মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪ | ২ বৈশাখ ১৪৩১
Dhaka Prokash

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না

নতুন বছরের শুরু থেকেই রাখাইনে আপাতত শান্তি বিরাজ করছে। এর আগের কয়েক মাস রাখাইন ও চীন রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রচণ্ড সংঘর্ষ চলায় সেখানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। নিপ্পন ফাউন্ডেশনের মধ্যস্থতায় আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধ বিরতির ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

কিছুদিন পর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে আসছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা। ঠিক এই সময়ে গত ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখার ওপারে রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা স্যালভেশন অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে সংঘর্ষের পর শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শিবির জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে এলাকাটি আরএসওর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাখাইনের পরিস্থিতি একটু শান্ত হলে এবং প্রত্যাবাসন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হলেই সাধারণত মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তে ও ক্যাম্পগুলোতে এ ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।

বর্তমানে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার, মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এপিবিএনের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা শিবিরে নির্যাতন, হয়রানিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও শক্তি প্রদর্শনের জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে, আশ্রয়শিবিরে আত্মগোপনকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে যা আশঙ্কাজনক। এ সব অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাতে পারে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকার থাকার কারণে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। সীমান্তের ওপারে এ সব অস্ত্র থাকায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে অভিযান চালিয়ে এগুলো উদ্ধার করতে পারছে না।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে মাদক ও মানবপাচারের জন্য পরিচিত মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে এ সব অস্ত্রের চালান আসে। আরাকান আর্মিও থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনে, তাদের কাছে চীনের তৈরি অস্ত্র এবং গোলাবারুদও আছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে নবী হোসেনের দল প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদল। বলা হয়ে থাকে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে এবং তাদের সহযোগিতায় সে এই সন্ত্রাসীদল গঠন করেছে। মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে নবী হোসেন। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মাদকের চালান আসে নবী হোসেনের দলের মাধ্যমে, তারা মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে গড়ে ওঠা অনেক ইয়াবা ও আইসের কারখানাও নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৯৬ শতাংশ ইয়াবা টেকনাফ দিয়ে বাংলাদেশে আসে এবং বহু রোহিঙ্গা এই কাজে জড়িত।

বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো মাদকপাচারের পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি ও নানা ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরসা ও আল-ইয়াকিন বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করছে। এ সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর নেতারা ক্যাম্পগুলোতে বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এই দলগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিরোধী এবং তাদের নেতারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় না। এজন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ চলমান এবং সুযোগ পেলেই তাদের নেতাদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে।

নানা ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে আরসা ও আল-ইয়াকিন রোহিঙ্গাদের স্বার্থ রক্ষাকারী পক্ষের শক্তি নয় বরং তারা মিয়ানমারের চলমান পরিকল্পনার পক্ষে। বাংলাদেশের ভেতরে এ ধরনের সশস্ত্র সংগঠনের অপতৎপরতা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তারা মিয়ানমারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকিয়ে রাখতে চায়। মিয়ানমার একদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কথা বলছে অন্যদিকে সন্ত্রাসী দলগুলোকে মদদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পগুলোকে অশান্ত করে রাখছে এবং এ সব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গাদেরকে সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সন্ত্রাসী দলগুলো যে কোনো সময় গোলাগুলি, খুন, চাঁদাবাজি, মাদক পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। গত পাঁচ বছরের বেশি সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৩৫টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মাদক, অস্ত্র, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, মানব পাচার, সোনা চোরাচালানসহ ১৪ ধরনের অপরাধের অভিযোগে ৫ হাজার ২২৯টি মামলা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন ব্লকের মাঝি ও জিম্মাদার, এ খুনগুলোর জন্য মিয়ানমারভিত্তিক সংগঠন আরসাকে অভিযুক্ত করা হয়।

বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছোটবড় শতাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাও নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছে। মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলগুলোর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবাধ যাতায়াত ও সেখানে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে ও এই সমস্যা সমাধান করা বেশ কষ্টসাধ্য। ক্যাম্প এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা শনাক্ত এড়াতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ওয়াকিটকি এবং মিয়ানমার পোস্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনসের (এমপিটি) সিম ব্যবহার করে। এমপিটি ২০১৯ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে ১২টি টাওয়ার স্থাপন করেছে। এর ফলে ক্যাম্পের যেকোনো ঘটনা মিয়ানমার সাথে সাথে জেনে যায় যা রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার জন্য উদ্বেগজনক।

এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ক্যাম্প ও সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ক্যাম্পে নজরদারি বাড়াতে হবে সেইসঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় শরণার্থীদের মানবিক সেবায় নিয়োজিত দেশি ও আন্তর্জাতিক এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং তা কাটিয়ে উঠতে প্রশাসন কাজ করছে। ক্যাম্প পরিচালনা ও শরণার্থীদের তদারকির জন্য মাঝিদের নেতৃত্বে ‘ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠিত হয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পে ৪০ থেকে ১২০ জন হেড মাঝি ও সাব-মাঝি নিয়ে এই ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩ ক্যাম্পে প্রায় আড়াই হাজার হেড মাঝি ও সাব-মাঝি রয়েছে। উখিয়ার ১১টি ক্যাম্প ৮ এপিবিএনের অধীনে এবং ১৪ এপিবিএনের অধীনে রয়েছে ১৫টি। প্রায় সোয়া ৯ লাখ রোহিঙ্গা এই ২৬টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। আরও সাড়ে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা টেকনাফের সাতটি ক্যাম্পে থাকে। ক্যাম্পগুলোতে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রাতের বেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্টসাধ্য হলে ও সামনের দিনগুলোতে ক্যাম্পে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আরসা ও আল-ইয়াকিনের সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা মিলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ জরুরি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গে সম্পৃক্তদের গ্রেফতারের আওতায় আনা হচ্ছে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও হতাহত হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসীদের দমন ও শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে যৌথ অভিযান চলার পরও সংঘর্ষ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্তের নিরাপত্তাহীনতা শুধু বাংলাদেশ নয়—গোটা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বহু প্রতীক্ষিত মিয়ানমার বিষয়ক একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার পরও মিয়ানমারের পরিস্থিতির তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যেকোনো ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং টেকসই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার প্রতিবছর ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করছে। ২০২১ সালে এই খরচের পরিমাণ ছিল ১.২ বিলিয়ন ডলার। রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমার এবং এর সমাধানও সেখানেই রয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চায়। বাংলাদেশ সরকার এরপরও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করে যাচ্ছে। মানবতার ক্ষেত্রে উদারতা দেখালেও নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো ছাড় দেবে না বাংলাদেশ। আরসা ও আরএসওর পারস্পরিক সংঘাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পাচ্ছে এবং দিন দিন তা আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। রোহিঙ্গাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সংগঠিত বৃহত্তর জোট আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (এআরএনএ) আরসা, আরএসও ও অন্যান্য দলগুলোকে সাথে নিয়ে দ্রুত এধরনের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে এনে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ তথা আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের যে কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম শক্ত হাতে দমন করতে হবে এবং কোনোভাবেই ক্যাম্পগুলো সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান মো. শামসুদ্দীন: এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এম ফিল, মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক

আরএ/

নাবিক সাব্বিরের মুক্তির খবরে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে বইছে খুশির বন্যা!

ছেলেকে ছাড়াই দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন অপহৃত জাহাজের নাবিক সাব্বিরের বাবা হারুন অর রশিদের পরিবার। ঈদের দিনটি তাদের কাছে আনন্দের বদলে ছিল বিষাদময় একটি দিন। ছেলে কখন জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাবে সে অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সবাই। এদিকে ঈদের পরে নববর্ষের দিন (১৪ এপ্রিল) টিভিতে ছেলেসহ সবাই মুক্তি পেয়েছে এটা শুনে নববর্ষে তাদের পরিবারে ঈদের আন্দের ঢেউ বয়ে যায়।

তারপর ছেলে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায় সে ভালো আছে- আর চিন্তার কিছু নেই। তারপরও অপেক্ষায় আছেন, ছেলে কবে ঘরে ফিরে আসবে! আবেগে আপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন নাবিক সাব্বিরের বাবা হারুন অর রশীদ। নাবিক সাব্বিরের মুক্তির খবর শুনে তার পরিবারে খুশির বন্যা বইছে। ভর করেছে ঈদের আনন্দ।

নাবিক সাব্বির। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

 

সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিক সাব্বির হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামে। সেখানেই কথা হয় হারুন অর রশিদ ও তার পরিবারের অন্যদের সঙ্গে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাগরপুরের সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে থেকে এসএসসি পাস করেন মো. সাব্বির হোসেন। টাঙ্গাইল শহরের কাগমারি এমএম আলী কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্যবাহী জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরি নেন।

সাব্বিরের মা সালেহা বেগম ঢাকাপ্রকাশকে জানান, সাব্বিবের সাথে মোবাইল ফোনে একটু সময় কথা হয়েছে। সে বলেছে- ‘মা চিন্তা করো না, আমরা মুক্তি পেয়েছি- সবাই ভালো আছি’। এ কথা শোনার পর যেন বুকের জগদ্দল পাথরটা সরে গিয়ে মনটা ভরে উঠল। ছেলের দুশ্চিন্তায় ঈদের দিন আনন্দ করতে পারেন নাই। দীর্ঘ একটা মাস কীভাবে যে কেটেছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।

নাবিক সাব্বির। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

 

পয়লা বৈশাখের দিন ছেলে যখন মোবাইলে ফোন করে বললো- ‘মুক্তি পেয়েছি ভালো আছি’ কথাটা শোনার পর থেকে তাদের পরিবারে ঈদের লহর বয়ে যাচ্ছে। ছেলেকে কাছে পেলে আনন্দটা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে জানান তার মা।

বোন মিতু আক্তার জানান, ভাইয়ের জন্য দুশ্চিন্তায় এক মাস তাদের পরিবার বিষাদে কাটিয়েছে। বৈশাখের সকালে এক-দুই মিনিটের মতো ভাইয়ের সাথে তিনি ও বাবা-মা কথা বলেছেন। ভাই বলেছে ‘তারা সবাই ভালো আছে- সুস্থ আছে’। এ কথা শোনার পর তাদের খুব ভালো লাগছে- খুব খুশি লাগছে। তবে আনন্দটা আরও বেড়ে যাবে তার ভাই পরিবারের কাছে ফিরে এলে। তার ভাই সাব্বির কবে দেশে আসবে তা এখনও বলতে পারছেন না।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান জানান, এখনও সাব্বিরের পরিবারের সাথে তার কথা হয়নি।

উল্লেখ্য, এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি গত ১২মার্চ ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। ওই জাহাজের ২৩ নাবিককে জিম্মি করা হয়। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারামিয়া বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

উপজেলা নির্বাচন: বিরামপুর ও ঘোড়াঘাটে ৩৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

বিরামপুর ও ঘোড়াঘাটে ৩৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ১ম ধাপে আগামী ৮ মে অনুষ্ঠাতব্য দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা পরিষদ ও ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সোমবার (১৫ এপ্রিল) এই দুই উপজেলার ৩৫ প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

বিরামপুর উপজেলায় মনোনয়ন জমা দানকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ হলেন, জামায়াতের ইসলামীর দিনাজপুর জেলা নায়েবে আমীর ডক্টর এনামুল হক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজ কবীর ও উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান।

বিরামপুর ও ঘোড়াঘাটে ৩৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

 

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ হলেন- খোরশেদ আলম, আতাউর রহমান, আব্দুল হাই, মেজবাউল ইসলাম মণ্ডল, মোস্তফা কামাল ও সাহেদ আলী সরকার।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ হলেন- উম্মে কুলছুম বানু, আমেনা বেগম, খাতিজা বেগম ইতি ও রেবেকা সুলতানা।

ঘোড়াঘাট উপজেলায় মনোনয়ন দাখিলকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ হলেন- রবিউল ইসলাম, কাজী শুভ রহমান চৌধুরী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সারওয়ার হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম সরকার।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- মুক্তার হোসেন, সেলিম রেজা, ইফতেখার আহমেদ, মাহফুজার রহমান, আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, শহিদুল ইসলাম, আতিকুর রহমান ও শিবু কিসকু।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ হলেন- মাজেদা বেগম, মর্জিনা বেগম, ফেরদৌসী বেগম, আফরিন সুলতানা, নারগিস খাতুন, রুসিনা সরেন, সবনম ও লাকী বেগম।

বিরামপুর উপজেলার নির্বাচন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ১ম ধাপে আগামী ৮ মে অনুষ্ঠাতব্য বিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্যে সোমবার বিকেল ৫ ঘটিকা পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা মোট ১৩ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

নওগাঁয় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে বিএনপির ৯ নেতাকর্মী কারাগারে

বিএনপির ৯ নেতাকর্মী কারাগারে। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নয় নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা সবাই হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলেন।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে আবার জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ।

আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবু মাসুম বিষয়টি ঢাকাপ্রকাশকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আদালত তাঁদের সবাইকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আমরা আবার জামিন চাইব।’

কারাগারে পাঠানো বিএনপির নেতাকর্মীরা হলেন- আত্রাই উপজেলা পাঁচুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী বাবু, আত্রাই উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান বুলেট, পাঁচুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পারভেস, আয়নুল, আত্রাই উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ, আত্রাই উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল, রায়হান, ওহাব ও লাবু।

বিএনপির ৯ নেতাকর্মী কারাগারে। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ নভেম্বর আত্রাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শান্তি মিছিলের আয়োজন করে। মিছিলটি ভড়তেঁতুলিয়া আহসানগঞ্জ স্টেশন হইতে আত্রাই আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস সামনে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে শান্তি মিছিল নিয়ে উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া এলাকায় আমতলী সিএনজি স্ট্যান্ডে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই দিন আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্কাস আলী প্রামাণিক বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। এ মামলায় ওই নয়জন গত ২৮ফেব্রুয়ারি আট সপ্তাহের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান। জামিনের মেয়াদ শেষে আজ নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে মামলার এজহারভুক্ত বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নয় নেতা-কর্মী পুনরায় জামিনের আবেদন করেন।

আসামি পক্ষে জামিনের শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবু মাসুম। তবে জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল খালেক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

সর্বশেষ সংবাদ

নাবিক সাব্বিরের মুক্তির খবরে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে বইছে খুশির বন্যা!
উপজেলা নির্বাচন: বিরামপুর ও ঘোড়াঘাটে ৩৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল
নওগাঁয় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে বিএনপির ৯ নেতাকর্মী কারাগারে
প্রথম ধাপে ১৫০ উপজেলায় ১৮৯১ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল
ইরানের হামলার পর কমলো তেলের দাম
হিলি স্থলবন্দরে টানা বন্ধের পর আমদানি-রপ্তানি শুরু
মুস্তাফিজের আইপিএলে খেলার ছুটি বাড়াল বিসিবি
নরসিংদীতে ইউপি সদস্যকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা
৫৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস
‘একীভূত হচ্ছে পাঁচ ব্যাংক, বাকি সিদ্ধান্ত পরে’
ঢাকায় পৌঁছেছেন টাইগারদের নতুন কোচ নাথান কিয়েলি
বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপির জন্ম: ওবায়দুল কাদের
গোবিন্দগঞ্জে অটোচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রামে ২টি বস্তিতে আগুন, পুড়ল ২০০ ঘর
পার্পল ক্যাপের লড়াইয়ে মুস্তাফিজের অবস্থান এখন কোথায়?
পাঁচ দিনের ছুটিতে পদ্মা সেতুতে ১৪ কোটি টাকা টোল আদায়
মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে: জাতিসংঘের মহাসচিব
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশের ১৬০ কেজি ওজনের পাঙ্গাস
প্রবাসী আয়ের শীর্ষে ঢাকা, তারপর চট্টগ্রাম সিলেট কুমিল্লা
প্রথমবারের মতো কান চলচ্চিত্র উৎসবে সৌদি আরবের সিনেমা