বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Dhaka Prokash

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঐতিহ্যের সন্ধানে

এসএসসি পাস করার পর ভর্তি হলাম রাজশাহী কলেজে। বাংলাদেশের তৃতীয় প্রাচীনতম কলেজ। এই কলেজ থেকেই এইচএসসি পাস করেছিলাম ১৯৮১ সালে। সাইন্স, আর্টস এবং কমার্স মিলিয়ে আমাদের ব্যাচের আমরা ছিলাম প্রায় ৭৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী। এর বহু বহু বছর পর আমাদের ব্যাচের পুরনো বন্ধুরা একত্রিত হয় গড়ে তুলেছি একটি সংগঠন, যার নাম ৮১’র বন্ধন।

৮১’র বন্ধনের ৪০ বছর পুর্তি এবং ৩য় পুনর্মিলনীর আয়োজন চলছিল অনেকদিন ধরে। কোভিডের কারণে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে সকল বাধার উত্তরণ ঘটিয়ে জাকজমকপূর্ন অনুষ্ঠান আয়োজন হলো এবার জানুয়ারি মাসের শেষ শুক্রবার। সারাদিন বেশ হৈ হুল্লোড় করে কাটল। পরদিন শনিবার ছিল পিকনিকের আয়োজন। আমরা আট বন্ধু পরিকল্পনা করলাম, খুব ভোরে রওয়ানা হয়ে কিছুটা বেরিয়ে এসে পিকনিকে যোগ দেবার। গন্তব্য হলো প্রাচীন গৌড়, সে এক সময়ের বাংলার রাজধানী।
ইতিহাসের নিদর্শন হিসেবে সেখানে এখনো কিছু স্থাপনা আছে, উদ্দেশে হলো সেগুলো ঘুরে দেখা।

গৌড় সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। ভারতবর্ষের মধ্যযুগে সবচাইতে সমৃদ্ধ সময়কালে বঙ্গের রাজধানী ছিল গৌড়। নগরটির নাম কখনো ছিল গৌড়, এর আগে লখনৌতি, আবার পরে কিছু কালের জন্য জান্নাতাবাদ। ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দের একটি জরিপ অনুসারে গৌড় নগরীর জনসংখ্যা ছিল ২ লক্ষ, যা ছিল তখন জনসংখ্যার হিসেবে পৃথিবীর ৫ম বৃহত্তম নগর, এবং সবচাইতে ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকা। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান দেশ বিভাগের সময় অঞ্চলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। বড় অঞ্চলটি চলে যায় ভারতের অধীনে, ছোট অংশটি পড়ে পুর্ব পাকিস্তান, বা আজকের বাংলাদেশের অধীনে, বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে।

ঐতিহাসিকভাবে ভারতবর্ষ এবং চীনের সমৃদ্ধির ইতিহাস নিয়ে নানা উপাখ্যান আছে। এগুলোর সত্যতা ও যথার্থতা যাচাই করতে গত শতাব্দীর শেষদিকে Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) এর পক্ষ থেকে পৃথিবীর অর্থনীতির ইতিহাস নিয়ে একটি গবেষণা চালানো হয়। প্রখ্যাত ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ Angus Maddison-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যগুলো সিরিজ আকারে প্রকাশিত হতে থাকলে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০০১ সালে প্রকাশিত The World Economy: A Millennial Perspective বইটি ছিল এই সিরিজের অন্যতম।

এই গবেষণার উঠে আসে, খিষ্টাব্দ ১ থেকে ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অর্থনীতিতে বিশ্বে প্রথম স্থানে ছিল ভারত, ২য় স্থানে ছিল চীন। শুধু তাই নয়, গোটা বিশ্বের জিডিপির প্রায় ৩৪ শতাংশ ছিল ভারতবর্ষের, আর ২৬ শতাংশ ছিল চীনের দখলে। অন্য কোনো দেশের সম্পদ লুটপাট না করেও ১০০০ বছর যাবত বিশ্বের অর্থনীতিতে প্রথম স্থান ধরে রাখা হলো এক নজিরবিহীন ইতিহাস। এই সমৃদ্ধই হয়তো কাল হয়ে দাঁড়ায় ভারতবর্ষের জন্য। ইউরোপ থেকে বানিজ্যের নামে আসা আরম্ভ হয় ক্ষমতাবানদের। বানিজ্য আর শাসনের নামে চলে যথেচ্ছ লুটতরাজ।

