সারাদেশ
১৫ শিক্ষকের কলেজে পরীক্ষার্থী ১৭, পাস করলেন মাত্র একজন
চুয়াডাঙ্গার জীবননগন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। কলেজটিতে ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ পর্যায়ে ১৫ জন শিক্ষকসহ মোট ২২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। কেউ জিপিএ ৫ পাননি। মাত্র একজন উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগন উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজের সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এসব কলেজে মোট ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৭৭ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪০৯ জন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৮ জন। অন্যদিকে, উপজেলার একমাত্র কারিগরি কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র একজন। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪১০ জন।
মাত্র ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফল কেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং কলেজের একাডেমিক তদারকি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফল হতাশাজনক। এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান কমেছে।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এত শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়? কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। শুধু শিক্ষক থাকলেই হবে না, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।’
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. ইমরুল কাদির বলেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি তাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকটও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ফলাফল না হয়, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট থাকবে।