বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১
Dhaka Prokash

মশার গানে উধাও হাতিরঝিলে বিনোদন

দেয়ালে আবদ্ধ জীবনের ক্লান্তি দূর করতে সামান্য খোলা হাওয়া খেতে ছুটির দিনগুলোতে আশপাশের বাসিন্দারা হাজির হন হাতিরঝিলে। কখনো কখনো অন্য এলাকা থেকেও আসেন লোকজন। কিন্তু সেখানে হাওয়ার সঙ্গে উপরি হিসেবে খেতে হয় মশার কামড়। মন ভালো করতে গিয়ে শরীর খারাপ করে ফিরতে হয় ঘরে। তারপর দৌড়াতে হয় হাসপাতালে। খোলা জায়গায় ছোট বাচ্চাদের খেলাধুলার সুযোগ দিতে গিয়ে মশার কামড়ে বরং ক্ষতির সম্মুখীন হন বেশি। তবুও কর্মক্লান্তি ও বদ্ধজীবন থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য তো আসতেই হয়। ঘুরতে আসা লোকজন জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই মশার উৎপাত বাড়লেও, তা নিধনে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

তারা বলেন, শুধু হাতিরঝিল নয় মশার উপদ্রব ছড়িয়ে আছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। তবে হাতিরঝিলে একটু বেশি। এসব মশার কারণে নগরবাসী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ার শঙ্কায় আছেন। হাতিরঝিলে মশার যন্ত্রণা এতটাই বেড়ে গেছে যে, পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক খারাপ। মশার এমন উপদ্রব এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সরেজমিনে রাজধানীর দর্শনীয় স্থান ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হাতিরঝিলে মশার উপদ্রব দেখা যায়।

রাজধানীর শনির আখড়া এলাকা থেকে হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছেন আবির রহমান। তিনি ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, মাঝে মাঝে আমি পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে আসি। যেভাবে মশার উপদ্রব বেড়েছে তাতে আর হাতিরঝিলে আসা যাবে না।

হাতিরঝিল এলাকায় বসবাসরত মো. বজলুর ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, গত নভেম্বর থেকে ঝিল এলাকায় মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। যা নিধনে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। কয়েক মাস ধরে মশার কামড়ে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মশা এত বেশি বেড়েছে যে দলবেঁধে কামড়ায়।

রাব্বি হোসেন নমে আরেক দর্শনার্থী ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, বেশ কয়েকমাস ধরে হাতিরঝিলে মশার উপদ্রব ব্যাপক হারে বেড়েছে। মশার যন্ত্রণায় এখানকার মানুষ অতিষ্ঠ। ঝাঁক বেঁধে মশা কামড়ায়, থাপ্পড় দিলে একসঙ্গে অনেকগুলো মশা মারা পড়ে। তা ছাড়া এখানকার মশাগুলো আকারে অনেক বড় মনে হচ্ছে।

ঝিল এলাকায় ভাসমান চা বিক্রেতা মাহফুজ মিয়া ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, মশার কারণে এক জায়গায় বেশি সময় ধরে দাঁড়াতে পারি না। হাতিরঝিলে প্রচুর মশা বেড়েছে। হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মশা এলোমেলোভাবে কামড় দেয় আর সারা শরীর জ্বলে। এখানে মশার জন্য টেকা যায় না! এখানে মশা দমনে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই বললেই চলে।

বনশ্রীর বাসিন্দা লক্ষ্মী রায় বলেন, বাসার পাশে হওয়ায় ছুটির দিনগুলোতে এখানে আসি প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে। কিন্তু এখানে বসা যায় না। ঝাঁক ধরে মাথার উপর মশা ঘুরে আর কোরাস গায়। শরীরের যেখানে কামড়ায় লাল হয়ে ফুলে যায়। কখনো চামড়া কালো হয়ে যায়। বাচ্চাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়। ইট-পাথরের এই শহরে মন ফ্রেশ করতে এসে অসুস্থ হতে হয়। কোনো উদ্যোগও দেখা যায় না মশা দমন করতে। শুধু মশাই নয় হাতিরঝিলের পরিবেশ ঋতু অনুযায়ী পরিবর্তন হয়। কখনো কখনো দুর্গন্ধে পাঁচ মিনিটও বসা যায় না। বর্ষাকালেও হাতিরঝিলের পানি পরিষ্কার থাকে না। হাতিরঝিলে মলমূত্রের গন্ধও তীব্র আকার ধারণ করে গ্রীষ্মকালে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প যদি জনগণের কাজে না লাগে, শুধু দৃশ্যমানই থাকে তাহলে কী লাভ? শুধু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব বিনোদনকেন্দ্র থেকে বঞ্চিত হবে মানুষ? কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় এনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, শীতে মৌসুমে ঋতুগত কারণে মশা একটু বেড়ে যায়। কারণ এডিস যেমন পরিষ্কার জমা পানিতে হয় তেমনি কিউলেক্স মশা নোংরা, অপরিষ্কার পানিতে হয়। শীতকালে এখন যে মশা সেটি মূলত কিউলেক্স মশা। অনেক জলাশয় শীতকালে শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানে কিউলেক্স মশা হচ্ছে। আবার বর্ষাকালে জলাশয়ের পানি যেমন চলমান থাকে শীতকালে কিন্তু তেমন না। তাই এই সময়টাতে একটু মশা বেশি হয়ে থাকে। তবে আমরা এটি নিধনে প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকার খালগুলো আমরা পরিষ্কার করছি। এসব খাল থেকে কচুরিপানাও পরিষ্কার করা হয়েছে। খাল ও কচুরিপানায় যেসব মশা থাকত তার একটি অংশ উড়ে লোকালয়ে যাচ্ছে বা হয়তো হাতিরঝিলে তারা বিস্তার করছে।

কেএম/এসএন

Header Ad

শাবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিসহ সকল ধরনের লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাবিপ্রবির সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনীতি এখন থেকে চলবে না। ছাত্রলীগের রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়ায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানা থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত মহাসড়ক বন্ধ রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে প্রস্তুত রয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কিছুক্ষণের মধ্যে তারা অ্যাকশনে যাবে। অন্যদিকে হানিফ ফ্লাইওভারের কুতুবখালী টোলপ্লাজায় মোটরসাইকেল ও সিএনজি পুড়িয়ে দিয়েছে আন্দোলনকরীরা। এর আগে যাত্রাবাড়ী থানায় হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে, একই স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুই বছরের শিশু রহিত তার বাবা বাবুল হোসেনসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন সবজি বিক্রেতা মো. বাবলু (৪০) ও তার শিশু সন্তান রোহিত (২), মনিরুল ইসলাম (২০), মো. ফয়সাল (২৭), নবম শ্রেণির ছাত্র মাহিন আহমেদ পিয়াস (১৫), মো. সোহাগ (২৮)।

হাসপাতালে আহত শিশুটির মা লিপি আক্তার জানান, তাদের বাসা শনিরআখড়া এলাকায়। পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচতলায় থাকেন তারা। তাদের বাসার সামনের রাস্তায় কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। এদিকে শিশুটি গরমের কারণে কান্নাকাটি করতে থাকায় তার বাবা রহিতকে কোলে নিয়ে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাস্তার পরিস্থিতি দেখছিলেন। তখন শটগানের গুলি এসে শিশুটির বাবার মুখ, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাগে। এছাড়া কোলে থাকা শিশু রহিতের ডান হাতে এবং বুকে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, শনিরআখড়া থেকে আসা আহত ছয়জনকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় কোটা আন্দোলনের ঘটনায় অন্তত ৫২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে আন্দোলনকারী, ছাত্রলীগ সদস্য, পুলিশ ও সাংবাদিক রয়েছেন।

ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৩০

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গার পূর্ব সদরদী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী বিআরটিসি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা শাহ জালাল পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারে কাজ করেছি। এ ছাড়া আমাদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানাতে পারব।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মোহাম্মদ খায়রুল আনাম জানান, আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা ও ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে পুলিশ।

সর্বশেষ সংবাদ

শাবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা
যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৩০
কাল সারা দেশে বিক্ষোভ ডেকেছেন চরমোনাই পীর
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা কোটাবিরোধীদের
কোটা নিয়ে যেসব কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর মাথায় পুলিশের গুলি
গায়েবানা জানাজা বলে কিছু নেই বলে ইমামকে নিয়ে গেল ওসি আমিনুল
ঢাবিতে গায়েবানা জানাজায় কফিন ছুঁয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ
রণক্ষেত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আহত শতাধিক
বৃহস্পতিবার ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক
সাংবাদিকদের মাঝে সাউন্ড গ্রেনেড মারলো পুলিশ, অন্তত তিন সংবাদকর্মী আহত
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার প্রবেশপথ অবরোধ
কোটা সংস্কার আন্দোলন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা: আসিফ নজরুল
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন, শাহবাগে ছাত্রলীগ-যুবলীগ
সান্তাহারে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ৩ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে পুলিশ : ডিবিপ্রধান
জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের