বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১
Dhaka Prokash

মুক্তিযুদ্ধে ভূত

১৯৭১ সাল। চারদিকে যুদ্ধের দামামা বেধে গেছে। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে। পাকিস্তানের মত প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর সাথে লুঙ্গি গামছা পরে সাধারণ মানুষ যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে

অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত বিশাল ক্ষমতাশালী বাহিনীর সাথে ঢাল, বুদ্ধি এবং কৌশলের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। মজি মিয়া ও যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। তবে তিনি সবার মত না। উনার যুদ্ধে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া একটু ব্যতিক্রম। মজি মিয়া সব সময় ভূত এবং ভূত বিষয়ক বিষয়গুলি নিয়ে গবেষণা করতে পছন্দ করতেন। তাই তিনি সব সময় ভূত থাকতে পারে বা ভূত আছে বলে পরিচিত এমন জায়গায় সব সময় বিচরণ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে যখন প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লুঙ্গি, গামছা নিয়ে যুদ্ধ করে মুক্তিবাহিনী যখন পাখির মত মরে যাচ্ছিল তখন মজি মিয়া ভূত নামানোর পরিকল্পনা করলেন।

অদৃশ শক্তির বিরুদ্ধে আর যাই হোক যুদ্ধে জয় করা সম্ভব হবে না। মজি মিয়ার পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, আমেরিকা বাংলাদেশের বিরোদ্ধে সপ্তম নৌযান পাঠিয়েছে। এই নৌযান যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাহলে যুদ্ধে জয়ের আশা একেবারে ছেড়ে দিতে হবে। তাই একমাত্র ভূতকে নামানো ছাড়া বাংলাদেশকে স্বাধীন করা সম্ভব না। মজি মিয়া বিভিন্ন গাছে গাছে, ডালে ডালে ঘুরতে লাগলেন। ভূতদের সাথে বৈঠকে মিলিত হতে লাগলেন। বটগাছ এবং গাবগাছে মজি মিয়া সবচেয়ে বেশি সময় কাঁটাতে লাগলেন। কারণ ঐ সমস্ত গাছেই সবচেয়ে বেশি ভূত নাকি থাকে। সারারাত ভূতদের বোঝাতেন তারা যেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। কারণ বাংলাদেশটা তাদেরও দেশ। তাদের দেশকে ছাড়খার করে ফেলছে তারা কিছুই করবে না এমন হয় না। তাছাড়া বোমার আঘাতে তাদের বাসস্থানগুলি উড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ হয়ত মারাও যাচ্ছে। সুতরাং তাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়ছে। ভূতদের মত মুরগি, ছাগল. গরুদের যদি শক্তি থাকত তাহলে তাদের তিনি নামিয়ে দিতেন।

মজি মিয়া ভূতদের সেক্টর নামে বার নম্বর সেক্টর খুললেন। বার নম্বর সেক্টরের প্রধান হিসেবে তিনিই দায়িত্ব নিলেন। কারণ উনার মত ভূত বিশেষজ্ঞ খুঁজে পাওয়া এখন কঠিন হবে। তিনি সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব নিয়ে পড়লেন মহাবিপদে। ভূতদের কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ভূতদের বললে, তারা বলে তাদের লিডারের কাছ থেকে সংকেত পেতে হবে। তাদের লিডারদের বললে বলে, পৃথিবীর ইতিহাসে কখনো ভূত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। হঠাৎ করে অংশ নিতে হবে তাই বিলম্ব হচ্ছে। মজি মিয়ার বিলম্ব সহ্য হচ্ছে না। এত মানুষ মারা যাচ্ছে আর উনি একটা সেক্টরের কমান্ডার হয়ে গাছে গাছে ঘুরছেন। মজি মিয়া রাতের বেলায় বটগাছে বসে আছেন। ভূতরা আসার কথা। এখনো আসছে না। তাই তিনি অলস সময় পার করছেন। গাছের নিচ দিয়ে পাকসেনাদের গাড়ি দেখেই তিনি আঁতকে উঠলেন। এমন একটা অভিনয় করলেন যে, তিনি বড় মাপের মুক্তিযুদ্ধা। পাকিস্তানি সেনারাও মজি মিয়াকে ধরে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে গেলেন। মজি মিয়ার আচরণ দেখে সেনারা বুঝতে পারল এই লোক বড়ধরণের মুক্তিযুদ্ধা মানে কমান্ডার টাইপের। সে হয়ত পাকিস্তানিদের বিরোদ্ধে লড়াই করার বড় কোন পরিকল্পনা করছে। সেনারা খোঁজ নিতে লাগলেন। সমগ্র বাংলাদেশে মজি মিয়া নামের বড় কোন মুক্তিযুদ্ধার খোঁজ পেলেন না। কিন্তু মজি মিয়ার কাছ থেকে কথা বের করার জন্য এমন কোন রিমান্ডের আইটেম নেই যা দেখানো হয় নি। গরম ডিম, পানিতে চুবিয়ে রাখা, হাতুরি দিয়ে ছেঁছা দেওয়া, কারেন্টের শট দেওয়া, পাছার নিচে সিগারেটের সেকা দেওয়া। বিভিন্ন ধরণের ডলা দেওয়া ইত্যাদি। তবুও তিনি মুখ খুলছেন না। এমন একটা ভান করছেন যে, তিনি মুখ খুললেই মুক্তিবাহিনীর বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

পাকিস্তানি সেনারা ভাবছে, মজি মিয়া হয়ত ছদ্মনাম ব্যবহার করছে। তাই তাকে সাধারণ মানুষদের মত না মেরে ক্যাম্পে আঁটকে রাখা হল। মজি মিয়া ভাবতে লাগলেন, তার সেক্টরের অবস্থা কি। যুদ্ধেঅংশ নেয়ার আগেই তিনি ধরা খেয়েছেন। ভূতরা কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারবে। একটা রেডিও থাকলে ভাল হত। ভূতদের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার খবরটি শোন যেত। ভাবতে ভাবতে মনটা খারাপ হয়ে গেল। নিজের মনেই আবার সান্ত¡না খোঁজতে লাগলেন, শেখ সাহেবকে যুদ্ধের আগেই ধরে নিয়ে গেছে। তাই বলে কি যুদ্ধ থেমে আছে। না থেমে নেই। সবাই যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। সুতরাং মজি মিয়ার অনুপস্থিতিতে বার নম্বর সেক্টরটিও সচল থাকবে। কোন না কোন ভূত হয়ত দায়িত্ব নিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করে বিজয়ী হবেন। মজি মিয়ার প্রত্যাশা ভূত ছাড়া যুদ্ধে জয় করা অসম্ভব। কারণ পৃথিবীর অনেক ক্ষমতাশালী দেশই বাংলাদেশের বিরোদ্ধে। কেউ কেউ সরাসরি অংশ নেওয়ারও চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বাংলার মানুষ হচ্ছে সহজ সরল। তাদের পাশেও বিভিন্ন রাষ্ট্র এসে দাঁড়িয়েছে। সরাসরি নয় আড়ালে  আড়ালে। 

পাক সেনারা মজি মিয়াকে নিয়ে পড়েছেন মহাবিপদে। উনাকে মেরেও ফেলতে পারছেন না। আবার বাঁচিয়েও রাখতে চাইছেন না। উনার খাপভাব দেখে মনে হয় উনি বড় ধরণের কিছু। খোঁজ নিয়ে উনার সম্পর্কে কিছুই পাওয়া যায় না। মজি মিয়া শুনেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হতে সময় আর বেশি নেই। উনি উৎসাহে নেচে উঠলেন। তার মানে ভূতরা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তিনি জানতেন যদি ভূত যুদ্ধে অংশ নেয় তাহলে জয় বাংলাদেশের জন্য নিশ্চিত। উনি ভাবতে লাগলেন তাহলে উনার সেক্টরটিই সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। উনি খুশিতে এমন নাচন নাচতে লাগলেন যে, সমগ্র বন্দীরা উনার সাথে তালে তাল মিলিয়ে নাচতে লাগল। পাকিস্তানি সেনারা দৃশ্যটি দেখে সহ্য করতে পারলেন না। তারা মজি মিয়াকে ক্রসফায়ারে দিয়ে দিলেন। যুদ্ধ শেষ হল। ভূত অংশ নিয়েছে কিনা এটা কেউ বলতে পারবে না। তবে অনেকেই দেখেছে মজি মিয়াকে বিভিন্ন ডালে ডালে ঘুরে বেড়াতে।

আসলে মজি মিয়া ছিলেন একজন পাগল। যুদ্ধ শুরুর দিকেই স্বপরিবারে মজি মিয়ার পরিবার পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নিহত হয়। ছোট্ট একটি মেয়ে ছিল ফুলি নামের। মেয়েটিকে জীবনের চেয়ে ও বেশি পছন্দ করতেন। মেয়েটির গাঁয়ে যখন গুলি লাগে। মজি মিয়া মেয়েটিকে নিয়ে পালাতে লাগলেন। মেয়েটি বলতে লাগল। বাবা, আমাদের এভাবে মারছে কেন? আমরা কি দোষ করেছি। মজি মিয়া বলতে লাগলেন, মারে আমরা কোন দোষ করেনি। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের কথা বলেছি। তাই তাদের মনোকষ্ট হয়েছে। তাদের মনোকষ্ট দূর করার জন্য আমাদের এরকম পাখির মত গুলি করে মারছে। বাবা, আমি কি মরে যাচ্ছি?না মা, তুই মরবি কেন? তুই কোন দোষ করিস নি।দোষ যদি করে থাকে বড়রা করেছে। বড়রা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য করেছে। তাহলে বাবা, আমাদের মারছে কেন? মা, বড়দের ক্ষোভটা ছোটদের উপর দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে। বাবা, তুমি একটা মিথ্যা কথা বলছ। আমি বাবা বাঁচব না। দেখ, মা আমাকে ডাকছে। আমি মায়ের কাছে চলে যাচ্ছি। তোমার জন্য খারাপ লাগছে। তুমি একা কিভাবে থাকবে তা নিয়ে চিন্তা করছি। এরপর থেকেই মজি মিয়া পাগল হয়ে গেলেন। পাগল হওয়ার আগে উনার আগ্রহের জিনিস ছিল ভূত এবং ভূতবিষয়ক। উনি ভূত বিষয়ক কোন ঘটনার সন্ধান পেলেই যে কোন মূল্যে ঐখানে চলে যেতেন।

 

ডিএসএস/

Header Ad

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার প্রবেশপথ অবরোধ

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলা, নির্যাতন, ও সারাদেশে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

এসময় অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে ভূঞাপুরের ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ, নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রী কলেজ, নলছিয়া মমতাজ ফকির উচ্চ বিদ্যালয় এবং কালিহাতী উপজেলার যমুনা কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতশত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব চত্বরে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমবেত হয়ে অবরোধে অংশ নেয়।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বরে অবরোধের কারণে টানা দেড় থেকে দুই ঘণ্টা মহাসড়কটি দিয়ে ঢাকা ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের ২২টি জেলার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে এলেঙ্গা মহাসড়কের প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

এসময় মহাসড়ক অবরোধ করে মহাসড়কে বসে যায় শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে র‌্যাব ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা এসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে অবরোধ তুলে দিতে সক্ষম হয়। সেখান থেকে সরে যায় তারা।

এদিকে- অবরোধের কারণে তীব্র গরমে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী গণপরিবহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তি পড়েন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী ও শিশুরা। এছাড়া অবরোধ চলাচলকালীন সময়ে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব ও সিরাজগঞ্জ পশ্চিম অংশের টোলপ্লাজা সাময়িকের জন্য টোল আদায় বন্ধ রাখে সেতু কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা প‌দ্ধতি সংস্কার আমাদের প্রাণের দাবি, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের দাবি। যে পর্যন্ত কোটা সংস্কারের সুষ্ঠু সমাধান না হবে সে পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের উপর হামলা, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। নিরহ শিক্ষার্থী‌দের হত‌্যার বিচার দাবি করেছে তারা।

বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ও‌সি) আলমগীর আশরাফ জানান, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর অবরোধ করে। একপর্যায়ে তারা মহাসসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। এছাড়া বিশৃঙ্খলারোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

কোটা সংস্কার আন্দোলন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা: আসিফ নজরুল

আসিফ নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, কোটা সংস্কার দাবিতে যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, তাদের আন্দোলনটাই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর দেড়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা চত্বরে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‌‘৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বড় চেতনা হচ্ছে অসাম্য, বৈষম্যহীনতা ও সমান অধিকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, তাদের রাজাকার ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এটা প্রত্যাখ্যান করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজাকার না।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে মাত্র এক শতাংশ রাজাকার ছিল, ৯৯ শতাংশই ছিল মুক্তিযোদ্ধা। আজকে যারা আন্দোলন করছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা। তারা জনযুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সুতরাং তাদের রাজাকার ট্যাগ দেওয়া বন্ধ করেন। রাজাকার ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি বন্ধ করেন। এটা করতে করতে আপনারা মুক্তিযোদ্ধাকে হেও করছেন।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘যারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছেন, নির্যাতন করেছেন, এটা ফৌজদারি অপরাধ। এটা হচ্ছে মার্ডার, মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। অবশ্যই এই অপরাধের বিচার করতে হবে। সরকারের যে মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা প্রকাশ্যে ছাত্রলীগকে আন্দোলন দমনে নির্দেশ দিয়েছেন, তারাও এই অপরাধের সমান অংশীদার। এই অপরাধের সহায়তাকারী হিসেবে তাদেরকে বিচার করতে হবে। দেশে যদি কোনো অপরাধ হয় সেটা দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, বিচার বিভাগের, ছাত্রলীগের না।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত কি আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দেওয়া হলো? তাদের স্বার্থকে বিবেচনা করা হয়েছে? নাকি তাদের কণ্ঠ বিবেচনা করা হয়েছে? আজকে আমরা শুনেছি সন্ধ্যার মধ্যে হল খালি করার সিদ্ধান্ত এসেছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই হল ত্যাগ করার সিদ্ধান্তে সাধারণ ছাত্ররা হল ত্যাগ করুক আর না করুক সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু হলে বা অন্য কোথাও তাদের উপর হামলা নির্যাতন আমরা আর সহ্য করবো না।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের অশুভ শক্তির হাতে। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ চুপ থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্রও নিয়ে কেনো রাস্তাঘাট দখল করবে, সহিংসতা করবে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। এই অবস্থায় আমরা চুপ থাকতে পারি না। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। আমাদের অস্তিত্বের ওপর হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। কাজেই আপনারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান।

পত্রিকার শিরোনাম উল্টো কথা বলছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা ছাত্রলীগের কর্মী। তাদেরকে আক্রমণ করেছে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি। পত্রিকার শিরোনামে এসব আসেনি। সহকারী প্রক্টরকে যেভাবে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, সেটা গণমাধ্যমে আসেনি। গণমাধ্যম সত্য ঘটনা তুলে ধরবে, সেটাই আমরা চাই।

দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সারা দেশের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশ দিচ্ছি, সারা দেশে সতর্ক হয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে এই অশুভ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করা যাবে না।

এসময় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ করে কাদের বলেন, আইনের পাশে থাকুন। আদালতের নির্ধারিত তারিখে শুনানির জন্য অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরেন। ফাঁদে পা দেবেন না অপশক্তির। আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।

এ সময় আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

সর্বশেষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার প্রবেশপথ অবরোধ
কোটা সংস্কার আন্দোলন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা: আসিফ নজরুল
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব এখন বিএনপি-জামায়াতের হাতে: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন, শাহবাগে ছাত্রলীগ-যুবলীগ
সান্তাহারে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ৩ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে পুলিশ : ডিবিপ্রধান
জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে তোপের মুখে নিপুণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, সন্ধ্যার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কোটা আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ
এবার ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের কক্ষ ভাঙচুর
তিস্তায় ভেসে এলো ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর লাশ
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের রুমে ভাঙচুর, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
কোটা আন্দোলন: হামলা-সংঘর্ষ-হত্যা নিয়ে যা বলছে জাতিসংঘ
রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল শুরু
গভীর রাতে বোরখা পরে পালিয়েছেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
ইউজিসি কি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করতে পারে, প্রশ্ন ঢাবি অধ্যাপকের
রক্তপাত বন্ধের আহ্বান হৃদয়-শরিফুলের
স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের ২ নেতাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
আজ গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল করবে আন্দোলনকারীরা