজারে সুযোগ নেওয়ার এমন চেষ্টা অনেকেই করেন। কারণ দেশে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার কোটি ডিম বিক্রি হয়। উৎপাদন হয় প্রায় পাঁচ কোটি।

এনএইচবি/এসজি

Header Ad

পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁয় এক প্রসূতির সিজারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই বার আইসিইউতে নিবির পর্যক্ষেনে থাকার পর মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সেই প্রসূতি নারী সুমি খাতুন (৩৫)। মৃত্যূর খবর জানার পর সুমির পরিবারে ও গ্রামে বইছে শোকের মাতম। এমন মৃত্যূ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা গৃহবধূ সুমির পরিবার।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের বিচার দাবি করেছেন পরিবার ও প্রতিবেশি স্বজনরা।

এ বিষয়ে গত ২০ মে ‘পেটে গজ রেখেই সেলাই, আইসিইউতে’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনও প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। এর মাঝেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুমি।

সুমির পরিবার ও ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে সকালে প্রসবব্যথা শুরু হলে নওগাঁ শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় অবস্থিত একতা ক্লিনিকে নেয়া হয় ওই প্রসূতি নারীকে। সেখানে ওই দিনই সিজার করান প্রসূতি বিদ্যা ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার তানিয়া রহমান তনি। সিজারের জন্য জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করেন ডাক্তার তানিয়ার স্বামী নওগাঁ সদর হাসপাতালের অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডাক্তার আদনান ফারুক। সিজারের পরই ওই সুমি তার পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ডাক্তার তানিয়া ক্লিনিকের মার্কেটিং অফিসার আব্দুর রউফকে দিয়ে দ্রুত রোগীর পেটে সেলাই করিয়ে নেয়। তার পর রাত ১০টার দিকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয় সুমিকে। হাসপাতালে নেয়ার পর রাতেই পরিক্ষা করে জানা যায় সুমির পেটে বাড়তি কিছু একটা জিনিস রয়েছে। সেই সাথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় আর সেটার জন্য তাকে পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সম্মতিতে ফের অপারেশন করা হয়। এর ১৩দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে মারা যায় সুমি। সুমির এমন মৃত্যুতে শোকের মেছে এসেছে জেলার আত্রাই উপজেলার সন্নাসবাড়ী গ্রামে। সুমির এমন মৃত্যূ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা স্থানীয় প্রতিবেশিরারও।

স্থানীয় প্রতিবেশী ফারজানা খাতুন ও খালেদ বিন ফিরোজ বলেন, পেটে ব্যাথা উঠলো ভর্তি করা হলো সিজারের জন্য। আস্থা ও ভরসা নিয়েই তো ক্লিনিকে ডাক্তার কাছে যায় রোগী। কিন্তু একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেলো। সিজার করার কারনে কিভাবে প্রসূতি মারা যায়। অবশ্যই ভুল অপারেশন বা ভুল চিকিৎসা হয়েছে। নইলে কেন উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ থেকে রাজশাহীতে রেফার করা হলো। আর কত মানুষ অপ-চিকিৎসার কারনে মারা যাবে। মাঝে মাঝে আমরা শুনতে পাই নওগাঁয় ভুল চিকিৎসার কারনে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা। দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক এসব ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকদের।

সুমি খাতুনের খালা ফাহিমা বেগম বলেন, আমার ভাগিনীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনটি বাচ্চার এখন কি হবে। সদ্যজাত সন্তান তো পৃথিবীর আলো দেখার পরই মাকে হারিয়ে ফেললো। ভুল সিজারের কারনেই সুমির মৃত্যু হয়েছে। জড়িত সবার কঠিন শাস্তি চাই আমরা।

সুমির খাতুনের মা রহিমা বেগম বেগম বলেন, অভিযুক্তরা তাদের লোকজনের মাধ্যমে টাকার অফার দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাতে রাজি হইনি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ডাক্তাররা যখন প্রথমে সুমিকে দেখেছিল তখনই বলেছিল এই রোগীর অবস্থা খুব খারাপ নওগাঁতে প্রোপার ভাবে সিজারিয়ান করা হয়নি। তার পর যখন সেখানে অপারেশন করলো তখন ডাক্তাররা জানাই সুমির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে সামান্য গজ ছিল। যার কারনে শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলনা। দুই বার আইসিইউতে নেওয়ার পরও আমার মেয়েটাকে বাঁচানো গেলনা। আমার মেয়েটাকে নওগাঁর একতা ক্লিনিকে গরুকে সেলাই করার মত পায়ের হাঁটুর উপর উঠে সেলাই করেছিল। সব কিছুই তাদের ভুল চিকিৎসা ছিল। ওই ডাক্তার তানিয়াকে কাছে পেলে তার হাঁটুর উপর উঠে ওভাবেই সেলাই করে দিতাম। অভিযুক্ত ডাক্তার, ক্লিনিক মালিক ও এর সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করছি। আর যেন আমার সুমির মত কারো ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু না হয়।

