বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১
Dhaka Prokash

তলে তলে সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত

প্রকাশ্য রাজনীতিতে দেখা না গেলেও তলে তলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী নিজেদের সংগঠিত করছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে নীরবে। গত কয়েক বছরে জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে সভা সমাবেশ করেনি। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলটি। যদিও রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠনটির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে অনেক আগে।

জামায়াতের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটিকে এখন ভিন্ন কৌশলে ভিন্ন নামে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন দলটির নেতারা।

জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের নানা দমন পীড়নের পরও সক্রিয় জামায়াত ইসলামী। দলটি তার নিজস্ব গতিধারা বজায় রেখেই সামনে এগিয়ে যাবে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আপাতত তারা প্রকাশ্য রাজনীতিতে কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকবে। মিছিল-মিটিং বা সভা-সমাবেশের মতো কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাবে না। শুধু সংগঠন গোছানোর কাজে মনোযোগ দেবে। অস্তিত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাম পরিবর্তনের চিন্তা করছে। তবে কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীত ভুলের জন্য প্রয়োজনে ক্ষমা চেয়ে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের চেতনায় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চায় জামায়াতের তরুণ নেতারা। তাদের যুক্তি হচ্ছে, তখন যুদ্ধাপরাধের তীর আর তাদের বিদ্ধ করতে পারবে না, বরং লাভবানই হবে। কারণ শত প্রতিকূলতার মাঝেও দলটির সেই সাংগঠনিক ক্ষমতা ও দক্ষতা এখনো অটুট রয়েছে।

২০ দলীয় জোট, দলের নিবন্ধন ও নতুন নামে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। যখন কোনো কিছু বলার মতো হবে, তখন অবশ্যই জানানো হবে। এমন কিছু হলে তো আমরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই করব। এ বিষয়ে কিছু জানতে চাইলে দলের সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।’

পরবর্তীতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম এর সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বেশকিছুদিন আগে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি জোটের সঙ্গে তারা আর নেই ৷ তবে যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে ৷ তিনি জামায়াতের এই জোটে না থাকার জন্য বিএনপিকেই দায়ী করেছেন ৷ কিন্তু কয়েকজন জামায়াত নেতা ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেছেন, ‘ডা. শফিকুর রহমান এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে জোট প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ৷ দলের আমীরের এটা অফিসিয়াল বক্তব্য হলে তো আমরা প্রেস রিলিজ দিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানাতাম।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জোটে থাকা না থাকার বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জোটে থাকলেও এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আছি। আর জোটে না থাকলেও তো এই সরকারের বিরুদ্ধেই যুগপৎ আন্দোলন করতে রাজপথে আছি।’

জানা যায়, রাজনৈতিক দল হিসেবে আদালত কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয় ২০১৩ সালের ১ আগস্ট। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হচ্ছে, যদিও এখন পর্যন্ত সরকারের তরফে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাই নিবন্ধন বাতিল হলেও রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সক্রিয় রয়েছে। তবে নিবন্ধন না থাকায় তারা দলীয় ব্যানার ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। অবশ্য বেনামে বা স্বতন্ত্র পরিচয়ে বা অন্য রাজনৈতিক দলের ব্যানারে জামায়াতের নেতারা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সেই দিক বিবেচনায় নিয়েই জামায়াত কৌশলগত কারণেই এখন প্রকাশ্য রাজনীতিতে নেই। কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দলের নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।

মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের প্রত্যেকটি জেলা উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা একেক এলাকায় একেক কৌশলে কাজ চালাচ্ছে। কোথাও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে, আবার কোথাও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে জামাযাতে ইসলামী।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিচার শুরু হয়। যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শুধু দেশের বিরোধীতাই করেনি, পাক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে যুদ্ধাপরাধে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামানসহ অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়। একই অপরাধে এখনো একাধিক জামায়াত নেতা কারাগারে বন্দি আছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের বিচারের রায়ে দেওয়া পর্যবেক্ষণে আদালত জামায়াতে ইসলামীকেও যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ কারণে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তবুও রাজনীতিতে জামায়াত আছে বিএনপির ছত্রছায়ায়। এটা আরও পরিষ্কার রাজনৈতিক মহলের সমালোচনা, বিভিন্ন মহলের চাপ কোনো কিছুতেই বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারেনি। বিএনপি-জামায়াত কেউ কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়েনি। সমালোচনা বরং একে অপরকে কাছে টানছে। কৌশলগতভাবেও জামায়াত বিএনপির তুলনায় অনেক এগিয়ে। তাই বিএনপিকে জামায়াতীকরণ করার কাজ তারা এগিয়ে নিতে পেরেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচারণায় থাকাও জামায়াতের আরেকটি কৌশল। ইতিবাচক-নেতিবাচক যে কোনো বিষয়েই আলোচনায় থাকতে চায় জামায়াত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের প্রভাবশালী একজন নেতা ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘ভিন্ন নামে জামায়াত ইসলামী একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলার বিষয়ে আজ থেকে প্রায় দুই বছর পূর্বে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বিষয়টি তখন আটকে যায়। তবে সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে আবারো বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে বেশকিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু কাজ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে নেতাদের।’

তিনি বলেন, ‘দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে নিবন্ধন ইস্যুতে আইনগতভাবে যত প্রকারের উদ্যোগ বলেন, পদক্ষেপ বলেন সেটা করেও কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে না। ফলে জামায়াতে ইসলামীকে স্বতন্ত্র কিংবা অন্য কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে অনেকের মতে বিএনপিই জামায়াতের জন্য সেই নিরাপদ স্থান। তাই যে যাই বলুক, জামায়াতে ইসলামী জোটে আছে, ভোটে আছে এমনকি যুগপৎ আন্দোলনেও থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘সংলাপ ইস্যুতে ২০ দলীয় জোটে সৃষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত-বিএনপি জোটে থাকা না থাকা এটা জামায়াতের নীতিগত অবস্থান নয়, কৌশলগত। শুধু মাত্র জামায়াত কিংবা বিএনপি নয়, সম্মিলিতভাবেই উভয় দলই রাজনৈতিকভাবে কৌশল নিয়েছে। অবশ্য এটা ঠিক যে, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারও চায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের বিচ্ছেদ ঘটুক। দুই দলের সম্মিলিত শক্তি তাদের জন্য ভোট ও আন্দোলনের মাঠে বিপজ্জনক, আলাদা হলে ঠিক তার উল্টো। তাই অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ে জামায়াতকেই সরকার তাদের গলার কাঁটা হিসাবে দেখছে। এই মুহূর্তে বিএনপিকে সরকার যতটা চাপে রাখতে চায়, জামায়াতকে হয়ত ততটা নয়।’

সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আমাদের কে বলা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত আর জামায়াতকে বলা হয় যুদ্ধাপরাধীর দল, আমিও তা স্বীকার করি। কিন্তু নিবন্ধন বাতিল করলেন অথচ বেআইনি ঘোষণা করলেন না। তার মানে হচ্ছে আওয়ামী লীগ-জামায়াত তলে তলে সম্পর্ক বজায় রাখছে। তাই এখন থেকে আওয়ামী জামায়াত হবে, বিএনপি জামায়াত হবে না।’

অবশ্য জামায়াত এক বিবৃতিতে বলেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করার ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও বেআইনি ঘোষণা সংক্রান্ত বিষয়ে তার কথা ও মর্মবেদনায় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, কার স্বার্থে এবং কাকে সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি এ বক্তব্য প্রদান করেছেন?

এদিকে জামায়াত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জামায়াত যদি নতুন নামে পুনর্গঠিত হওয়ার কথা ভাবে তাহলে হয়তো জামায়াতের একটি বড় অংশ বিএনপিতে বিলীন হবে। কারণ বিএনপি হলো জামায়াতের স্বাভাবিক মিত্র। তা ছাড়া জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি এবং জামায়াতের রাজনীতি সহজে শেষ হচ্ছে না। জামায়াত মাঠ ছাড়বে না। আর্থিকভাবে যতদিন দুর্বল না হবে ততদিন দলটি কৌশলের খেলা অব্যাহত রাখবেই। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো ভুল বারবার করলেও জামায়াত ভুলের পুনরাবৃত্তি কম করে।

এনএইচবি/আরএ/

Header Ad

শাবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিসহ সকল ধরনের লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাবিপ্রবির সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনীতি এখন থেকে চলবে না। ছাত্রলীগের রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়ায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানা থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত মহাসড়ক বন্ধ রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে প্রস্তুত রয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কিছুক্ষণের মধ্যে তারা অ্যাকশনে যাবে। অন্যদিকে হানিফ ফ্লাইওভারের কুতুবখালী টোলপ্লাজায় মোটরসাইকেল ও সিএনজি পুড়িয়ে দিয়েছে আন্দোলনকরীরা। এর আগে যাত্রাবাড়ী থানায় হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে, একই স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুই বছরের শিশু রহিত তার বাবা বাবুল হোসেনসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন সবজি বিক্রেতা মো. বাবলু (৪০) ও তার শিশু সন্তান রোহিত (২), মনিরুল ইসলাম (২০), মো. ফয়সাল (২৭), নবম শ্রেণির ছাত্র মাহিন আহমেদ পিয়াস (১৫), মো. সোহাগ (২৮)।

হাসপাতালে আহত শিশুটির মা লিপি আক্তার জানান, তাদের বাসা শনিরআখড়া এলাকায়। পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচতলায় থাকেন তারা। তাদের বাসার সামনের রাস্তায় কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। এদিকে শিশুটি গরমের কারণে কান্নাকাটি করতে থাকায় তার বাবা রহিতকে কোলে নিয়ে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাস্তার পরিস্থিতি দেখছিলেন। তখন শটগানের গুলি এসে শিশুটির বাবার মুখ, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাগে। এছাড়া কোলে থাকা শিশু রহিতের ডান হাতে এবং বুকে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, শনিরআখড়া থেকে আসা আহত ছয়জনকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় কোটা আন্দোলনের ঘটনায় অন্তত ৫২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে আন্দোলনকারী, ছাত্রলীগ সদস্য, পুলিশ ও সাংবাদিক রয়েছেন।

ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৩০

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গার পূর্ব সদরদী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী বিআরটিসি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা শাহ জালাল পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারে কাজ করেছি। এ ছাড়া আমাদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানাতে পারব।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মোহাম্মদ খায়রুল আনাম জানান, আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা ও ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে পুলিশ।

সর্বশেষ সংবাদ

শাবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা
যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৩০
কাল সারা দেশে বিক্ষোভ ডেকেছেন চরমোনাই পীর
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা কোটাবিরোধীদের
কোটা নিয়ে যেসব কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর মাথায় পুলিশের গুলি
গায়েবানা জানাজা বলে কিছু নেই বলে ইমামকে নিয়ে গেল ওসি আমিনুল
ঢাবিতে গায়েবানা জানাজায় কফিন ছুঁয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ
রণক্ষেত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আহত শতাধিক
বৃহস্পতিবার ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক
সাংবাদিকদের মাঝে সাউন্ড গ্রেনেড মারলো পুলিশ, অন্তত তিন সংবাদকর্মী আহত
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার প্রবেশপথ অবরোধ
কোটা সংস্কার আন্দোলন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা: আসিফ নজরুল
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন, শাহবাগে ছাত্রলীগ-যুবলীগ
সান্তাহারে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ৩ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে পুলিশ : ডিবিপ্রধান
জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের