জাতীয়

৬০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ, উট পালনেও মিলবে ঋণ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

৬০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ, উট পালনেও মিলবে ঋণ
ছবি: সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। নতুন কর্মসূচির আওতায় হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের মতো কার্যক্রমও যুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপগভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চলতি অর্থবছরের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা, খাত ও নতুন বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

নির্ধারিত ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণের জোগান নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে নতুন কৃষি ও পল্লি ঋণ কর্মসূচি।

প্রকৃত কৃষকদের কাছে ঋণ পৌঁছে দিতে নতুন নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃষক কার্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শস্য ও ফসল খাতে আয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রমে যুক্ত কৃষকদের পল্লি ঋণ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। পাশাপাশি কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার নির্ধারিত সীমা শিথিল করা হয়েছে।

কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে পাস বই থাকা বা তা ইস্যু করার বিষয়টিও শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও কিছু ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এসব কৃষকের অর্থায়ন সহজ করতে জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় মৎস্য চাষ ও প্রাণিসম্পদ খাতে একক বা দলবদ্ধ কৃষক ও খামারিদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আওতায় হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও উট পালনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পুনঃঅর্থায়নসংক্রান্ত নীতিমালায় ১০ হাজার কোটি টাকা ও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিঋণের গ্রাহকদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি নতুন নীতিমালায় যুক্ত হয়েছে। ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সারা বছর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখতে কয়েকটি ফলের চাষে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচু চাষে ঋণ বিতরণের সময় এবং ফসল সংগ্রহের পর ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনীতি নিশ্চিত করতে কৃষি ও পল্লি খাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান প্রয়োজন। কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে নতুন কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।