রাজধানী

রিকশা ট্র্যাপার ব্যর্থ, ঢাকার প্রধান সড়কে আবারও দাপট দেখাচ্ছে রিকশা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০১ এএম

রিকশা ট্র্যাপার ব্যর্থ, ঢাকার প্রধান সড়কে আবারও দাপট দেখাচ্ছে রিকশা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার যেসব সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ, সেসব সড়কে রিকশার প্রবেশ ঠেকাতে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা- ‘রিকশা ট্র্যাপার’ বা ফাঁদ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর সহযোগিতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর ট্রাফিক বিভাগ এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং রিকশাচালকদের প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে এই ব্যবস্থাকেই। এখন রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশা।

২০২৪ সালের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে রমনার বেইলী রোড ও ব্যাটারি গলিতে প্রথম রিকশা ট্র্যাপার বসানো হয়। পরে ডিএসসিসির আওতাধীন যেসব সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ, সেখানে পর্যায়ক্রমে এসব ট্র্যাপার স্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল-ফিডার রোড দিয়ে যাতে কোনোভাবেই রিকশা মূল সড়কে উঠতে না পারে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই এসব ফাঁদের রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মাটি জমে ফাঁদ কার্যকারিতা হারায়, লোহার অংশে জং ধরে ভেঙে যেতে থাকে।

এ সুযোগে রিকশাচালকরা প্রকাশ্যেই ট্র্যাপার উপেক্ষা করে মূল সড়কে ঢুকে পড়তে শুরু করেন। কোথাও ট্র্যাপার পিটিয়ে সমান করে ফেলা হয়, কোথাও সিমেন্ট ঢেলে ঢেকে দেওয়া হয়, আবার কোথাও পুরো ফাঁদই তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে সড়কে বসানো অধিকাংশ রিকশা ট্র্যাপারের কোনো অস্তিত্বই নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ট্র্যাপার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে কোনো রিকশা পার হতে গেলে লোহার খাঁজে চাকা আটকে যেত, কোথাও আবার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। একদিকে এটি ফিডার রোড থেকে রিকশার মূল সড়কে ওঠা ঠেকাত, অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত উপস্থিতির প্রয়োজন কমিয়ে দিত। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, এসব ফাঁদে অনেক সময় প্রাইভেটকারের চাকা স্লিপ খেয়ে উঠতে পারত না, যা নতুন সমস্যারও সৃষ্টি করেছিল।

উল্লেখ্য, এর আগেও রাজধানীতে এমন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের মে মাসে রমনা পার্কসংলগ্ন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধার সামনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রতিরোধ’ নামের একটি ডিভাইস বসানো হয়, যা উল্টো পথে প্রবেশ করা গাড়ির চাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুটো করে দিত। সেটিও পরে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকার প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল সীমিত করতেই রিকশা ট্র্যাপার বসানো হয়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি স্থানে এটি কার্যকরও ছিল। কিন্তু রিকশাচালকরা পরিকল্পিতভাবে এসব ট্র্যাপার নষ্ট করে ফেলেছে। কোথাও পিটিয়ে সমান করা হয়েছে, কোথাও সিমেন্ট ঢেলে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও পুরোটা তুলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এক্ষেত্রে শুধু পুলিশের পক্ষে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা প্রতিদিনই প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি এবং এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। নতুন সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমরা যেকোনো মূল্যে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব।”

সব মিলিয়ে, বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাজধানীর সড়কে রিকশা নিয়ন্ত্রণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই রয়ে গেছে।