১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ সরকার যখন ভারতবর্ষের দায়িত্বভার নেয়, তখনও ২৪.৫ শতাংশ জিডিপি নিয়ে ভারতবর্ষ ছিল বিশ্ব অর্থনীতির শিখরে। ১৮০০ সাল আসতে আসতে তা নেমে যায় ২০ শতাংশে, ২৯ শতাংশ নিয়ে প্রথম স্থানে উঠে যায় চীন। ১৯০০ সাল নাগাদ কমে গিয়ে তা দাঁড়ায় মাত্র ১.৭ শতাংশ । এক সময়কার স্বর্ণ ও শিল্প বানিজ্যে সমৃদ্ধ দেশটি লুটপাটের পর সব খুইয়ে কেবল কৃষিনির্ভর হয়ে পড়ে।

গৌড়ের ইতিহাস অবশ্য অনেক পুরনো। গৌড় রাজ্য এবং গৌড় শহর দুটি পৃথক বিষয়। কিছু কিছু ইতিহাসবিদ ৪র্থ শতাব্দিতে গুপ্ত সাম্রাজ্য সৃষ্টির আগেও গৌড় সাম্রাজ্য ছিল বলে অভিমত দেন। তবে সন্দেহাতীতভাবে সম্মিলিত বঙ্গের প্রথম অধিকর্তা হিসেবে যার নাম আসে, তিনি ছিলেন রাজা শশাঙ্ক। ৫৯০-৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ সময়কাল তিনি শাসন করেছিলেন। তারই সময় গৌড় শহরকে বঙ্গের (বা তৎকালীন গৌড় সাম্রাজ্যের) রাজধানী হিসেবে স্থাপন করা হয়। তারই সময় প্রথমবার বাংলায় দিনপঞ্জি প্রচলন করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে মোঘল সম্রাট আকবর পুনর্বিন্যাশ করে প্রচলন করেন।

এর পর ক্রমান্বয়ে আসে পাল বংশ ও সেন বংশ। মূলত বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বংশোদ্ভূতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বঙ্গ তথা ভারতবর্ষের শাসন। দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে পার্শ্ববর্তী আফগানিস্তানের শাসক ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ঘুরি। তারই আক্রমণে ১১৯৭ সাল থেকে ভারতবর্ষ ধীরে ধীরে মুসলিম শাসকদের অন্তর্গত হতে থাকে। ১২০৩ সালে বঙ্গ দখলে মোহাম্মদ ঘুরির একজন সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজী’র ইতিহাস আমরা সকলেই ছোটবেলায় পড়েছি। মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ার নিয়ে ঝটিকা আক্রমণ করে লক্ষ্মণ সেনকে পরাভূত করা হলে এর মাধ্যমেই বঙ্গে আরম্ভ হয় মুসলিম শাসকদের ইতিহাস। যা পরবর্তী সময়ে সুলতানী ও মোঘল রাজত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ১১৯৭ সাল থেকে আরম্ভ করে ১২০৬ সালে বখতিয়ার খলজীর মৃত্যুকাল পর্যন্ত কত সহস্র বৌদ্ধ সাধু হত্যা করা হয়েছিল তার হিসেব নেই। বিহারে ৪২৭ খ্রীষ্টাব্দে নির্মিত ঐতিহাসিক নালন্দা মহাবিহারটিও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল তারই নির্দেশে।

১২০৬ সালে মোহাম্মদ ঘুরির মৃত্যু হলে তার মূল সেনাপতি তুর্কি বংশোদ্ভূত কুতুব উদ্দিন আইবক দিল্লীর শাসনভার গ্রহণ করেন। তারই মাধ্যমে ভারতবর্ষ জুড়ে আরম্ভ হয় সুলতানী আমল, যা ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

এদিকে বঙ্গে খলজী সাম্রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে (১২০৮-১২১০ এবং ১২১২-১২২৭ খ্রিষ্টাব্দ) গৌড়ের অধিকর্তা ছিলেন ইওয়াজ খলজী, যিনি পরে গিয়াস উদ্দিন ইওয়াজ শাহ নাম ধারণ করেছিলেন। তারই সময়কালে ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডকে রাজশাহী পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। বঙ্গের প্রথম নৌবহর প্রচলন এবং গৌড় নগরের নিরাপত্তাবলয় নির্মাণও হয়েছিল তারই সময়ে। বঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরকে বন্যামুক্ত করার জন্য বাধ নির্মান প্রকল্প গ্রহণ করা হয় তার সময়, যা দক্ষিণ এশিয়ার সর্বপ্রথম বাধ প্রকল্প হিসেবে সুখ্যাত।

নাফিসুর রহমান: ডিস্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপ কনসালটেন্ট

Header Ad

পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁয় এক প্রসূতির সিজারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই বার আইসিইউতে নিবির পর্যক্ষেনে থাকার পর মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সেই প্রসূতি নারী সুমি খাতুন (৩৫)। মৃত্যূর খবর জানার পর সুমির পরিবারে ও গ্রামে বইছে শোকের মাতম। এমন মৃত্যূ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা গৃহবধূ সুমির পরিবার।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের বিচার দাবি করেছেন পরিবার ও প্রতিবেশি স্বজনরা।

এ বিষয়ে গত ২০ মে ‘পেটে গজ রেখেই সেলাই, আইসিইউতে’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনও প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। এর মাঝেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুমি।

সুমির পরিবার ও ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে সকালে প্রসবব্যথা শুরু হলে নওগাঁ শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় অবস্থিত একতা ক্লিনিকে নেয়া হয় ওই প্রসূতি নারীকে। সেখানে ওই দিনই সিজার করান প্রসূতি বিদ্যা ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার তানিয়া রহমান তনি। সিজারের জন্য জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করেন ডাক্তার তানিয়ার স্বামী নওগাঁ সদর হাসপাতালের অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডাক্তার আদনান ফারুক। সিজারের পরই ওই সুমি তার পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ডাক্তার তানিয়া ক্লিনিকের মার্কেটিং অফিসার আব্দুর রউফকে দিয়ে দ্রুত রোগীর পেটে সেলাই করিয়ে নেয়। তার পর রাত ১০টার দিকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয় সুমিকে। হাসপাতালে নেয়ার পর রাতেই পরিক্ষা করে জানা যায় সুমির পেটে বাড়তি কিছু একটা জিনিস রয়েছে। সেই সাথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় আর সেটার জন্য তাকে পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সম্মতিতে ফের অপারেশন করা হয়। এর ১৩দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে মারা যায় সুমি। সুমির এমন মৃত্যুতে শোকের মেছে এসেছে জেলার আত্রাই উপজেলার সন্নাসবাড়ী গ্রামে। সুমির এমন মৃত্যূ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা স্থানীয় প্রতিবেশিরারও।

স্থানীয় প্রতিবেশী ফারজানা খাতুন ও খালেদ বিন ফিরোজ বলেন, পেটে ব্যাথা উঠলো ভর্তি করা হলো সিজারের জন্য। আস্থা ও ভরসা নিয়েই তো ক্লিনিকে ডাক্তার কাছে যায় রোগী। কিন্তু একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেলো। সিজার করার কারনে কিভাবে প্রসূতি মারা যায়। অবশ্যই ভুল অপারেশন বা ভুল চিকিৎসা হয়েছে। নইলে কেন উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ থেকে রাজশাহীতে রেফার করা হলো। আর কত মানুষ অপ-চিকিৎসার কারনে মারা যাবে। মাঝে মাঝে আমরা শুনতে পাই নওগাঁয় ভুল চিকিৎসার কারনে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা। দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক এসব ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকদের।

সুমি খাতুনের খালা ফাহিমা বেগম বলেন, আমার ভাগিনীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনটি বাচ্চার এখন কি হবে। সদ্যজাত সন্তান তো পৃথিবীর আলো দেখার পরই মাকে হারিয়ে ফেললো। ভুল সিজারের কারনেই সুমির মৃত্যু হয়েছে। জড়িত সবার কঠিন শাস্তি চাই আমরা।

সুমির খাতুনের মা রহিমা বেগম বেগম বলেন, অভিযুক্তরা তাদের লোকজনের মাধ্যমে টাকার অফার দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাতে রাজি হইনি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ডাক্তাররা যখন প্রথমে সুমিকে দেখেছিল তখনই বলেছিল এই রোগীর অবস্থা খুব খারাপ নওগাঁতে প্রোপার ভাবে সিজারিয়ান করা হয়নি। তার পর যখন সেখানে অপারেশন করলো তখন ডাক্তাররা জানাই সুমির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে সামান্য গজ ছিল। যার কারনে শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলনা। দুই বার আইসিইউতে নেওয়ার পরও আমার মেয়েটাকে বাঁচানো গেলনা। আমার মেয়েটাকে নওগাঁর একতা ক্লিনিকে গরুকে সেলাই করার মত পায়ের হাঁটুর উপর উঠে সেলাই করেছিল। সব কিছুই তাদের ভুল চিকিৎসা ছিল। ওই ডাক্তার তানিয়াকে কাছে পেলে তার হাঁটুর উপর উঠে ওভাবেই সেলাই করে দিতাম। অভিযুক্ত ডাক্তার, ক্লিনিক মালিক ও এর সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করছি। আর যেন আমার সুমির মত কারো ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু না হয়।

অভিযুক্ত ডাক্তার তানিয়া রহমান তনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইনা। প্রয়োজনে ডাক্তারদের সংগঠন বা সিভিল সার্জন এর সাথে কথা বলতে পারেন। আমার যা বলার আমি কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছি। আর রাজশাহীতে সুমিকে নিয়ে যাওয়ার পর কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নয়।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশকে বলেন,‘তদন্ত কমিটি দুইটি গঠন করা হয়েছে ‘স্থানীয় তদন্ত কমিটি' ও রাজশাহী বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। স্থানীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) পরিচালকের তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই দুইটা মিলে ভূল কার নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।’

বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় আনসার সদস্য ও নৈশ প্রহরীর হাত-পা বেঁধে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ মে) দিবাগত রাতে শিবগঞ্জ বন্দরে সোনালি ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আনসার ও নৈশ প্রহরীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে তারা।

সোনালী ব্যাংক শিবগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক শাহাদত হোসেন সিরাজী জানান, সোমবার রাতে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ৮/১০ জনের মুখোশধারী সংঘবদ্ধ ডাকাতদল প্রথমে ব্যাংকের নৈশ প্রহরী আব্দুর রহমান এর হাত, পা, মুখ, বেঁধে পার্শ্ববর্তী বি, আর, ডি, সি অফিস চত্বরে বেঁধে রাখে। পরে ডাকাতদল সোনালী ব্যাংকের প্রধান ২ টি দরজার তালা ভেঙ্গে ২য় তলায় প্রবেশ করে। ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নয়ন হোসেন ও ফরহাদ হোসেন এর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ব্যাংকের স্টর রুমের হুইল ভেঙ্গে ভোল্ট রুমে প্রবেশ করতে গেলে ব্যর্থ হয়। পরে তাঁরা ২জন আনসার সদস্যর মোবাইল ও তাঁদের কাছে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান জানান, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের কোন টাকা ডাকাত দল নিয়ে যেতে পারেনি। এ ঘটনায় আজ শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে দুদকে তলব

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৬ জুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২৮ মে) এ তথ্য জানিয়েছে দুদক। এর আগে, বেনজীর আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। শিগগিরই তাকে তলবের নোটিশ পাঠানো হবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, এ বিষয়ে বেনজীর আহমেদের বক্তব্য শুনতে হবে। তার সম্পত্তির বৈধতাও থাকতে পারে। যদি তিনি বৈধতার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারে, তাহলে সম্পত্তি ফিরে পাবে। এ সময় কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে অ্যাকশন নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক আরও বলেন, বেনজির আহমেদের সম্পত্তির উৎস কোথায় তা তদন্ত করা হবে। যদি বৈধ উৎস হয়, তাহলে তিনি সম্পত্তি ফিরে পাবে, অন্যথায় রাষ্ট্র বিধি মোতাবেক তা বাজেয়াপ্ত করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ মে বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পত্তি ও ২৭টি ব্যাংকের ৩৩টি আকাউন্ট জব্দের (ক্রোক) নির্দেশ দেয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে ২৬ মে একই আদালত তিনি ও তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের আরও ১১৯টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দেরও নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নগদ অর্থের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেয় দুদক। এছাড়া, এফডিআর, সঞ্চয়পত্রসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য চেয়ে জয়েন্ট স্টক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরেও চিঠি দেয় সংস্থাটি।

এদিকে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে থাকা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও) স্থগিত করার নির্দেশও দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে, তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব এবং র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি
বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা
বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে দুদকে তলব
কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না : সাবেক সেনাপ্রধান ও বেনজির প্রসঙ্গে কাদের
এমপি আনারের ৪ কেজি মাংস উদ্ধার
খালের পাড়ে বসছে সিসি ক্যামেরা, ময়লা ফেললেই আইনি ব্যবস্থা
চুয়াডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম
বিরামপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধে স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে পটুয়াখালী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল স্পেন ও নরওয়ে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এর অজানা সব খবর
ঢাকা সফরে আসছেন আইএমও’র মহাসচিব
বেনজিরকে গ্রেফতারে আইনী কোন বাধা নেই: দুদক আইনজীবী
মানি লন্ডারিং: বেসিকের বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
আমি রেকর্ডের পেছনে ছুটি না, রেকর্ডই আমার পেছনে ছোটে: রোনালদো
তরুণরা তামাকের পেছনে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন
বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না: সৌদি
বিয়ের ১২ দিন পর জানলেন স্ত্রী একজন পুরুষ
ঘূর্ণিঝড়ে উদ্ধার কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ফায়ারফাইটারের মৃত্যু