সারাবিশ্ব
সৌদি যুবরাজের ক্ষমতা কি সংকটে?
চতুর্দশ শতকের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘আল-মুকাদ্দিমা’-য় রাজবংশের উত্থান-পতন এবং ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছিলেন। তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে শাসকগোষ্ঠীর সংহতি ও শক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে একটি রাজবংশের পতনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেই ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখে সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্ব, তাঁর রাজনৈতিক কৌশল, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তানীতি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। তবে এসব চ্যালেঞ্জের অর্থ এই নয় যে সৌদি রাজতন্ত্রের পতন আসন্ন।
বর্তমানে সৌদি আরবকে একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ-সবকিছুই রিয়াদের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে না পারায় যুবরাজের নেতৃত্বাধীন কৌশল নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। অন্যদিকে, সৌদি সরকারের সমর্থকেরা মনে করেন, অর্থনৈতিক রূপান্তর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ফলাফল মূল্যায়নে আরও সময় প্রয়োজন।
সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতার কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্ন। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্বের নীতিগত পরিবর্তন, আরও কার্যকর কূটনীতি এবং জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে সৌদি আরব ভেঙে একাধিক অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়বে কিংবা রাজতন্ত্রের অবসান ঘটবে-এমন ধারণার পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।
হুতি হামলা ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা সংকট
সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা। ২০২৬ সালের ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ১০ অক্টোবরের হামলায় সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরদিন বিমানবন্দর এলাকায় আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সামরিক সক্ষমতা ও বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ সৌদি আরবের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে একটি বা একাধিক হামলার ঘটনা দিয়ে দেশটির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও যথাযথ নয়। বরং এসব ঘটনা আকাশ প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
ইয়েমেন যুদ্ধ: ব্যয়, ক্ষয়ক্ষতি ও কৌশলগত প্রশ্ন
২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই সময় সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেওয়া এবং হুতিদের প্রভাব সীমিত করাই ছিল অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু দীর্ঘ সংঘাতের পরও দেশটিতে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের অবকাঠামো, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
সমালোচকদের মতে, সামরিক শক্তি ও বিপুল অর্থ ব্যয় করেও হুতিদের সম্পূর্ণ পরাজিত করতে না পারা সৌদি আরবের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও অধরা রয়ে গেছে। তবে যুদ্ধের মোট ব্যয়, হতাহতের সংখ্যা এবং বিভিন্ন পক্ষের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা জরুরি।
ভিশন ২০৩০: অর্থনৈতিক রূপান্তর, নাকি ব্যয়বহুল উচ্চাকাঙ্ক্ষা?
সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ‘ভিশন ২০৩০’। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো, পর্যটন ও বিনোদন খাত সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়ানো। পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া হয়েছে একাধিক বৃহৎ অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন প্রকল্প। তবে এসব উদ্যোগের ব্যয়, বাস্তবায়নের গতি এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুফল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো নিওম (NEOM)। সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভবিষ্যৎনির্ভর নগর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ রৈখিক শহর ‘দ্য লাইন’ নির্মাণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়। তবে প্রকল্পের বিপুল ব্যয়, নির্মাণের বাস্তব সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের কারণে পরিকল্পনার পরিধি ও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিওম প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং কিছু কাজ বন্ধ বা সীমিত করার বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকল্পটির আর্থিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, বৃহৎ প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিবর্তে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীল খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, সৌদি সরকারের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার সমর্থকেরা মনে করেন, নতুন শিল্প ও পর্যটন খাত গড়ে তুলতে প্রাথমিক পর্যায়ে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।
তেলের বাজার ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
সৌদি আরবের রাজস্ব ও রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনও তেল খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, উৎপাদনের পরিমাণ এবং পরিবহনপথে বিঘ্ন দেশটির অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরসংলগ্ন নৌপথে অস্থিরতা বাড়লে জ্বালানি পরিবহন, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত মূল্যায়নে সৌদি আরবের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৭ শতাংশ ধরা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে তেল পরিবহনপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন, বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা এবং তেলের দামের পতনকে অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই পূর্বাভাস অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিলেও সৌদি অর্থনীতি নিশ্চিতভাবে সংকুচিত হবে বা দেশটি আর্থিকভাবে ধসে পড়বে-এমন সিদ্ধান্ত সমর্থন করে না। তেলবহির্ভূত খাতের সম্প্রসারণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগের কার্যকারিতা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি
সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সামরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে দুই দেশের সম্পর্কের প্রভাব রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের নীতিগত অগ্রাধিকার, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে।
হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হলেও সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। একই সঙ্গে ইরান, ইসরায়েল, ইয়েমেন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। এসব সমীকরণকে কেবল একটি দেশের পরিকল্পনা বা অন্য একটি শক্তির ষড়যন্ত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করলে বাস্তব পরিস্থিতির জটিলতা আড়াল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাজপরিবারের ক্ষমতার কাঠামো ও উত্তরাধিকার প্রশ্ন
সৌদি রাজপরিবারে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইতিহাসে ২০১৭ সাল ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ওই বছর তৎকালীন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে উত্তরসূরি মনোনীত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা রাজা আবদুল আজিজের ছেলেদের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রচলিত ধারার পরিবর্তে পরবর্তী প্রজন্মের একজন সদস্যকে উত্তরসূরি করার প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়।
এই পরিবর্তন রাজপরিবারের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। সমালোচকেরা ঘটনাটিকে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, সমর্থকেরা এটিকে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রকৃত মাত্রা কিংবা ভবিষ্যৎ ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।
তরুণ প্রজন্ম ও সৌদি আরবের আগামী দিন
সৌদি আরবের জনসংখ্যায় তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর তরুণদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে। ভিশন ২০৩০-এর সাফল্যও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে এসব ক্ষেত্রে কতটা স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে, তার ভিত্তিতে।
মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বৃহৎ প্রকল্পের ব্যয়, আঞ্চলিক সংঘাত, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের গতি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। ফলে তাঁর নেতৃত্বের মূল্যায়নে কেবল ঘোষিত লক্ষ্য নয়, বাস্তব ফলাফল, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তনের বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সৌদি আরব বর্তমানে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। হুতি হামলা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়েছে, আর নিওমের মতো বৃহৎ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জকে সৌদি রাজতন্ত্রের আসন্ন পতনের নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আগামী দিনে দেশটির নেতৃত্ব কীভাবে সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলা করে, অর্থনৈতিক সংস্কারকে বাস্তবসম্মত করে এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখে-তার ওপরই সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে।