শিক্ষা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিতর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিতর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশংসা পেলেও সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং এর সভাপতির যোগ্যতা নির্ধারণকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ের সিদ্ধান্তগুলো ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হবে না। এই ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকরা বিষয়টিকে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে।

পরবর্তীতে গত ১৬ মার্চ একটি পরিপত্র জারি করা হয়, যেখানে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করা হয়। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পূর্বে এই পদে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল। ফলে যোগ্যতার মান কমিয়ে আনা হয়েছে বলে নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী একাধিকবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে একটি পরিপত্র অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। তবে শিগগিরই এই বিধানে পরিবর্তন এনে এমপিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল জায়গায় যোগ্যতার মান কমানো এবং দলীয় প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে শিক্ষার মান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারের অন্যান্য ইতিবাচক উদ্যোগের মাঝেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন বিতর্ক সরকারের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সব মিলিয়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চাপে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, চলমান সমালোচনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং তা শিক্ষাব্যবস্থায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।