সারাদেশ

বিয়ের ২০ দিনের মাথায় ‘মামার’ সঙ্গে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

বিয়ের ২০ দিনের মাথায় ‘মামার’ সঙ্গে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সুজনের স্ত্রী সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুমির কথিত মামা ও মেলান্দহ পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এমদাদুল হক অরচন মিয়াকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অরচন মিয়া ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই) ভোররাতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে মেলান্দহ থানা পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে সুমি আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন বিকেলে মামলার আসামি হিসেবে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার এমদাদুল হক অরচন মিয়া মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি সুমি আক্তারের কথিত মামা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সুমি আক্তার উপজেলার কামদেববাড়ী এলাকার শাহিন মন্ডলের মেয়ে। আর অভিযোগকারী সুজন দক্ষিণ ঝাউগড়া এলাকার মৃত ময়ুর আলীর ছেলে। তিনি ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সুমি আক্তারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয় সুজনের। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার উপহার দেন তিনি। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমির কথিত মামা অরচন মিয়া তাঁকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন তাঁদের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি সুমিকে তাঁর বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। তবে সুজনের মা ছেলের বাড়ি ফেরার পর সুমিকে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই কথায় কর্ণপাত না করে সুমি অরচনের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন সুজন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই রাতে স্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন সুজন। তবে ফোনটি বন্ধ পান তিনি। পরদিন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়েও সুমির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরচনের সঙ্গে সুমি চলে গেছেন বলে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন সুজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোররাতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমি আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে নিজের কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন বলেন, “বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় সে আমার সঙ্গে এমনটা করবে, তা কল্পনাও করিনি। কত আশা নিয়ে তাকে ঘরে এনেছিলাম। অথচ এত অল্প সময়ের মধ্যেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, কখনো ভাবিনি। বিয়ের সময় তাকে স্বর্ণালংকারও দিয়েছিলাম। এখন সবকিছু মিলিয়ে আমি ভেঙে পড়েছি।”

এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন মিয়া ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।