অভিযুক্ত ডাক্তার তানিয়া রহমান তনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইনা। প্রয়োজনে ডাক্তারদের সংগঠন বা সিভিল সার্জন এর সাথে কথা বলতে পারেন। আমার যা বলার আমি কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছি। আর রাজশাহীতে সুমিকে নিয়ে যাওয়ার পর কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নয়।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশকে বলেন,‘তদন্ত কমিটি দুইটি গঠন করা হয়েছে ‘স্থানীয় তদন্ত কমিটি' ও রাজশাহী বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। স্থানীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) পরিচালকের তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই দুইটা মিলে ভূল কার নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।’

বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় আনসার সদস্য ও নৈশ প্রহরীর হাত-পা বেঁধে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ মে) দিবাগত রাতে শিবগঞ্জ বন্দরে সোনালি ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আনসার ও নৈশ প্রহরীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে তারা।

সোনালী ব্যাংক শিবগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক শাহাদত হোসেন সিরাজী জানান, সোমবার রাতে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ৮/১০ জনের মুখোশধারী সংঘবদ্ধ ডাকাতদল প্রথমে ব্যাংকের নৈশ প্রহরী আব্দুর রহমান এর হাত, পা, মুখ, বেঁধে পার্শ্ববর্তী বি, আর, ডি, সি অফিস চত্বরে বেঁধে রাখে। পরে ডাকাতদল সোনালী ব্যাংকের প্রধান ২ টি দরজার তালা ভেঙ্গে ২য় তলায় প্রবেশ করে। ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নয়ন হোসেন ও ফরহাদ হোসেন এর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ব্যাংকের স্টর রুমের হুইল ভেঙ্গে ভোল্ট রুমে প্রবেশ করতে গেলে ব্যর্থ হয়। পরে তাঁরা ২জন আনসার সদস্যর মোবাইল ও তাঁদের কাছে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান জানান, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের কোন টাকা ডাকাত দল নিয়ে যেতে পারেনি। এ ঘটনায় আজ শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে দুদকে তলব

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৬ জুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২৮ মে) এ তথ্য জানিয়েছে দুদক। এর আগে, বেনজীর আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। শিগগিরই তাকে তলবের নোটিশ পাঠানো হবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, এ বিষয়ে বেনজীর আহমেদের বক্তব্য শুনতে হবে। তার সম্পত্তির বৈধতাও থাকতে পারে। যদি তিনি বৈধতার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারে, তাহলে সম্পত্তি ফিরে পাবে। এ সময় কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে অ্যাকশন নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক আরও বলেন, বেনজির আহমেদের সম্পত্তির উৎস কোথায় তা তদন্ত করা হবে। যদি বৈধ উৎস হয়, তাহলে তিনি সম্পত্তি ফিরে পাবে, অন্যথায় রাষ্ট্র বিধি মোতাবেক তা বাজেয়াপ্ত করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ মে বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পত্তি ও ২৭টি ব্যাংকের ৩৩টি আকাউন্ট জব্দের (ক্রোক) নির্দেশ দেয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে ২৬ মে একই আদালত তিনি ও তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের আরও ১১৯টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দেরও নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নগদ অর্থের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেয় দুদক। এছাড়া, এফডিআর, সঞ্চয়পত্রসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য চেয়ে জয়েন্ট স্টক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরেও চিঠি দেয় সংস্থাটি।

এদিকে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে থাকা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও) স্থগিত করার নির্দেশও দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে, তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব এবং র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি
বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা
বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে দুদকে তলব
কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না : সাবেক সেনাপ্রধান ও বেনজির প্রসঙ্গে কাদের
এমপি আনারের ৪ কেজি মাংস উদ্ধার
খালের পাড়ে বসছে সিসি ক্যামেরা, ময়লা ফেললেই আইনি ব্যবস্থা
চুয়াডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম
বিরামপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধে স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে পটুয়াখালী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল স্পেন ও নরওয়ে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এর অজানা সব খবর
ঢাকা সফরে আসছেন আইএমও’র মহাসচিব
বেনজিরকে গ্রেফতারে আইনী কোন বাধা নেই: দুদক আইনজীবী
মানি লন্ডারিং: বেসিকের বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
আমি রেকর্ডের পেছনে ছুটি না, রেকর্ডই আমার পেছনে ছোটে: রোনালদো
তরুণরা তামাকের পেছনে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন
বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না: সৌদি
বিয়ের ১২ দিন পর জানলেন স্ত্রী একজন পুরুষ
ঘূর্ণিঝড়ে উদ্ধার কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ফায়ারফাইটারের মৃত্যু