বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১
Dhaka Prokash

দাম দিয়ে কেনা স্বাধীনতা

বৃদ্ধা মায়ের সাথে দেখা করতে এসে ধরা পড়লো সুজন। গ্রামে ঘাঁটি গাড়া কমান্ডারের সঙ্গে জমিদার সাহেবের বেশ খাতির। তাদের মহব্বত দেখলে মনেই হয় না দু'জন দুই মেরুর মানুষ। কাশেম জমিদারের গুপ্তচরের কয়েকদিনের অক্লান্ত গোয়েন্দাগিরি অবশেষে সফল হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল পুরো দলের খবর বের করা। কিন্তু সুজন মুখ খুলছে না। জমিদার তাকে মৃত্যুর ভয় দেখায়, ছেড়ে দেওয়ার লোভ দেখায়। বিশ্লেষণ করে বলে– " ঘাড়ত্যাড়া কোথাকার, বোকারাম। নিজেকে অনেক বড় বীর মনে করছে। দেশের জন্য ভালোবাসা একেবারে উতলে পড়ছে। আরে বেকুব তাতে তোর লাভটা কি হবে! মরে যাওয়ার পর কে তোকে মনে রাখবে! বরং খোঁজ দিয়ে নিজের জীবনের সাথে অনেক ইনামও পেতিস।"

পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সুজনকে কবলানো পাকিস্তানিদের চেয়ে তার বেশি জরুরি। দু'জনকে নানাভাবে তাল দিয়েও যখন কিছু হলো না তখন মনে মনে তার মায়ের দূর্বলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলো। গলার স্বরটা একটু ঠান্ডা করে সুজনের মা'কে লক্ষ্য করে বলে– " নাও বুড়ি, তোমার এই বোকা ছেলেকে তুমি অন্তত একটু বোঝাও। এমন সুযোগ কিন্তু আর আসবে না। তোমাদের কোনো ভয় নেই। মিলিটারিদের সাথে আমার কথা হয়ে গেছে। তারা তোমাদের সসম্মানে মুক্তি দিতে রাজি আছে। তাদের অবস্থান টা বলে তোমরা চলে যাও, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। তুমিই বলো ওরা সব কোথায় আছে? আর আগামীর পরিকল্পনা কি ওদের?" সুজনের মা প্রথম থেকেই নিশ্চুপ। যেন বাকরূদ্ধ হয়ে গেছেন। জমিদার সাহেব আশ্চর্য হয়ে বললেন– আরে, তুমিও ওর মতো চুপ! তোমারও কি মাথা খারাপ হয়ে গেলো! পেটের ছেলের কথা ভাববে না একবার? পাশের এক লাঠিয়ালকে লক্ষ্য করে বলে, দেখ মইনুল মিয়া, এই বুড়ির আক্কেলটা দেখ একবার। এটাই কি মা'য়ের পরিচয়! দুধের শিশু হয়ে তার কোলে এসেছিল সেই কবে। আর আজ শক্ত–সমর্থ জোয়ান ছেলে। তার একটি কথায় ছেলেটা প্রাণে বেঁচে যায়। কিন্তু বুড়ি মুখ খুলবে না। এরকম বোকা আগে দেখেছো কোনোদিন! ছেলেটার ছোটবেলার কথাও মনে পড়ে না বুড়ি? ঘর আলো করে যদিন তোমার কোলে এলো, প্রথম যখন মা মা বলে মুখে অস্ফুটস্বরে ডাকতে শুরু করলো, কত মধুময় সে ডাক! তারপর স্বাস্থ্যবান দেহ নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আছাড় খেতো। শীতের সেই আঁধার রাতে তুৃমি কাঁথার নিচে বুকের মধ্যে নিয়ে শুয়ে থাকতে। তারপর একটু বড় হলে বাপের হাতের কাজে সাহায্য করে, খেলে বেড়ায়। সেদিনের সেই ছেলে আজ কেমন তাগড়া জোয়ান হয়েছে। আরেকটু পরে তার বুক, পিঠ, মাথা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হবে। সুঠাম দেহটা ফেলে দেওয়া হবে ময়লার ভাগাড়ে কিংবা নর্দমায়। কাক–শকুন, চিল এসে ঠুকরে ছিঁড়ে খাবে পঁচা গলা শরীরের মাংস। হুহ! কি বলো বুড়ি? তোমার পেটের ছেলে... সুজনের মা তখন ঝাঁঝালো কণ্ঠে প্রতিবাদ করে বলে– "সে দেশের জন্য লড়াই করছে। নিজের মাতৃভূমি মা'কে বাঁচানোর লড়াই। আমার ছেলে তো কোনো দোষের কিছু করছে না।"

জমিদার সাহেব কথা শুনে একেবারে বাকরূদ্ধ। তিনি যেন চিরতরে বোবা হয়ে গেছেন। তাকে চুপ থাকতে দেখে জালিম দলের কমান্ডার চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে– করেছে, করেছে। সে সাংঘাতিক দোষ করেছে। মিসক্রিয়ান্টদের সাথে যোগ দিয়েছে সে। ধর্মকে অপমান করেছে সে। অতবড় অপরাধের ক্ষমা নেই বুড়ি। সুজনের মা চরম বিরক্তি নিয়ে বললো– "আমাদেরকে মেরে ফেল পাষণ্ডের দল। তোদের মতো মানুষরূপী জানোয়ারদের থেকে প্রাণ ভিক্ষা নেওয়ার চেয়ে ন্যায়ের পথে দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া হাজার গুণে ভালো। তোদের কাছে মাথা নিচু করলে এ দেশের মা মাটিকে অপমান করা হবে। সেই সাথে পরকালের জিন্দেগীতেও শাস্তি পেতে হবে। মেরে ফেল আমাদের..... মেরে ফেল। কিন্তু এমন একদিন আসবে যেদিন তোদের এদেশে থেকে বাধ্য হয়ে পালিয়ে যেতে হবে। আমার এক ছেলেকে মেরে তোরা পার পেয়ে যাবি না। এ দেশের বুকে এমন হাজারো জোয়ান আছে যাদের বুকে রয়েছে দেশের জন্য বুকভরা ভালোবাসা আর অসীম সাহস। এতক্ষণে জমিদারের ঘোর কাটলো... তৎক্ষনাৎ ধমক দিয়ে বললো, চুপ কর শয়তানি বুড়ি৷ শকুনের শাপে গরু মরে না। নিয়ে যাও এদেরকে চোখের সামনে থেকে। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো, এদের শরীরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ করবো, গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিব সারা শরীর। তাদের এক সিপাহি একটু ভেবে দেখতে বললেন... আমরা এখনো কোনো খোঁজ পাইনি তাদের দলের। শুনে কমান্ডার বললো না, না, অত ভাবার কিছু নেই। ওপর থেকে অর্ডার আছে, যে অবস্থায় যেমন করেই হোক মুক্তিবাহিনীর এই দলকে ধরতেই হবে। এই একটা দল অনেক ছোট ছোট দল পরিচালনা করছে, তাদের রসদ যোগাচ্ছে। এদের ধরতে পারলে সব কয়টাকে খতম করা যাবে। এ কাজে যারা সামান্য বাঁধার সৃষ্টি করবে তাদের শাস্তি তৎক্ষনাৎ মৃত্যুদন্ড। এ তো মাত্র দু'টো প্রাণ! দরকার হলে এরকম আরও বিশ-ত্রিশ জনকে গান পয়েন্টে রেখে ঝাঁঝরা করে দিব। নিয়ে যাও এদের। শেষ বারের মতো প্রশ্ন করবে৷ যদি না বলে তাহলে খতম!

অর্ডার পেয়ে চার-পাঁচ জন লোহার টুপি পড়া সিপাহি তাদের মা ছেলে দু'জনকে নিয়ে গ্রামের নদীর ধারে বটগাছের নিচে দাঁড় করালো। বুড়ি তো মরার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ছেলেকে একটু বেতালের মতো দেখে একজন সিপাহি ফাঁকা গুলি ছুঁড়লো। গুলির তীক্ষ্ণ শব্দটা কানে যেতেই কোনো ভাবে উঠে দাঁড়ায়। মা'কে মেরে ফেলেছে কি না তা দেখার জন্য এদিক ওদিক তাকায়। হানাদার বাহিনীরা এমন অবস্থা দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে বলে– এখনও কিছু হয় নি তবে এটা তোমাদের মা ছেলের জন্য শেষ সংকেত। এটা শুনে তাঁরা মা ছেলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তাদের সীধান্তে অনড় থাকে। তাঁরা কিছুতেই মুখ খুলবে না। যেন চোখের ইশারায় একে অপরকে বিদায় জানায়। মা ছেলের এমন কান্ড দেখে মিলিটারিরা সীধান্ত নেয় নিজেদের হাতেই মরবে ওঁরা। দু'টো বন্দুক মা ছেলের হাতে দেয় আর বাকিরা তাঁদের দিকে বন্দুক তাক করে থাকে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা ভেবেছিল তাঁরা বলে দিবে সবকিছু। কিন্তু বন্দুক হাতে পেয়ে বুড়ি তাঁর ছেলেকে বললেন– "আর দেরি করিস না বাবা, এই নরপশুদের হাতে মরার চেয়ে ভালো আমি তোর হাতেই মরবো, এ মরা তেও শান্তি আছে। চালিয়ে দে গুলি।" মায়ের কথায় সুজন একমত হতে পারলেও, মাকে নিজের হাতে মারবে এটা কোনোভাবেই মানতে পারছিল না।

সুজন অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলে, "আমি পারছি না মা, আমি দূর্বল হয়ে যাচ্ছি। দেরি করলে তুমিও দূর্বল হয়ে যাবে মা!" এমন সময় শোনা যায় একটি গুলির শব্দ! মূহুর্তেই সুজনের দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মা ছেলেকে গুলি করেছে! পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিলিটারিরা এমন দৃশ্য দেখে হতবাক। তাদের একজন বুড়িকেও গুলি করলো। ছেলের মতো তাঁর শরীরটাও মাটিতে নুইয়ে পড়লো। মা ছেলের রক্তের ধারা বইতে লাগলো। সেই রক্তের দিকে তাকিয়েই মা ছেলে যেন দেখলো, অসংখ্য মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস করছে। সারি সারি মিছিল বের হচ্ছে, হাতে লাল সবুজের পতাকা৷ আর মুখে একটাই ধ্বনি " জয় বাংলা "। এমন হাজারো মায়ের বীরত্বের সাক্ষী হয়ে আছে এই পবিত্র জন্মভূমি।


শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


 ডিএসএস/

Header Ad

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের অশুভ শক্তির হাতে। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ চুপ থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্রও নিয়ে কেনো রাস্তাঘাট দখল করবে, সহিংসতা করবে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। এই অবস্থায় আমরা চুপ থাকতে পারি না। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। আমাদের অস্তিত্বের ওপর হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। কাজেই আপনারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান।

পত্রিকার শিরোনাম উল্টো কথা বলছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা ছাত্রলীগের কর্মী। তাদেরকে আক্রমণ করেছে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি। পত্রিকার শিরোনামে এসব আসেনি। সহকারী প্রক্টরকে যেভাবে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, সেটা গণমাধ্যমে আসেনি। গণমাধ্যম সত্য ঘটনা তুলে ধরবে, সেটাই আমরা চাই।

দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সারা দেশের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশ দিচ্ছি, সারা দেশে সতর্ক হয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে এই অশুভ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করা যাবে না।

এসময় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ করে কাদের বলেন, আইনের পাশে থাকুন। আদালতের নির্ধারিত তারিখে শুনানির জন্য অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরেন। ফাঁদে পা দেবেন না অপশক্তির। আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।

এ সময় আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন, শাহবাগে ছাত্রলীগ-যুবলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কাউকে পরিচয়পত্র দেখানো ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র ও জনতার ব্যানারে গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন। জানাজার পর তাঁরা সেখানেই অবস্থান করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থেকে বের হওয়ার সময় তাঁদের মুঠোফোন তল্লাশি করা এবং মারধর করতেও দেখা গেছে। বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে অন্তত তিনজনকে মারধর করা হয়। তাঁদের দুজনকে পুলিশ রক্ষা করে। এজন দৌড়ে শাহবাগ থানার মধ্যে ঢুকে যান।

আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আজ সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তাঁদের ধরে ধরে মারধর করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সারা দেশে আন্দোলনকে কেন্দ্র হামলা, সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় ছয়জন মারা যান, যার মধ্যে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীও আছেন। গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আজ ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে প্রত্যেকের পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া বহিরাগত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না।

বেলা দুইটার পর ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বেশিসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকা এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে। উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন।

এর আগে দুপুরে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি সমাবেশ হয়। সূত্র: প্রথমআলো

 

সান্তাহারে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ৩ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

সান্তাহারে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

কোটা বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল সারাদেশ। চলছে হামলা, পাল্টা হামলা। সারাদেশের মতো এবার নওগাঁর পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার সান্তাহারে শুরু হয়েছে কোটা সংস্কারের আন্দোলন। বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেন ২ ঘণ্টা আটকিয়ে দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার সান্তাহার বিপি স্কুল থেকে শুরু করে পৌর শহরের সরকারি কলেজ হয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র এসে ঘণ্টাব্যাপী বিভিন্ন দাবি তুলে স্লোগান দেয় তারা। এরপর সকাল ১১টায় তারা রেললাইনের উপর বসে পড়ে। এতে ট্রেনটি থেমে যায়।

সান্তাহারে রেললাইন অবরোধ করে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা সকলে মেধার মূল্যায়ন চাই। এই মেধার মূল্যায়ন চাইতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের ভাইবোনদের উপর অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের ছেলেরা। তাদের হামলার কারণে আহত হয়ে অনেক ভাই মৃত্যু বরণ করেছে। আমরা আর কোনো ভাই-বোনদের হারাতে চাই না। সেই কারণে সারাদেশে চলমান ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতো আমরাও রাস্তায় নেমেছি। প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে যতোদিন মেধার মূল্যায়ন করা না হবে ততোদিন পর্যন্ত। সেই সাথে সরকারের কাছে অনুরোধ দ্রুত কোটা সংস্কার করা হোক।

শিক্ষার্থীরা সান্তাহার জাংশন স্টেশনের রেলগেট এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবস্থান করছে। এমন সংবাদে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোমানা আফরোজ ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান পিন্টু শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। তাদেরকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে গেলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। অপরদিকে এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রায় ২০জন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আদমদিঘী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজেশ কুমার চক্রবর্ত্তী ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, সারাদেশে যে আন্দোলন চলছিল তার ধারাবাহিকতায় সান্তাহারে শিক্ষার্থীরা আজ সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করে। শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু হঠাৎ করে রেল লাইনের উপর শিক্ষার্থীরা বসে পড়ে। এরপরে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। আমরা সকলের প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

একইভাবে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করছি দাবি করে রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তার হোসেন ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, আমরা যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে আছি। শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করছি। যেকোনো সময় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

সর্বশেষ সংবাদ

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন, শাহবাগে ছাত্রলীগ-যুবলীগ
সান্তাহারে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ৩ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে পুলিশ : ডিবিপ্রধান
জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে তোপের মুখে নিপুণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, সন্ধ্যার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কোটা আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ
এবার ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের কক্ষ ভাঙচুর
তিস্তায় ভেসে এলো ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর লাশ
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের রুমে ভাঙচুর, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
কোটা আন্দোলন: হামলা-সংঘর্ষ-হত্যা নিয়ে যা বলছে জাতিসংঘ
রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল শুরু
গভীর রাতে বোরখা পরে পালিয়েছেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
ইউজিসি কি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করতে পারে, প্রশ্ন ঢাবি অধ্যাপকের
রক্তপাত বন্ধের আহ্বান হৃদয়-শরিফুলের
স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের ২ নেতাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
আজ গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল করবে আন্দোলনকারীরা
পবিত্র আশুরা আজ
দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