শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪ | ৬ বৈশাখ ১৪৩১
Dhaka Prokash

অপরিকল্পিত নগরায়ণে ট্র্যাজেডি আসে, ট্র্যাজেডি যায় !

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড কিংবা ট্র্যাজেডি নতুন কিছু নয়। কিছুদিন পর পরেই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। পুরান ঢাকার নিমতলী থেকে বেইলি রোড। এর মধ্যেই ঘুরে ফিরেই যত দূর্ঘটানা। একটি ট্র্যাজেডির রেশ কাটতে না কটেতেই নতুন করে হাজির হচ্ছে অন্য একটি। যেন ট্র্যাজেডি আসে, ট্র্যাজেডি যায়। এসব দূর্ঘটানায় মৃত্যু আর আহাজারিতে ভারী হয় ঢাকার বাতাস। 

আর এসবের পুনরাবৃত্তির মূলে রয়েছে নগরের বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা। মানুষের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে শহরে গড়ে উঠছে বড় বড় অট্টালিকা। গ্রিন কোজি কটেজের মতো শহর জুড়েই ভবনে ভবনে গড়ে উঠেছে হোটেল-রেস্তরাঁ। এসব ভবনে চুলার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সিলিন্ডারের গ্যাস। ক্রেতাদের উঠানামার সিঁড়ি বা লিফট নেই পর্যাপ্ত। এ কারণে এসব ভবন হয়ে উঠেছে অনেকটা টাইম বোম।

বেইলি রোডেই রাস্তার দু’পাশেই অসংখ্য রেস্তরাঁ। এসব রেস্তরাঁর ভবনে আছে আবাসিক ফ্ল্যাটও।

কোনো কোনো ভবনের নিচে বা উপরে আছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। বৃহস্পতিবার গ্রিন কোজি কটেজ নামে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ভবনটির আশপাশে একই ধরনের বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন রয়েছে। কিছু ভবনের প্রথম ৪ থেকে ৫ তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ভাড়া দেয়া হয়েছে রেস্তরাঁ, কফিশপ কিংবা শপিংমল। রেস্তরাঁর কর্মীরা জানান, ওই এলাকায় অন্তত ৫০টি রেস্তরাঁ রয়েছে। একাধিক বহুতল ভবনে অন্তত ৮ থেকে ১০টি করে রেস্তরাঁ রয়েছে। রেস্তরাঁয় রান্নার কাজে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রেস্তরাঁগুলোর মাঝে কাঁচের দেয়াল দিয়ে আলাদা করা। নেই ভেন্টিলেশনের কোনো ব্যবস্থা। ওয়াসিস রেস্তরাঁর একজন কর্মী বলেন, এই ভবনে বার্গার এক্সপ্রেস, সেশিয়েট, ক্যাফে জেলাটেরিয়া নামের রেস্তরাঁ রয়েছে। শুধু আমরা ছাড়া ভবনের সবাই সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে। আগুন লাগা গ্রিন কোজি কটেজের পাশেই আরেকটি বহুতল ভবন রয়েছে। এই ভবনেও কেএফসি, পিজ্জাহাট, দোসা এক্সপ্রেস, সেভেন পিক, থ্রিথ্রি ও সিক্রেট রেসিপি নামের রেস্তরাঁ রয়েছে। ভবনটিতে আন্ডারগ্রাউন্ডের পেছনের অংশে অরক্ষিত অবস্থায় একাধিক গ্যাসের সিলিন্ডার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে দেখা গেছে। তবে এসব সিলিন্ডারে গ্যাস না থাকার কথা জানান সেখানকার এক কর্মী। ওই ভবনের চতুর্থতলার রান্নাঘরে সারি সারি গ্যাসের সিলিন্ডার রেখে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনের একটিমাত্র সিঁড়ি ঘেঁষেই এমন অবস্থা দেখা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, আশপাশের বিল্ডিংগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে। আবারো টিম যাবে। আবার তাদের সতর্ক করা হবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য যা যা করার দরকার তাই করি। রাজউক, সিটি করপোরেশন, তিতাস যে যার যার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করলে আর আমরা সচেতন হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে পারি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, আশপাশের সব ভবনেই আমরা নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু আমরা তো জোর করে তাদের উচ্ছেদ করতে পারছি না। আমরা নোটিশ দিচ্ছি এবং অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিচ্ছি। ফায়ার সেফটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের বার বার তাগাদা দিচ্ছি। এসব বিষয় আমাদের মন্ত্রণালয়েও জানিয়ে দিচ্ছি।

রাজধানীর ধানমণ্ডির গাউছিয়া টুইন পিক। ১৬ তলাবিশিষ্ট এই ভবনে কাপড়ের দোকান, শোরুমসহ অন্তত দেড় ডজন রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি বড় বাফেট লাউঞ্জ। বাকিসব চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। এসব রেস্টুরেন্টের রান্নাও করা হয় এই ভবনেই। তবে নেই ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। কয়েকটিতে দু-একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকলেও কর্মচারীরা জানেন না ব্যবহারবিধি। এমন বেশ কিছু ভবন রয়েছে ধানমণ্ডিতেই। সাতমসজিদ রোডের দুই পাশেও অসংখ্য আবাসিক ভবনে রয়েছে নামিদামি রেস্টুরেন্ট। ধানমণ্ডির ১৫/এ- তে এমন একটি ভবন রয়েছে, যার স্থপতি মুস্তাফা খালিদ। তিনি শুক্রবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনুরোধ করেছেন কেউ যেন ওই ভবনে না যান। কারণ হিসেবে বলেছেন, ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। নকশা এবং অনুমোদন বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে হলেও এর ব্যবহারে বড় রকমের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সার্বিকভাবে একে সমূহ অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ রেস্তরাঁ ভবনে রূপান্তর করা হয়েছে।

ঢাকার খিলগাঁও এলাকা। গত কয়েক বছরে ওই এলাকাটি আবাসিক থেকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকে রূপ নিয়েছে। কোথাও নেই কোনো রকম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওই এলাকার প্রধান সড়ক যেটি শহীদ বাকী সড়ক নামে পরিচিত তার দুই পাশে শত শত রেস্তরাঁ গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবনে। এমনও ভবন আছে যার প্রত্যেক ফ্লোরে রয়েছে রেস্টুরেন্ট। কোনো কোনো ভবনের ছাদেও করা হয়েছে রেস্তরাঁ। উঠানামার জন্য বানানো হয়েছে দুই-তিন ফুট চওড়া অস্থায়ী সিঁড়ি। লাগানো হয়েছে ওয়ানটাইম লিফটও। আবার এমন ভবনও আছে যেখানে রেস্তরাঁ, আবাসিক ফ্ল্যাট এমন কি শিশুদের স্কুলও আছে।

ঢাকার সর্বত্রই এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ রেস্তরাঁ, শপিংমলসহ আবাসিক-বাণিজ্যিক সংমিশ্রণের ভবনগুলো। ফায়ার সার্ভিসের চালানো একটি সমীক্ষা বলছে, রাজধানীর ৯০ শতাংশ ভবন অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২৩ শতাংশ ভবন। বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ব্যানার টানাতেও দেখা গেছে ফায়ার সার্ভিসকে। তাতেও টনক নড়েনি কারও। মালিকরাও গুরুত্ব দিচ্ছেন না ফায়ার সার্ভিসের দেয়া সতর্ক বার্তাকে।

ভবনের সুরক্ষা প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, ভবন তৈরি করতে প্রাথমিক নিয়মই অনেকে মানে না। ভবন তৈরির পর আরও কিছু কাজ থাকে। ফায়ার সেফটির কাজ থাকে। সেগুলোও অনেকে মানতে চায় না। আমরা সতর্ক করছি। নোটিশ দিচ্ছি। সামগ্রিকভাবে সবাই সচেতন না হলে তো হবে না। সিকিউরিটিকে যেমন গুরুত্ব দেয়া হয়, সেফটিকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় না। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা ফায়ার সেফটির প্ল্যান দেই। এটা একটা প্রেসক্রিপশনের মতো। বাণিজ্যিক ভবন, শিল্প ভবন কিংবা আবাসিক ভবন অনুযায়ী আমরা আলাদা প্ল্যান দেই। সেটা দেখে বাস্তবায়ন করলে ভবন সুরক্ষিত থাকে।

বেইলি রোডের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয় বরং অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহ-সভাপতি স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে অব্যবস্থাপনার নগরে পরিণত হয়েছে ঢাকা। রাজউকসহ ছয়টি সংস্থা ভবনের বিভিন্ন অনুমোদন দেয়। কিন্তু এই অনুমোদন অনুযায়ী ভবনগুলো যথাযথ হচ্ছে কিনা, ব্যবহার হচ্ছে কিনা এগুলো দেখভাল না করার কারণে চোখের সামনে এই ধরনের মৃত্যুকূপগুলো তৈরি হচ্ছে। এগুলো হলো অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড। এসব হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার, প্রতিকার বা প্রতিরোধ গড়ে তোলা যদি না হয় তাহলে তার পুনরাবৃত্তি হবে সেটাই স্বাভাবিক। বৃহস্পতিবার তাই হয়েছে। এটা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ছাড়া অন্যকিছু নয়।

তিনি বলেন, একইরকম অসংখ্য ভবন বেইলি রোড, সাত মসজিদ রোড, বনানী-১১ অথবা মিরপুর-২ এ তৈরি হয়ে ‘টাইম বোমা’র মতো বসে আছে। রান্না প্লাজার মতো ঘটনা আমাদেরকে মাত্র দেড় বছরে পুরো একটি শিল্পখাতকে কমপ্লায়েন্স এ পরিবর্তন করে ফেলেছে। এতে বোঝাই যাচ্ছে আমাদের সামর্থ্য রয়েছে। শুধুমাত্র সিরিয়াস রাজনৈতিক ইনটেনশন দরকার। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এর উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করি না। ফায়ার সার্ভিসের বার বার নোটিশ দেয়া প্রসঙ্গে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংস্থা কি করে বলে তাদের (গ্রিন কোজি কটেজ) নোটিশ দিয়েছি। তাদেরকে তো সনদও দেয়া হয়েছে। সনদ দিলো কে?

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক মো. তানহারুল ইসলাম বলেন, রেস্তরাঁ করতে হলে বাণিজ্যিক ভবনে করতে হবে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের একটা লাইসেন্স নিতে হবে। আবাসিক ভবনে রেস্তরাঁ করা যাবে না। রেস্তরাঁ করলেও লাইসেন্স দেয়া হবে না।

খবর: মানবজমিন

স্বচ্ছতার সাথে অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বক্তব্য রাখছেন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ছবি: সংগৃহীত

স্বচ্ছতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে চলচ্চিত্র বাছাই কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, 'স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় যাতে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান প্রদান করা হয়, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা যাতে অনুদানের জন্য বাছাই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন, সরকার সেটিও নিশ্চিত করতে চায়।'

সরকারি অনুদান প্রদানের জন্য স্বচ্ছতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে চলচ্চিত্র বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদানের স্ক্রিপ্ট বাছাই কমিটির সামনে প্রস্তাবিত চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা শুরু হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুদান প্রাপ্তির জন্য আবেদনকৃত মোট ১৯৫ টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত ৪৫ টি চলচ্চিত্রের পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা শুরু হয়েছে।

এ দিন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা দেখে চলচ্চিত্রগুলোকে স্ক্রিপ্ট বাছাই কমিটির সদস্যরা গোপনীয়ভাবে আলাদা আলাদা নম্বর প্রদান করেছেন। এ সময় চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির সদস্যরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাছাই কমিটির সদস্যরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত বিভিন্ন মানদন্ডের উপর ভিত্তি করে আবেদনকৃত চলচ্চিত্রের প্রস্তাবনার উপর আলাদা আলাদা ভাবে নম্বর প্রদান করছেন। পরবর্তীতে সকল সদস্যদের নম্বরগুলো গড় করে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া আবেদনগুলো অনুদানের জন্য বিবেচিত হবে। সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার স্বার্থে এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, যুগ্ম সচিব মো. কাউসার আহাম্মদ, উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদানের স্ক্রিপ্ট বাছাই কমিটির সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিফফাত ফেরদৌস, চলচ্চিত্র নির্মাতা মো. মুশফিকুর রহমান গুলজার, অভিনেত্রী ফাল্গুনী হামিদ ও আফসানা মিমি, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটারও পারফরম্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মতিন রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী চলচ্চিত্রের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন।

শিশু হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শিশু হাসপাতালের কার্ডিয়াক আইসিইউ-তে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) ২টা ৩৯ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসপাতালের বি ব্লকে আগুন লেগেছে। আগুনের চেয়ে ধোঁয়া একটু বেশি ছড়িয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ইতিমধ্যেই সব রোগীদের আমরা সরিয়ে নিয়ে আসছি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। তবে আশঙ্কা করছি এসি থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে।

এর আগে দুপুর ১টার পর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট। এরপর আগুন নিয়ন্ত্রণে সিদ্দিক বাজার থেকে একটি ইউনিট, তেজগাঁও থেকে আরেকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ছাড়া আগুনে হতাহতেরও কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের পঞ্চম তলায় কার্ডিয়াক বিভাগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। গরমের কারণে হাসপাতালটিতে রোগী ও আত্মীয়স্বজনের চাপ ছিল। প্রায় প্রতিটি বেডেই রোগী ছিল।

তীব্র গরমের মধ্যেই ঢাকাসহ তিন বিভাগে ঝড়-শিলাবৃষ্টির আভাস

ঝড়-শিলাবৃষ্টির আভাস। ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন অবস্থা। এপ্রিল মাসের বাকি সময় জুড়ে এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের তিন বিভাগে সুখবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই তিন বিভাগে ঝড়সহ শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টায় দেওয়া বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং দিনাজপুর, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলাসহ ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এ দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

পরের দিন ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গো কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

তাপমাত্রা সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়াও রোববার ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এদিন দেশের সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কিশোরগঞ্জের নিকলিতে।

সর্বশেষ সংবাদ

স্বচ্ছতার সাথে অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
শিশু হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
তীব্র গরমের মধ্যেই ঢাকাসহ তিন বিভাগে ঝড়-শিলাবৃষ্টির আভাস
ফরিদপুরে মন্দিরে আগুন, সন্দেহের জেরে গণপিটুনিতে ২ ভাই নিহত
রাজধানীর শিশু হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট
জাতীয় পতাকার নকশাকার শিব নারায়ণ দাস মারা গেছেন
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর অস্বীকার ইরানের, তেহরানে বিমান চলাচল স্বাভাবিক
নওগাঁয় ভুয়া সিআইডি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
মানুষ এখন ডাল-ভাত নয়, মাছ-মাংস নিয়ে চিন্তা করে: প্রধানমন্ত্রী
দাঁড়িয়ে থাকা বাসকে পিকআপের ধাক্কা, ১০ পোশাককর্মী আহত
নতুন রেকর্ড গড়ে ইউরোপা লিগের সেমিতে লেভারকুসেন
ইরানে ইসরাইলের হামলা: লাফিয়ে বাড়ছে তেল ও স্বর্ণের দাম
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এলেন আরও ১৩ বিজিপি সদস্য
চুয়াডাঙ্গায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার লক্ষ্যে কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে সেমিনার
ইরানে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, ডিপজলকে শোকজ
টাঙ্গাইলে সেরা ওসি হলেন আহসান উল্লাহ্, পেলেন শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পুরস্কার
দেশে প্রতিদিন সড়কে প্রাণ হারাচ্ছেন ১৬ জনের বেশি
টানা তিনদিন চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, হিট অ্যালার্ট জারি
তীব্র গরমে পশ্চিমবঙ্গে স্কুল ছুটি ঘোষণা