ধর্ম
২০২৮ সালে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুবার দুর্গাপূজা
২০২৮ সালে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন হতে পারে। পঞ্জিকার তিথি গণনায় ভিন্নতার কারণে একই বছরে দুই সময়ে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের এমন বিরল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এ খবর ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টি মূলত হিন্দু ধর্মীয় পঞ্জিকার দুটি পৃথক গণনাপদ্ধতির পার্থক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জোড়া সপ্তমী এবং ২০২৭ সালের জোড়া মহাষ্টমীর পর ২০২৮ সালে তিথির হিসাব অনুযায়ী দুর্গাপূজা দুই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রচলিত পঞ্জিকার দুটি পৃথক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কারণে পূজার দিনক্ষণে এই পার্থক্য দেখা দেবে।
হিন্দু শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলায় দুর্গাপূজার দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত দুটি পঞ্জিকাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এর একটি হলো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত, অন্যটি সূর্য সিদ্ধান্ত। এই দুই পদ্ধতিতে তিথি, নক্ষত্র ও গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান গণনার নিয়মে পার্থক্য থাকায় একই উৎসবের তারিখেও ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পদ্ধতিতে দৃকসিদ্ধ বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে তিথি নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, সূর্য সিদ্ধান্ত পদ্ধতিতে প্রচলিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সূত্র অনুসারে তিথি ও নক্ষত্রের হিসাব করা হয়। ফলে দুই পদ্ধতির গণনায় দুর্গাপূজার সূচনার দিন এবং পূজার গুরুত্বপূর্ণ তিথিগুলো একই সময়ে না-ও পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসরণ করলে ২০২৮ সালের দুর্গাপূজার আয়োজন হতে পারে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। অন্যদিকে, সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণ করলে পূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। দুই পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী পূজার আয়োজনের মধ্যে ১৫ দিনেরও বেশি ব্যবধান তৈরি হতে পারে। ফলে একই বছরে দুই সময়ে দুর্গাপূজার আবহে মাততে পারেন বাঙালিরা।
বাংলার বিভিন্ন মঠ, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পঞ্জিকার এই পার্থক্য অনুসরণের নজির রয়েছে। বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে দুর্গাপূজার আয়োজন করে। অন্যদিকে, অনেক বনেদি বাড়ি, বারোয়ারি ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপে সূর্য সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসরণ করা হয়। এ কারণে একই বছর দুই ভিন্ন সময়ে পূজার আয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে পঞ্জিকার পার্থক্যের কারণে একই বছরে দুই সময়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা একেবারে নজিরবিহীন নয়। এর আগে ১৯৮০ সালেও দুই সিদ্ধান্ত অনুসারে পৃথক সময়ে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, নিজ নিজ পঞ্জিকাপদ্ধতি মেনে আয়োজিত দুই পূজাকেই যথাযথ বলে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে, একই বছরে দুই সময়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও সরকারি ছুটি দুইবার ঘোষণা করা হবে না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের ছুটি প্রচলিত সূচি অনুযায়ী একবারই থাকবে। বিশেষ করে সর্বজনীন দুর্গাপূজার প্রচলিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ছুটির ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৮ সালের দুর্গাপূজা নিয়ে আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে পঞ্জিকার দুই সিদ্ধান্তের হিসাব। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ ও অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পূজার আয়োজনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বছরের অনুমোদিত পঞ্জিকা ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।