রাজনীতি

জাতীয় নির্বাচনে যা দেখেছি, তা বলা বা ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন: মির্জা আব্বাস


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

জাতীয় নির্বাচনে যা দেখেছি, তা বলা বা ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন: মির্জা আব্বাস
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন মানুষের ভূমিকা ও আচরণের পরিবর্তন দেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তার মতে, নির্বাচনে দেখা এসব পরিবর্তন ব্যাখ্যা করা কঠিন।

বুধবার ৪ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, কয়েক যুগ ধরে তারা রাজনীতি করছেন। এ সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষের আচরণ ও অবস্থানের পরিবর্তন দেখেছেন। এখনো তা দেখছেন। এবারের জাতীয় নির্বাচনেও এমন অনেক কিছু দেখেছেন, যা বলা বা ব্যাখ্যা করা কঠিন।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা। তিনি কম হাসতেন। তবে তার কথাবার্তা ও আন্তরিকতা মানুষকে সহজেই কাছে টানত। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল ও বড় মনের মানুষ ছিলেন।

নিজেদের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতি তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, তারা পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি শাহজাহানপুরের এবং খোকা গোপীবাগের বাসিন্দা ছিলেন। একসময় দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং তারা রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হয়ে ওঠেন। কমিশনার নির্বাচন করার সময় তারা একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক সহকর্মী তাদের ছেড়ে চলে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খোকা জীবিত থাকাকালে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কেউ খোকার কাছে তার সম্পর্কে, আবার কেউ তার কাছে খোকা সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলত। তবে তারা নিজেদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা করতেন এবং কার কী ভূমিকা, সে বিষয়েও কথা বলতেন।

খোকার সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে কখনো দূরত্ব তৈরি হয়নি বলে জানান মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, খোকা ও তার জীবনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে লিখতে বসলে একটি আস্ত বই হয়ে যাবে। রাজনীতিতে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য, ঝগড়া ও দ্বন্দ্ব হয়েছে। তবে তা কখনো ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ নেয়নি। রাজনৈতিক জীবনে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তারা একসঙ্গে পথ চলেছেন। খোকা বেঁচে থাকলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও অনেক ভালো কিছু হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশার, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া এবং সদস্যসচিব বদরুল আলম সবুজ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।