শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪ | ২৮ আষাঢ় ১৪৩১
Dhaka Prokash

উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অর্থের যোগান বড় চ্যালেঞ্জ

কয়েক বছরে বাংলাদেশে ধারাবাহিক উন্নয়ন হয়েছে। আমরা এলডিসি থেকে উত্তরণ করেছি। এর ফলে আমাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে। এর আলোকে আমি যদি ২০২৩-২৪ এর বাজেটের কথা চিন্তা করি, তাহলে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা বলছি, আমাদের বাজেটের আকার বড় হয়েছে। কিন্তু জিডিপির মাত্রায় যদি আমরা দেখি, এটি কিন্তু এখনো ৫-৬ শতাংশ। অর্থাৎ এটা ১৪-১৫ শতাংশের বেশি না। দক্ষিণ এশিয়ায় সরকারের যেই ব্যয়, সে অনুযায়ী জিডিপির অংশ হিসেবে আমাদের এটা সবচেয়ে কম। সুতরাং প্রথম যেই সমস্যাটা আমাদের বাজেট প্রণেতাদের মুখোমুখি হতে হয় সেটা হলো আমাদের আরও অর্থের প্রয়োজন। অর্থের সংকুলান করাটাই এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে অর্থের সংকুলান করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের তিনটি দিকের মধ্যে একটি হলো সম্পদ আহরণ, দ্বিতীয়টি সম্পদের বণ্টন এবং তৃতীয়টি হলো সম্পদ বণ্টনের দক্ষতা। সম্পদ আহরণের দিক থেকে যদি বলি, যে চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে— আমাদের একটি মূল্যস্ফীতির চাপ আছে, কোভিড থেকে আমাদের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আছে। সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেক্ষিতে তাদের জীবন মানের নিশ্চয়তা বিধানের একটি প্রয়োজনীয়তা আছে। এটির প্রেক্ষিতে যদি দেখা যায়, তাহলে আমি বলব সেখানে কিছু কিছু প্রচেষ্টা আছে, যাতে করে বিনিয়োগকে প্রণোদিত করা যায়। সাধারণ মানুষের মূল্যস্ফীতির চাপকে সহনীয় করা যায়। তারপরও আমার মনে হয় যে, কিছু কিছু জায়গায় বাজেটে দুর্বলতা রয়ে গেছে।

সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে আমাদের আরও উচিত হবে আরও বেশি প্রচেষ্টা গ্রহণ। আমাদের দেশে এখনো অপ্রত্যক্ষ করের উপরেই রয়ে গেছে। কাজেই প্রত্যক্ষ কর আহরণের দিকে আমাদের আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত। স্থানীয় শিল্পকে সংরক্ষণ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা আছে আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে এবং উৎপাদনের উপর শুল্ক কমিয়ে। আমার মনে হয় যারা নিম্নবিত্ত আছে তাদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য করের আয় সীমা না বাড়লেও নিম্নতম করের উপর যে এক লাখ টাকার ৫ শতাংশ এর যে একটি স্ল্যাব আছে সেটিকে আরও বাড়িয়ে এটি করা যেতে পারত। তাহলে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের কর কিছুটা কম দিতে হতো। সর্বোচ্চ যে কর যেটি ৩০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ এ নামানো হয়েছিল, কোভিডের সময়ে উচ্চ আয়ের মানুষদের তেমন একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। আর বিতরণের দিক থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলো ঠিকই ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি যে সামাজিক সুরক্ষাখাতে যদিও বরাদ্দ কিছুটা টাকার অংকে বেড়েছে, আমরা যেটি দেখি পেনশন, বেতন, সঞ্চয়পত্রে সরকারের ভর্তুকি, এটিকে বাদ দিলে সামাজিক সুরক্ষায় প্রকৃত ব্যয় তিন হাজার কোটি টাকা কমে গেছে।

শিক্ষাখাতে শিশুদের দুই বছরের ব্যত্যয় হয়েছে, শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে, সেখানে শিক্ষাখাতে বরাদ্দটুকু আরও বৃদ্ধি করা দরকার বলে আমি মনে করি। বিশেষত ২০১৮ সালের বাজেটে বলা হয়েছিল চাইল্ড বাজেট আলাদা করে দেওয়া হবে ১৫.৫ শতাংশ পুরো বাজেটের এবার সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি। আমার মনে হয় যে, শিশু ও মাতৃত্বকালীন প্রকল্প অর্থাৎ সব মা ও শিশুকে এর আওতায় নিয়ে আসা, সেক্ষেত্রেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা দরকার বলে আমার মনে হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে আমাদের দেশে সরকারি ব্যয় জিডিপির ১৫.৫ শতাংশ এর মতো। এটি কিন্তু দক্ষিণ এশিয়াতে সর্বনিম্ন। আমাদের সেটি বাড়াতে হবে এবং সেটি করতে হলে আমাদেরও সম্পদ আহরণ বাড়াতে হবে। এসব জায়গাগুলোতে আরও বিনিয়োগ করা দরকার। কর প্রস্তাবে যেটি বলা হয়েছে যে, বাইরের টাকা দেশে আনার জন্য প্রণোদনা দেওয়া, বাইরের টাকা ১৫ শতাংশ দেখিয়ে সেটিকে লিগ্যালাইজ করা, সেটিকে দেশে নিয়ে আসতে গেলে ১০ শতাংশ অথবা টাকার ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ ইত্যাদি যেসব সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেটি আমি মনে করি, নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক এবং রাজনৈতিকভাবেও এটি সমর্থনযোগ্য নয়।

অর্থনৈতিকভাবে কতটুকু কী হবে জানি না, তবে ন্যায়ের শাসনে ব্যত্যয় হবে বলে মনে করি। সুতরাং কীভাবে দেশ থেকে অর্থপাচার না হয়, সেদিকে খেয়াল করে, যে আইন কানুনগুলো আছে সেগুলো যদি কাজে লাগানো যায়, অর্থনৈতিকভাবে শূন্যসহিষ্ণুতা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কথাটি সবসময় বলেন, সেদিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: অধ্যাপক ও সম্মানীয় ফেলো, সিপিডি

আরএ/

Header Ad

কোটা সংস্কারের দাবিতে রেলপথ অবরোধ রাবি শিক্ষার্থীদের

কোটা সংস্কারের দাবিতে রেলপথ অবরোধ রাবি শিক্ষার্থীদের। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনের সামনের রেললাইন অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে রেলপথটি অবরোধ করেন। এতে রাজশাহীর সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারি চাকুরিতে মেধাবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কোটাপদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আজ শুক্রবার (১২ জুলাই) সারাদেশে পঞ্চম দিনের মতো চলছে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহবাগসহ নানা ক্যাম্পাস এই ইস্যুতে উত্তাল।

রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অবস্থান নিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এদিন বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

টাঙ্গাইলে বানভাসিদের মানবেতর জীবনযাপন, ডায়রিয়ার প্রকোপসহ ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ!

যমুনার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ। ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা চরাঞ্চলে বানভাসি মানুষদের দুর্ভোগ কমছেই না। দীর্ঘ মেয়াদি হচ্ছে বন্যা। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষগুলো এবং দেখা দিয়েছে মানুষের নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, গো-খাদ্য ও নিরাপদ স্যানিটেশন।

দেখা দিয়েছে শিশুদের ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত নানা রোগ। বানভাসিদের ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় পানিবন্দি মানুষগুলো কেউ উঁচু জায়গা, কেউ বা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

যমুনার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ। ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

এদিকে, টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা যায়, কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি কমলেও গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯ টা থেকে শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল ৯ টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পোড়াবাড়ি পয়েন্ট ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিদৎসামীরার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীতেও পানি বাড়ছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল কালিপুর, জয়পুর, পুংলীপাড়া, রেহাইগাবসারা, চন্ডিপুর, মেঘারপটল, রাজাপুর, অর্জুনা ইউনিয়নের শুশুয়া, বাসুদেবকোল, ভদ্রশিমুলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- কয়েকদিন ধরে একটু একটু করে পানি কমছিল। কিন্তু আজ শুক্রবার ফের নতুন করে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও কমছে ধীরে ধীরে। ফলে এখনো চরের শতশত ঘরবাড়ি পানিতে ভাসছে ও তলিয়ে রয়েছে।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চরের লোকজন তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে- শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। চরের পানিবন্দি ঘরবাড়িতে টিউবওয়েল, স্যানিটেশন, রান্নাঘর তলিয়ে রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পানি সরবরাহ করে প্রয়োজনীয় কাজ করছেন বানভাসি মানুষগুলো। কিছু কিছু এলাকায় ত্রাণ পেলেও এখনো অসংখ্য পরিবার ত্রাণ সামগ্রী সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করছেন।

 

যমুনার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ। ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

গাবসারা ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ির পাশে থৈই-থৈই পানি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। ১২ দিন ধরে রোজগার নেই। চরাঞ্চলে পানি থাকায় কাজকাম বন্ধ। একদিকে ঋনের কিস্তি ও অন্যদিকে ধার-দেনার টাকায় সংসার চালাচ্ছি। এখন পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি। নদীর পানি একেবারে না কমা পর্যন্ত চরের জনজীবন স্বাভাবিক হবে না। সরকার যদি এ সময়ে সহযোগিতা করতো তাহলে অনেক উপকার হতো।

একই এলাকার বাসিন্দা আজগর আলী। তিনি অভিযোগ করে বলেন- টানা দুই তিন সপ্তাহ যাবৎ পানিবন্দি হয়ে থাকলেও আমাদের মতো দরিদ্রদের কেউ খোঁজ-খবর নেয় না। তাছাড়া মেম্বার-চেয়ারম্যানদের যারা কাছের লোক ও আত্মীয়-স্বজন রয়েছে তারাই সরকারের ত্রাণ সহযোগিতা পাচ্ছে। যারা এগুলো পাচ্ছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই স্বচ্ছল পরিবার। এদিকে, পানির কারণে হাত-পায়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিশুরা ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ে ভুগছে। এখনো কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা মেলেনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ জানান, উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে চরাঞ্চলসহ ৪টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দিক-নির্দেশনায় দেড় হাজারের অধিক দরিদ্র মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পানি মজুদ রাখার পাত্র বিতরণ করা হয়েছ এবং এসব ত্রাণ সামগ্রী পর্যাপ্ত রয়েছে। ত্রাণ সহায়তা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানসহ সকল ধরণের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ফেসবুকের প্রেমে চার সন্তান রেখে পালিয়ে যায় প্রবাসীর স্ত্রী

পরকীয়া প্রেমিকা আমেনা বেগম বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ উদ্ধার করে। ছবি: সংগৃহীত

প্রেম মানে না কোনো বাধা কিংবা বয়স। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আরেক প্রবাসী যুবকের। তাদের মধ্যে দিন দিন সম্পর্ক এতটাই গভীর হয় যে একে অন্যের সঙ্গে পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

জানা যায়, কুমিল্লার বড়ুয়া থানার ভহিষখোলা গ্রাম থেকে প্রেম করে পালিয়ে আসা প্রবাসীর স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকা আমেনা বেগমকে (৩৪) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ আমজানখোর ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রাম থেকে শুক্রবার (১২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টায় উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, ঘরে তার ১৮, ১৫, ১২ ও ৮ বছরের চার সন্তান রয়েছে। স্বামী থাকেন প্রবাসে। কমিল্লা সদরের বাসিন্দা সৌদি আরবপ্রবাসী স্বামী আলমগীর হোসেন তার আয়ের সবটুকু দেশে পাঠাতেন স্ত্রী আমেনা বেগমের কাছে। কুমিল্লার বড়ুয়া থানার ভহিষখোলা গ্রামের আবুল কালাম ভূইয়া মেয়ে স্ত্রী আমেনা বেগম তার স্বামী আলমগীর হোসেন সৌদি আরব প্রবাসে থাকার সুবাদে ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে তোলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম গ্রামের দুবাইপ্রবাসী দেশে ফেরত এক সন্তানের জনক ‍যুবক শাকিল আলীর সাথে।

দিন যায় মাস যায়- তাদের সম্পর্ক আরো গভীর হতে থাকে। আমেনা বেগম একসময় সিদ্ধান্ত নেন তার প্রেমিকের কাছে চলে যাবেন। কথা অনুযায়ী বাসার স্বর্ণালঙ্কার কাপড় ভরে নিয়ে গত ৭ জুলাই চলে যান পরকীয়া প্রেমিক শাকিল আলীর কাছে।

এরপর আমেনা বেগম তার প্রবাসী স্বামী আলমগীরকে নোটারি পাবলিক ক্লাব ও কাজী অফিসের নিকাহ তালাক রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে একতরফা তালাক প্রদান করে তিনি তার স্বামীকে মুক্ত করে দেন। পরে দুবাইয়ে প্রবাসী দেশে ফেরত এক সন্তানের জনক শাকিল আলীর সাথে কাজীর কাছে বিবাহের কাবিননামা রেজিষ্ট্রেশন করেন।

জানা যায়, বিয়ের পর শাকিল আলী তার পরকীয়া প্রেমিকা আমেনা বেগমকে পালিয়ে নিয়ে আসেন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামে। সেখানে অবস্থান করতে থাকলে এরই মাঝে আমেনা বেগমের বাবা আবুল কালাম ভূইয়া মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় গত ৮ জুলাই কুমিল্লা দক্ষিণ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করে। যার জিডি নং- ৪৭৩।

সাধারণ ডাইরি মূলে পুলিশ মোবাইল ফোনের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চায়। এই প্রেক্ষাপটে বালিয়াডাঙ্গী থানার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন ও তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে আমেনা বেগমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরকীয়া প্রেমিক দুবাইপ্রবাসী শাকিল আলী পালিয়ে যান।

পুলিশ আমেনা বেগমকে থানায় নিয়ে আসার পর তার বাবা আবুল কালাম ভূইয়াকে মেয়ে উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হলে তিনি থানায় এলে এসময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আমেনা বেগম বিষয়টি প্রকাশ করেন। পরে পুলিশ আমেনা বেগমকে তার বাবার জিম্মায় দিলে তিনি মেয়েকে নিয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম ভূইয়ার মেয়ে আমেনা বেগমের সাথে ২০ বছর আগে আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়। ঘর সংসার করাকালে তাদের চার সন্তান হয়।

বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ফিরোজ কবির জানান, আমজানখোর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রাম থেকে পরকীয়া প্রেমিকাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তার পরিবারকে জানানো হলে তার বাবা থানায় এসে তার মেয়েকে নিজ জিম্মায় নিয়ে যান।

সর্বশেষ সংবাদ

কোটা সংস্কারের দাবিতে রেলপথ অবরোধ রাবি শিক্ষার্থীদের
টাঙ্গাইলে বানভাসিদের মানবেতর জীবনযাপন, ডায়রিয়ার প্রকোপসহ ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ!
ফেসবুকের প্রেমে চার সন্তান রেখে পালিয়ে যায় প্রবাসীর স্ত্রী
মিয়ানমারকে ধ্বংসের চেষ্টায় নেমেছে জান্তা : জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বরদাশত করা হবে না: ডিএমপি
প্রবাসী ছোট ভাইয়ের মরদেহ আনতে গিয়ে বড় ভাইয়ের মৃত্যু
নেপালে ভূমিধসে যাত্রীবাহী দুই বাস নদীতে, নিখোঁজ ৬০
জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে ডিএনসিসির ৫ হাজার কর্মী
স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রেতাত্মারা কোটা আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: আইনমন্ত্রী
পানির নিচে ঢাকার সড়ক ও অলি-গলি, সময় নিয়ে বেরোতে বলছে ডিএমপি
বিকেলে কোটা আন্দোলনকারীদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ
আবারও ভয়ঙ্কর রূপে করোনা, সপ্তাহে মৃত্যু ১৭০০ মানুষের
ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্রীড়া সাংবাদিক সাইদ সাদীর একক চিত্র প্রদর্শনী
১০১ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন লেগ স্পিনার রিশাদ
অনন্ত-রাধিকার বিয়েতে চাঁদের হাট, অতিথি থাকছেন যারা
৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল কানাডা
ছুটির সকালে ঢাকা ভিজছে বৃষ্টিতে, রাস্তায় পানি জমে ভোগান্তি
বাবার সাথে জমিতে হাল চাষের সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ছেলের
আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ফাইনালে ব্রাজিলের ৫ রেফারি
পটিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ নিহত ৪