রাজধানী
বিদেশি স্বর্ণের বারের আড়ালে তামা, তাঁতীবাজারে প্রতারণার অভিযোগ
রাজধানীর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণের বার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের বারের ভেতরে প্রকৃত স্বর্ণের পরিবর্তে তামা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। বারের গায়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ও হলমার্কসদৃশ চিহ্ন থাকায় সেটি দেখে সহজে নকল শনাক্ত করা কঠিন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে। ভিডিওতে দেখানো বারটির গায়ে ‘Swiss 50g Gold’ এবং ‘Swiss Made’ লেখা রয়েছে। পাশাপাশি এতে হলমার্কসদৃশ চিহ্নও দেখা যায়। ফলে বাইরে থেকে দেখে বারটিকে আসল স্বর্ণের তৈরি বলে মনে হতে পারে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, বারটির বাইরের আবরণ ও ফিনিশিং অত্যন্ত নিখুঁত। প্রথম দেখায় এটিকে আসল স্বর্ণের বার থেকে আলাদা করা কঠিন। তবে পরীক্ষা করে এর ভেতরে স্বর্ণের পরিবর্তে তামা পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ধারণা, তামার ওপর সূক্ষ্মভাবে স্বর্ণের প্রলেপ বা পাত বসিয়ে এ ধরনের নকল বার তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বারটি কোথায় তৈরি হয়েছে, কীভাবে দেশে এসেছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, যেমন দুবাই, কুয়েত ও সৌদি আরব ছাড়াও মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণের বার আসে। এসব বারের গায়ে থাকা ব্র্যান্ডের নাম, প্যাকেজিং ও হলমার্কের মতো চিহ্ন দেখে অনেক ক্রেতা পণ্যের মান সম্পর্কে ধারণা নেন। কিন্তু এসব চিহ্ন নকল করা হলে ক্রেতারা সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের বারের গায়ে লেখা ওজন, বিশুদ্ধতার মাত্রা, প্রস্তুতকারকের নাম কিংবা উৎপত্তির দেশের পরিচয়-কোনোটিই এককভাবে পণ্যটির সত্যতা নিশ্চিত করে না। একইভাবে চকচকে ফিনিশিং, নিখুঁত খোদাই কিংবা অক্ষত প্যাকেট দেখেও বারটি খাঁটি স্বর্ণের কি না, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য উপযুক্ত পদ্ধতিতে এর উপাদান ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা জরুরি।
এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে স্বর্ণের বার কেনার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পণ্যের ক্রয় রসিদ, প্রস্তুতকারকের পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় সনদ যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক কোনো বার কেনার আগে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগারে এর উপাদান ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করানো উচিত। শুধু বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম, হলমার্কসদৃশ চিহ্ন কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে স্বর্ণের বার নিয়ে ওঠা এ অভিযোগ উচ্চমূল্যের মূল্যবান ধাতু কেনাবেচায় পণ্যের সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে স্বর্ণের মতো দামি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে অভিযোগটির সত্যতা, বারটির প্রকৃত উপাদান এবং এর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে যথাযথ পরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন।