সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
Dhaka Prokash

পুলিশ-র‌্যাবের পরিচয়ে প্রতারণা, ১০ মাসে গ্রেপ্তার ৩৫০

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে র‌্যাব ও পুলিশ পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে সোহান শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে ২৮ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের সময় তার পরনে পুলিশের ট্রাকস্যুট, রিফ্লেক্টিং ভেস্ট ছিল।

এর আগে ১৫ অক্টোবর মাসুম কবির নামে আরও একজনকে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনে কর্মরত সার্জেন্ট মো. আল মামুন আটক করেন। ২৫ অক্টোবর আদাবরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন আসিফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। এসময় তার কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি ও একটি পুলিশের ক্যাপ জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে র‌্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক এএসপি শিহাব করিম বলেন, সম্প্রতি আমাদের কাছে অভিযোগ আসে মোহাম্মাদপুর এলাকায় ভুয়া পুলিশ সদস্য ও র‌্যাব পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি চলছে। পরে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

র‌্যাব ও পুলিশ সদরদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৩০০ ভুয়া র‌্যাব-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে র‌্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও বিজিবির পরিচয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রায় ২ হাজারের মতো লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালেই এ চক্রের ৩০০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ডিবি পুলিশ বলছে, এই চক্রের সদস্যরা কখনো পুলিশ, কখনো র‌্যাবের পোশাকে ছদ্মবেশ ধারণ করে। আর সঙ্গে থাকে আগ্নেয়াস্ত্র।

চলতি বছরের ২০ অক্টোবর রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে কাফরুল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. তানভীর, মো. সাজিদ আহমেদ রাসেল, মো. আফসার হোসেন বাবু ও এনজেল স্যামুয়েল কস্তা। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি খাকি রংয়ের ডিবি লেখা জ্যাকেট, একটি হ্যান্ডক্যাপ, একটি ওয়াকিটকি, একটি চাকু, একটি চাপাতি ও ৪টি বাটন মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন তারা। পরে তাদের নজরদারিতে রেখে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, তাদের ধরার পর ডিএমপির সদর দপ্তর থেকে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয় ভুয়া র‌্যাব-পুলিশ গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রাখতে। এরপর থেকে আমাদের থানা পুলিশ এসব অপরাধ দমনে কাজ করছে।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, তাদের নামে বিভিন্ন থানায় আগের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বাবুর নামে যাত্রাবাড়ী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও মাদকের তিনটি মামলাসহ কুমিল্লার বুড়িচং থানায় ডাকাতির একটি মামলা ও স্যামুয়েল কস্তার নামে মিরপুর মডেল থানায় মানবপাচারের একটি মামলা রয়েছে।

এর আগেও চলতি বছরের মে মাসে মোহাম্মদপুর থেকে পুলিশের অভিযানে মো. রানা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধার করা হয় এবং পুলিশের কার্ড পাওয়া যায়।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই চক্রের বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব-পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনায় ডিএমপির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফারুকুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, অধিকাংশ সময় দেখা গেছে যারা বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি করেছে এবং চাকরিচ্যুত হয়েছে তারাই বেশির ভাগ সময় এসব অপরাধে যুক্ত। পুলিশ পরিচয় দেওয়া মো. সোহেল রানার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আমি বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি, সব কিছু ডিএমপি সদর দপ্তরে জমা দিয়েছি। এরপর থেকে আমাদের উপরের কর্মকর্তা ভুয়া র‌্যাব পুলিশ গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ৬ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবি সদস্য পরিচয় দেওয়া মোহম্মাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পরে জানা যায় তিনি কোনো বাহিনীর সদস্য নয়। ৫ বছরে বিজিবির সদস্য পরিচয়ে বেশ কয়েকজন প্রতারক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, যদি বিজিবির কোনো সদস্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিজিবির পরিচয়টা তো বড় পরিচয়। তা ছাড়া কোনো বিজিবি সদস্য যদি ভুয়া র‌্যাব বা পুলিশের পরিচয় দেয় তাহলে এটা প্রমাণিত হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। কিছু কিছু হয়তো বিছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রযুক্তির যুগে প্রতারকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বেশি সুবিধা করতে পারে না।

এসব বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মপদ্ধতি অনুকরণ করে পুলিশ-র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে আড়ালে গড়ে তুলছে ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণকারী চক্র। অপরাধীদের পরনে কখনো গোয়েন্দা পুলিশ, কখনো র‌্যাবের পোশাক থাকে। সঙ্গে থাকে আগ্নেয়াস্ত্র। তারা গাড়িতে ব্যবহার করছে বিভিন্ন বাহিনীর লোগো। তাই সাধারণের পক্ষে আসল-নকল চেনা মুশকিল।

এসব অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাদ দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, সাধারণত এসব প্রতারকরা দুইভাবে কাজ করে। একদল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে কথিত অভিযানের নামে নিশানায় থাকা ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে মারধর করে অর্থকড়ি ছিনিয়ে নেয়। আরেকদল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেজে নিয়োগ, বদলি, তদবিরের নামে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।

পুলিশ-র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে অপরাধের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ডিআইজি হারুন অর রশিদ ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, এসব বিষয়ে আমরা সাধারণ মানুষকে অনেকবার সর্তক করেছি। তাদের আমরা বলেছি কাউকে সন্দেহ হলে আপনারা স্থানীয় থানা পুলিশকে জানান। তা ছাড়া এসব অপরাধ দমনের জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বয় করে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধ দমনে আমরা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি এবং আমাদের থানা পুলিশ ও গোয়েন্দারা পুলিশ ও র‌্যাব পরিচয় দেওয়া প্রতারকদের ধরতে তৎপর।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. মনজুর রহমান বলেন, পুলিশ-র‌্যাবের পরিচয়ে প্রতারণার বিষয়টি আসলেই বেশ আগে থেকেই রয়েছে। এরা ধরা পড়ার পর জামিনে বের হয়ে আবারও একই অপরাধে যুক্ত হয়। এদের ধরতে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ নিয়ে আমাদের পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

এসএন

Header Ad

পরিচয় জানা গেল ৪০০ কোটি টাকার মালিক সেই পিয়নের

জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: সংগৃহীত

চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজের বাসার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তারপর থেকেই এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কে সেই পিয়ন, কি তার পরিচয়। সকল মহলে এখন এই পিয়ন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অবশেষে তার পরিচয় মিলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া না হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র দাবি করছে, সেই পিয়নের নাম জাহাঙ্গীর আলম। তাকে নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। তার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী হিসেবে একসময় কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের দুই মেয়াদের পুরোটা সময় এবং প্রধানমন্ত্রীর টানা তৃতীয় মেয়াদেরও কিছু সময় ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যাগ বহন করতেন, প্রধানমন্ত্রীর খাবার সামনে এগিয়ে দিতেন এবং অন্যান্য ফাই-ফরমাশ খাটতেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি যখন বিরোধী দলে তখন থেকেই জাহাঙ্গীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় যেতেন সেখানেও জাহাঙ্গীরকে দেখা যেত। আস্তে আস্তে জাহাঙ্গীরের একটি রাজনৈতিক বলয় তৈরি হয়ে যায়।

জাহাঙ্গীরের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলে। সেই সময় তার আমন্ত্রণে সরকারের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে নোয়াখালীর চাটখিলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন। যার কিছু ছিল জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত আয়োজনের অনুষ্ঠানে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আরেক পিয়ন আবদুল মান্নানকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

গণভবনে থাকার সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের চেয়েও ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন। আওয়ামী লীগের কিছু কিছু ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ, গণভবনে থাকেন, তাকে বলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায় ইত্যাদি ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে জাহাঙ্গীরের প্রতি আলাদা ‘সমীহ’ দেখাতে শুরু করেন। তাদের কেউ কেউ জাহাঙ্গীরকে ‘স্যার’ ডেকেছেন বলেও শোনা যায়। এমনকি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাও জাহাঙ্গীরের কাছে তদবির করতেন। এই জাহাঙ্গীর গণভবনে থেকে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন তদবির করতেন। এভাবে আস্তে আস্তে বিত্তশালী হয়ে ওঠেন এই কাজের লোক। পরবর্তীতে অবশ্য গণভবন থেকে রেবিয়ে যাওয়ার পর এখন তাকে রাজনীতিতে দেখা যায় না।

তবে জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী হলেও তিনি নিজের পরিচয় দিতেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিশেষ সহকারী। এই পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মিত সচিবালয়ে তদবির বাণিজ্য করতেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে নানান তদবির করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। একই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদও বাগিয়ে নিয়েছিলেন। নোয়াখালী-১ সংসদীয় আসনে নিজের একটি রাজনৈতিক ব্লকও তৈরি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবহিত এবং জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই তার সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে জাহাঙ্গীর এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কি কারও নাম বলেছেন? তিনি ড্রাইভারের (সৈয়দ আবেদ আলী) কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তো পিয়ন বলেছেন। সে সময় দুজন পিয়ন চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। এর মধ্যে একজন আপনি, আরেকজন আবদুল মান্নান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সেই পিয়ন আপনি। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি এটা জানি না। আমি কইতে পারব না।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছেন কি না— জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, না না, আমি তো শুনি নাই। এইমাত্র আপনার কাছে শুনলাম।

চতুর্থবারের মতো নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন কেপি শর্মা অলি

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। ছবি: সংগৃহীত

মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ড আস্থাভোটে হেরে যাওয়ার পর নেপালে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন দেশটির তিনবারের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি।

কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল তাকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সোমবার নতুন মন্ত্রিসভার সঙ্গে অলিও শপথ নেবেন।

দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হলেন। ‘চীনপন্থী’ অলি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট)-এর প্রধান। শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বাধীন নেপালী কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে তিনি ফের কাঠমান্ডুর কুর্সিতে ফিরলেন।

পুষ্প কমল দাহাল শুক্রবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে আস্থা ভোটে হেরে যান। ফলে দেশটির সংবিধানের ৭৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নেপালী কংগ্রেসের ৮৮ জন, ইউএমএল-এর ৭৮ জনসহ ১৬৬ জন আইন প্রণেতার সমর্থনের পর প্রেসিডেন্ট পাউডেল অলিকে সংবিধানের ৭৬(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে নিয়োগ দেন।

৭২ বছর বয়সী কে পি শর্মা অলি এর আগে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত, ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মে মাস ও ২০২১ সালের মে মাস থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সূত্র: দ্য কাঠমুন্ডু পোস্ট

দেশে বিবাহিত বেশি রাজশাহীতে, অবিবাহিত সিলেটে

প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ মানুষ বিবাহিত। এর মধ্যে বিবাহিতের হার সর্বোচ্চ ৬৯ শতাংশ রাজশাহী বিভাগে। অন্যদিকে এ জনগোষ্ঠীর হার সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ সিলেট বিভাগে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আর্থ-সামাজিক ও জনমিতিক জরিপ-২০২৩’র বৈবাহিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ২১ মে থেকে ২২ জুন পর্যন্ত দেশের ১২ হাজারেরও বেশি এলাকার প্রায় দুই লাখ ৯৯ হাজার পরিবারের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষের হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে, প্রায় ৪৫ শতাংশ। অপরদিকে রাজশাহী বিভাগে অবিবাহিত পুরুষ সবচেয়ে কম, ৩১ শতাংশ। পাশাপাশি সিলেট বিভাগে অবিবাহিত নারী সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে, রাজশাহীতে এ হার সবচেয়ে কম, ১৮ শতাংশ।

প্রতিবেদন বলছে, নারীর চেয়ে পুরুষের একাধিক বিয়ের হারও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ পুরুষ একবারের বেশি বিয়ে করেছেন। বিপরীতে ১ শতাংশের বেশি নারী একবারের বেশি বিয়ে করেছেন। পাশাপাশি বিপত্নীক হিসেবে ১ শতাংশের কিছু বেশি পুরুষ একা জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৯ শতাংশ নারী বিধবা হিসেবে জীবনযাপন করছেন।

বৈবাহিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে জরিপে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ বিবাহিত। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে বিবাহিতের হার সর্বোচ্চ ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে বিবাহিত জনগোষ্ঠীর হার সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ।

বিবিএস প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম শুমারিতে দেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ। এরপর ১৯৮১ সালে জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫ জনে। ১৯৯১ সালে দেশে মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৬৩ লাখে।

সর্বশেষ সংবাদ

পরিচয় জানা গেল ৪০০ কোটি টাকার মালিক সেই পিয়নের
চতুর্থবারের মতো নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন কেপি শর্মা অলি
দেশে বিবাহিত বেশি রাজশাহীতে, অবিবাহিত সিলেটে
শাহরুখ খানসহ ২৫ বরযাত্রীকে ২ কোটি টাকার ঘড়ি উপহার দিলেন অনন্ত
কোটা সংস্কারসহ এক দফা দাবিতে টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদান
‘বাংলা‌দেশ থে‌কে ৩ হাজার কর্মী নে‌বে ইতালি, জার্মানি, গ্রিস ও রোমানিয়া’
২০২৪ কোপা আমেরিকা ও ইউরোর প্রাইজমানি কত?
আমার পিয়নের কাজ করেছে, সেও ৪০০ কোটি টাকার মালিক: প্রধানমন্ত্রী
মেয়ের বিয়ের ‌‘যৌতুক’ হিসেবে বিসিএস’র প্রশ্নপত্র দেন পিএসসির সাবেক মেম্বার!
বিরামপুরে চালকলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু
পার্লারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ আটক ৫৬
রেলওয়ের ৪০ শতাংশ পোষ্য কোটা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
২ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেবে চীন: প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা
ট্রাম্পের ওপর হামলায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যে কারণে আম্বানিপুত্রের বিয়েতে যাননি আমির-অক্ষয়-কারিনা-বিরাটরা
আনুষ্ঠানিক বিদায়ে ডি মারিয়াকে বিশেষ জার্সি উপহার
৭ অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আভাস, বাড়বে তাপমাত্রা
বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সার্টিফিকেট তৈরির মূলহোতা গ্রেপ্তার
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাকারী ২০ বছর বয়সি কে এই বন্দুকধারী?