মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০
বেটা ভার্সন
Dhaka Prokash

গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতায় মিয়ানমারে জান্তা শাসনের আরও এক বছর

১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের ২ বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে। সামরিক জান্তার ক্ষমতারোহনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনার ফলে দেশটি এক গভীর সংকটকাল পার করছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ ও দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি এখন তীব্র গৃহযুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়েছে। জান্তাবিরোধী প্রধান শক্তি পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আগের চেয়ে আরও বেশি সংগঠিত হওয়ায় দেশটিতে জান্তা শাসকগোষ্ঠী অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে এনএলডি নেতাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং পাতানো বিচারের মাধ্যমে দন্ড প্রদানের হিড়িক চলছে। সহিংসতা আর গৃহযুদ্ধের দুবছর পেরোলেও সামরিক শাসনের অন্ধকার থেকে বেরোতে মিয়ানমারকে আর কত পথ পাড়ি দিতে হবে তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে।

২০২১ সালের ১ জানুয়ারি সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে তাতমাদো নামে পরিচিত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন এনএলডি সরকারের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করে। ক্ষমতা গ্রহণের সাথেই দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি সহ বেশ কয়েকজন এনএলডি নেতাকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নেমে জান্তার বিরুদ্ধে আন্দালন শুরু করলে তাদের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়। জান্তা ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই সক্রিয় হয়ে ওঠে দেশটির বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, যা দেশটিতে গৃহযুদ্ধ অনিবার্য করে তোলে। তাতমাদোর বিরুদ্ধে সামরিক ফ্রন্টে লড়াইয়ের জন্য এনইউজির সশস্ত্র বাহিনী পিপলস ডিফেন্স ফ্রন্ট বা পিডিএফ গঠিত হয়।

তাতমাদোকে মোকাবেলায় ২০২১ সালের এপ্রিলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার বা এনইউজি নামে একটি ছায়া সরকার গঠিত হয়। এনইউজি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পিপলস ডিফেন্স ফোরাম (পিডিএফ) নামে তার সামরিক ফ্রন্ট গঠন করে। এনইউজির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ফলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পিডিএফ এর প্রতিরোধ আরো তীব্র হয়েছে। সেইসাথে যোগ হয়েছে আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তীব্র প্রতিরোধ। জান্তা সেনাবাহিনী একইসাথে পিডিএফ ও অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছে। গত বছর সেনাবাহিনী বিমান হামলা ও আর্টিলারি ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শক্তি প্রদর্শণের পরও দেশটির অধিকাংশ এলাকায় জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ কার্যত হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে, মিয়ানমারের মাত্র ১৭ শতাংশ এলাকায় জান্তা সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর দুই বছরে যুদ্ধ ও সংঘাত জীবনের সব ক্ষেত্রে মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ করে তুলেছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তার হাতে ২৮৯০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ৭৬৭ জন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে থাকাবস্থায় হত্যার শিকার হয়েছে। দুবছরে অন্তত ১৬ হাজার নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘাতের কারণে ১.২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেশের অভ্যন্তরে ঘরছাড়া হয়েছে এবং ৭০ হাজার মানুষ সীমান্তের অতিক্রম করে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা সেনাবাহিনীর এই ধ্বংসযজ্ঞকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতারোধে সামরিক সরকার ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৩ জনেরও বেশি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকার রাজনৈতিক প্রতিরোধ দমনের কৌশল হিসেবে এনএলডি নেতাদেরকে ব্যাপকভাবে গ্রেফতার করে। মিয়ানমারের কয়েক দশকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কয়েকজন গণতন্ত্রপন্থী নেতাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২৫ জুলাই জান্তা চারজন গণতান্ত্রিক নেতার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি কে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয় দেশটির সামরিক আদালত। প্রহসনের বিচারে সর্বমোট ৩৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সু চি অভ্যুত্থানের দিন থেকেই গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সাথে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেশটিকে সীমাহীন অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী সংঘাত, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাহার অর্থনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনধারণের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে, মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, যুদ্ধ ও সহিংসতা ব্যবসা-বানিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে, যা দেশটির মুদ্রা কিয়াটের দরপতনের মাধ্যমে তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিয়ানমারের সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরেই প্রভাব ফেলছে না, বরং সীমান্ত পেরিয়ে তা প্রতিবেশীদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করেছে। মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার ভারত, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। একাধিকবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে বান্দরবানের তুমব্রুতে প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

মিয়ানমারের অস্থিরতা রোহিঙ্গা সংকটকে আরও জটিল ও প্রলম্বিত করে তুলছে। প্রত্যাবাসন প্রশ্নে জান্তা সরকার বরাবরই ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে আসছে। এছাড়াও রাখাইনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরার জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ তৈরির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাখাইনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তীব্র সংঘাতের ফলে তুমব্রু সীমান্তের শূণ্য রেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এ সবের মধ্যেও ক্ষমতার বাইরে থাকা এনইউজি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার নিয়ে নিয়েছে। রাখাইনের স্বায়ত্বশাসনের জন্য যুদ্ধরত আরাকান আর্মিও রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মিয়ানমারে চলমান মানবিক সংকট দুই বছর অতিক্রম করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বৃহৎ শক্তিগুলো তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে জান্তার সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছে। মিয়ানমারের দুই প্রতিবেশী ও বৃহৎ দুই আঞ্চলিক শক্তি চীন ও ভারতের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। তবে গত বছর থেকে মিয়ানমার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে । জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দুই সদস্য রাশিয়া এবং চীন জান্তাকে সমর্থন দেওয়ায় এতকাল উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে না পারলেও সম্প্রতি নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে প্রথম রেজ্যুলেশন পাশ করতে সফল হয়েছে। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা নিধনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘বার্মা অ্যাক্ট’ও পাস করেছে। সামনের দিনগুলোতে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বাড়বে- এমনটাই ধারণা করছে বিশ্লেষকরা।

মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের গতি-প্রকৃতি এটাই ইঙ্গিত করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এর কোনো টেকসই সমাধান এখনই সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে ভূলুন্ঠিত করে নাগরিকদের উপর খড়গহস্ত হয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে দৃষ্টান্ত মিয়ানমার স্থাপন করেছে, তাকে আর দীর্ঘায়িত হতে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ ও গনতান্ত্রিক মিয়ানমার প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারত, রাশিয়ার মত শক্তিগুলো এবং জাতিসংঘ ও আসিয়ানের মত জোটগুলোর এখনই এগিয়ে আসা উচিত।

লেখক: আন্তর্জাতিক রাজনীতির গবেষক।

/এএস

পবিত্র রমজানের আগে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন রমজান উপলক্ষে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এবং আফ্রিকার বৃহত্তম মসজিদের উদ্বোধন করেছে আলজেরিয়া। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দেল মাজিদ তেবুন ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী রাজধানী আলজিয়ার্সে গ্র্যান্ড মসজিদটির উদ্বোধন করেন। খবর আল জাজিরার।

স্থানীয়ভাবে মসজিদটি জামা এল-জাজাইর নামে পরিচিত। মসজিদটিতে ২৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যের বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনার রয়েছে এবং এই মসজিদে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ একত্রে নামাজ পড়তে পারবে। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার মসজিদের পর এটিই বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ।

২৭ দশমিক ৭৫ হেক্টর জমির উপর সাত বছর ধরে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। মসজিদটির নকশা হচ্ছে আধুনিক কাঠামোর, এবং আরব ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে যোগাড় করা কাঠ ও মার্বেল মসজিদটিতে ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে হেলিকপ্টার নামার জায়গা এবং দশ লাখ বই রাখার মতো একটি পাঠাগারও রয়েছে।

মসজিদটির উদ্বোধনের ফলে আসন্ন রমজানে এখানে অসংখ্য মুসল্লির নামাজ পড়া এবং অনুষ্ঠান আয়োজন করার ব্যবস্থা হবে। উদ্বোধনের পাঁচ বছর আগে থেকেই মসজিদটি আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং আলজেরিয়া সফরে আসা রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এমনকি ২০২০ সালের অক্টোবরে মসজিদটিকে নামাজ পড়ার জন্য খুলেও দেওয়া হয়েছিল।

মসজিদটি একটি চীনা প্রতিষ্ঠান ৯০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণ করেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, মসজিদটি সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দেল আজিজ বুতফ্লিকা শখের বসে নির্মাণ করেছেন। ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়।

বুতফ্লিকা মসজিদটির নামকরণ করেছিলেন নিজের নামে এবং ২০১৯ সালে এটির উদ্বোধনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। জনগণের আন্দোলন এবং সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছিল।

জাতীয় মহাসড়কের পাশে এবং লাখ লাখ নতুন আবাসন প্রকল্পেরমাঝে অবস্থিত মসজিদটির কাজ শুরু সময় থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সমালোচকদের মতে, কাজ পাওয়ার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো আলজেরিয়া সরকারকে প্রচুর টাকা উৎকোচ হিসেবে প্রদান করেছে।

বিশ্ববাজারে আবারো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে তেলের দাম ২ থেকে ৩ শতাংশ কমেছিল। দাম কমার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এ সপ্তাহেও। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সুদহার শিগগিরই কমছে না-বাজারে এই খবর চাউর হওয়ার প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে।

সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট কমে ৮১ দশমিক ২৮ ডলারে নেমে এসেছে; অন্যদিকে ইউএস টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩৩ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ১৬ ডলারে নেমে এসেছে। রয়টার্স।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, তেলের দাম বাড়তে পারে এমন কোনো নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়নি। একদিকে ওপেক ও সহযোগী সদস্যদেশগুলো তেলের উৎপাদন হ্রাস করছে; অন্যদিকে চীনের মতো দেশে চাহিদা কমে গেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, তেলের বাজার এই দুই বিপরীতমুখী প্রবণতার মধ্যে আটকা পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গত সপ্তাহে বলেছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে জ্বালানি তেলের মজুত ৩৫ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪ কোটি ২৯ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিশ্লেষকদের নিয়ে যে জরিপ করেছিল, এই মজুত বৃদ্ধি তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা বিচ। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা বিচকে 'বঙ্গবন্ধু বিচ' ও কলাতলাী ও সুগন্ধা বিচের মাঝখানের এলাকাকে 'মুক্তিযোদ্ধা বিচ' নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণনালয়। সুগন্ধা বিচকে 'বঙ্গবন্ধু বিচ' ও 'মুক্তিযোদ্ধা বিচ' নামের আরেকটি নতুন নামকরণের সিদ্ধান্ত দিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব মো. সাহেব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়,পূর্বে পাঠানো নির্দেশনার উপর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশনাক্রমে অনুরোধ করা হলো। একই সাথে পূর্বে পাঠানো পত্রটি বাতিল বলে গণ্য করা হলো।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ নামের একটি সংগঠন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয়। সংগঠনের সভাপতি মো. সোলায়মান মিয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে কক্সবাজারের সুগন্ধা সমুদ্র সৈকতের নাম ‌‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ এবং সুগন্ধা ও কলাতলী বিচের মাঝখানের জায়গাটিকে বীর ‌‘মুক্তিযোদ্ধা বিচ’ নামকরণের দাবি জানানো হয়।

এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ এবং সুগন্ধা ও কলাতলী বিচের মাঝখানের খালি জায়গার নাম হবে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচ’।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অবশেষে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সিদ্ধান্তটি বাতিল করলো সরকার।

সর্বশেষ সংবাদ

পবিত্র রমজানের আগে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ উদ্বোধন
বিশ্ববাজারে আবারো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম
সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল
ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা
কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে ৫০ শয্যার হাসপাতালে নেই ৩১ শয্যার লোকবলও
নিয়মনুযায়ী হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পাপন
থানচিতে ২২ পর্যটককে জিম্মি করে মোবাইল-টাকা ছিনতাই
শিক্ষা সফরে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে স্কুল শিক্ষকের ‘মদপান’, ভিডিও ভাইরাল
ঢাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান
রমজান শুরু হতে পারে ১১ মার্চ থেকে
গাজা যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ভারতীয় মুসলমানদের ওপর
টাঙ্গাইলে শিক্ষক হত্যা: ১১ দিনেও গ্রেফতার হয়নি পলাতক ২ আসামি
রাষ্ট্রপতির কাছে যে পরিকল্পনা তুলে ধরতে চায় দুদক
বিশ্বজয়ী হাফেজ বশির আহমেদকে ছাত্রলীগের সংবর্ধনা
তিনমাসে ভিন্ন নাম-ঠিকানায় ১৪৩ রোহিঙ্গার হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট
আরবি লেখা পোশাক পরায় পাকিস্তানে কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা
গ্রামে চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পাকিস্তানে প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হলেন নওয়াজকন্যা মরিয়ম
দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত
টাঙ্গাইলে নাহিদ হত্যার রহস্য উদঘাটন: মা-ছেলেসহ গ্রেফতার ৫