সারাদেশ

এনআইডির জন্য নির্বাচন অফিসে প্রবাসী, দরজা লাগিয়ে পেটালেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

এনআইডির জন্য নির্বাচন অফিসে প্রবাসী, দরজা লাগিয়ে পেটালেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কাজে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবপ্রবাসী রবিউল ইসলাম রবিন। তার অভিযোগ, কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে তাকে মারধর করেন নির্বাচন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার ৪ নভেম্বর দুপুরে কুমিল্লা নগরীর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের অভিযোগকারী রবিন আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামের কক্ষে কয়েকজন কর্মচারী রবিউল ইসলামকে জাপটে ধরে রেখেছেন। এ সময় কয়েকজন তাকে একের পর এক আঘাত করছেন। একজনকে তার গলা চেপে ধরতেও দেখা যায়। একপর্যায়ে কার্যালয়ের ভেতরে হইচই শুরু হলে কর্মচারীরা ওই যুবককে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।

রবিউল ইসলামের অভিযোগ, কক্ষের দরজা বন্ধ করে তাকে মারধর করা হয়। পরে দরজা খুলে তাকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, তার বোন সুমাইয়া আক্তার স্বপ্নার জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য বেশ কয়েকবার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়েছেন। প্রতিবারই বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। বুধবার কার্যালয়ের এক কর্মচারী তার কাছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিলে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন ওই কর্মচারী। তবে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রবিন।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, রবিউল ইসলাম যেসব কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন, সেগুলোতে ব্যাপক অসংগতি রয়েছে। তার বাবা দুটি বিয়ে করলেও ওয়ারিশ সনদে সেই তথ্য গোপন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বোন স্বপ্নার জন্ম ২০০২ সালে হলেও সনদে ১৯৭৫ সাল উল্লেখ রয়েছে। এসব কাগজপত্র সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির একপর্যায়ে কর্মচারীরা রবিউল ইসলামকে চেয়ারে বসতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই সময়ের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিই দেখা গেছে। তবে তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য ওই যুবক নির্বাচন কার্যালয়ে এসেছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।