মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০
বেটা ভার্সন
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২০

স্নানের শব্দ

শবনমকে যদি এই মুহূর্তে কেউ জিজ্ঞেস করে, পদোন্নতি হওয়ার পর সে সুখী কিনা। তাহলে হয়তো সরাসরি এর উত্তর ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ বলে এক কথায় সে দিতে পারবে না। তবে যদি কেউ জানতে চায় সে খুশি কি না, তখন হয়তো সে নিজেকে একজন খুশি মানুষ বা সন্তুষ্ট মানুষ বলে দাবি করতে পারবে।

ক্যারিয়ারে পদ-পদবি অবশ্যই একটা প্রাপ্তি কিন্তু শবনম আসলে আনন্দ খুঁজে পায় তার কাজে। সেজন্যই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুধু রুটিন কাজ না করে কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করা যায় সেসব নিয়ে ভাবছিল সে। বোর্ড মেম্বারদের অনুমোদনের জন্য কিছু পেপার ওয়ার্কও গুছিয়ে রাখছিল। এক ধরনের সূক্ষ্ম আত্মতুষ্টি, হয়তো অবচেতন মনের খুব নিচের স্তরের তলানিতে ছাই চাপা আগুনের মতো হাল্কা আত্মঅহংকারও জন্ম নিয়েছিল শবনমের মনে।
এর মধ্যেই ওসমান গণির দুর্নীতি তদন্তে গঠিত কমিটি ও অফিশিয়াল তথ্য ফাঁসকারীদের চিহ্নিতকরণ কমিটি তাদের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করল। অফিসে বেশ কিছুদিন ধরেই অনেক রকম কানাঘুসা শোনা যাচ্ছিল। তাতে মনিরুজ্জামান ও তার সঙ্গী ছেলেটা মানে ইন্টারনাল অডিটের কিবরিয়া খুব ঘাবড়ে গিয়েছিল।

পর পর দুইদিন ফোনে মনিরুজ্জামানের আকুতি ঝরে পড়লো। ‘ম্যাডাম, একটু কথা বলতে চাই আপনার সাথে, প্লিজ ম্যাডাম একটু সময় দেন! আমরা কি আপনার রুমে এসে দেখা করবো?’

প্রথমে শবনম পাত্তা দিতে চায়নি, পরে বাধ্য হয়েই বললো, ‘অফিসে না। শুক্রবার সকালে আমার বাসায় আসো।’
শবনম দেখলো দুজনেই ভীষণ মুষড়ে পড়েছে। চেহারায় চিন্তার ছাপ। চোখের নিচে নিদ্রাহীনতার কালি। শবনম ওদের ড্রইংরুমে বসিয়ে রাহেলার মাকে বললো চা দিতে। তারপর দুজনের মুখোমুখি বসে ধমকের সুরে বললো,
‘কি ব্যাপার? চেহারা এমন হয়েছে কেনো? যেন কত বছর ধরে খাও না, ঘুমাও না!’
‘ম্যাডাম, খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে। মনে হচ্ছে খুব খারাপ কিছু ঘটবে। আমার ডিপার্টমেন্টের প্রায় সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমাকেও।’
কিবরিয়া বললো কাঁপা কণ্ঠে।
‘আচ্ছা, সে তো করবেই। তুমি কি সব বলে দিয়েছো?’
‘না ম্যাডাম, বলিনি তবে উনারা খুব চেপে ধরেছিল। জেরার পর জেরা। আমার খুব ভয় লাগছে ম্যাডাম। উনারা বলছেন প্রয়োজনে নাকি আবারো ডাকবেন।’
‘শোনো কিবরিয়া, আগে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করো। নিজে শক্ত থাকলে অন্যরা কিছু করতে পারবে না। ওই কথাটা তো জানো, নৌকা এমনি এমনি ডুবে না। পানি যখন বাইরে থেকে নৌকার ভেতরে ঢোকে তখনই নৌকা ডোবে। আর নৌকাতে ফুটা থাকলেই পানি ঢোকার সুযোগ পায়।’
‘আপনি কিন্তু বিষয়টা সিরিয়াসলি দেখবেন ম্যাডাম! আপনার জন্যই কাজটা করেছি।’ মনিরুজ্জামান কাতর স্বরে অনুনয় করে।
‘নিশ্চয়ই দেখব।’ শবনম আশ্বাস দেয়। তারপর একটু থেমে বলে, ‘কাজটা কি শুধু আমার জন্যই করেছো নাকি ওসমান গণিকে অপছন্দ করতে বলে করেছো, ঠিক করে বলো তো!’
‘দুটো কারণই সত্যি ম্যাডাম।’ মনিরুজ্জামান কাঁচুমাচু হয়ে বলে।
‘আমি কি তোমাদের কখনো বলেছিলাম ওসমান গণির দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ খুঁজে বের করো! তোমরা নিজ দায়িত্বে সেটা করেছ, হ্যাঁ, এর ফল আমার পক্ষে গেছে বলে আমার কাজে লেগেছে। সেই জন্যই তোমাদের পাশে আছি আমি। চিন্তা করো না।’

ওরা দুজন চলে যাওয়ার পর তারেক জানতে চেয়েছিল, অফিসে কোনো সমস্যা কিনা। শবনম মৃদু হেসে বিয়য়টা এড়িয়ে গেছে।

এই মুহূর্তে শবনমের টেবিলের ওপর দুই কমিটির রিপোর্ট পাশাপাশি পড়ে আছে। কিছুক্ষণ আগে এসেছে এইগুলো। ছাদে ঘুরতে থাকা ফ্যানের বাতাসে স্ট্যাপল করা রিপোর্টের পাতাগুলো একটু একটু উড়ছে। তদন্তে অফিসের স্টাফ বাস কেনায় ওসমান গণির দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্য নিয়মিত বাৎসরিক এডিটের সময় সেটা ঠিকই ধরা পড়তো। ওসমান গণির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যেহেতু সে আগেই চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছে সেক্ষেত্রে হয়তো তার প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে সে। কিংবা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করতে পারে।

দ্বিতীয় রিপোর্টটি অফিশিয়াল গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা জরুরি তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্তকরণ ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে— তদন্তকারীদের কাছে নিশ্চিতভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, এই তথ্য ফাঁস করার সাথে অফিসের অভ্যন্তরীণ কর্মচারি কর্মকর্তাদের যোগসাজস রয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে যে চার জনের নাম এসেছে তার মধ্যে কিবরিয়া আর মনিরুজ্জামানের নামও আছে। কমিটি এই চারজনকেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করার জন্য সুপারিশ করেছে।

দুটি রিপোর্টই সরাসরি শবনমের কাছে এসেছে। বোর্ড মেম্বারদের সামনেও এটা তাকেই উপস্থাপন করতে হবে। পারসোনাল সেক্রেটারিকে ফোন করে কড়া এক কাপ কফি পাঠাতে বললো শবনম। প্রচণ্ড মাথা ধরেছে তার। এ কি এক পরীক্ষার মধ্যে ফেললো তাকে বিধাতা! অভিযুক্তদের বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাকি নিতে হবে তাকেই।

ওসমান গণি চাকরি ছেড়ে দিলেও তার অনুসারীরা এখনো অফিসে তৎপর আছে। শবনম যদি মনিরুজ্জামানদের বরখাস্ত না করে তবে স্বাভাবিকভাবেই সেই অনুসারীরা শবনমকে তাদের মদতদাতা হিসেবে চিহ্নিত করবে। এমনিতেই তারা একট রব তুলেছে যে ওসমান গণির পতনে যেহেতু শবনম সবচে বেশি লাভবান হয়েছে, তখন স্বভাবতই কোনো না কোনোভাবে এই ঘটনার সঙ্গে শবনমের যোগসূত্র আছে। একবার যদি এটা তারা প্রমাণ করতে পারে তবে শবনমের পক্ষে এই পদে টিকে থাকা কঠিন হবে।

আবার নিজ হাতে এই ছেলেগুলোর চাকরিই বা কীভাবে খাবে সে? একধরনের কৃতঘ্নতা হবে সেটা। এমন বিব্রতকর, অস্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে তার চাকরি জীবনে আর কখনো সে পড়েছে কিনা সন্দেহ। মনিরুজ্জামানদের প্রতি এটা অনেকটা লঘু পাপে গুরুদণ্ড হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বুক ফুলিয়ে ওদের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক জোরটাও পাচ্ছে না শবনম। সেটা কি এই জন্য যে ওদের পক্ষে শক্তভাবে দাঁড়াতে গেলে তার নিজের অবস্থানটা নড়বড়ে হয়ে যাবে!

মনিরুজ্জামানরা নিশ্চয়ই শবনমের ভেতরকার টানাপোড়েনের ব্যাপারটা বুঝতে চাইবে না। তারা ওর উপরেই সমস্ত দোষ চাপাবে। ভাববে ওদের ঘাড়ে পা রেখে উপরে উঠে ম্যাডাম ওদের কথা ভুলে গেছে। শুধু ভুলে যাওয়াই নয়, কর্মস্থল থেকে এখন ওদের বিতাড়নও করতে চাইছেন তিনি। তারা হয়তো একবারো ভাববে না এখানে শবনমের কোনো হাত নেই। পরিস্থিতিটা এমন উত্তপ্ত হয়ে আছে যে সেখানে শবনমের কিছুই করার ছিল না।

গরম কফির কাপে চুমুক দিয়ে হঠাৎ নিজের উপরই রাগ হয় শবনমের। কি দরকার ছিল মনিরুজ্জামানদের সমর্থন দেওয়ার বা নেওয়ার? এইসব বাছুরদের সাহায্য না নিলেও তো পারতো সে! না হয় সিইও হতে পারতো না, না হয় যেখানে ছিল সেখানেই থাকতো অন্তত এরকম যন্ত্রণার মধ্যে তো আর পড়তে হতো না। যাকগে যা হবার তাতো হয়েছেই, এখন আর আফসোস করে কি হবে? চিন্তা করতে হবে কীভাবে দুকূলই রক্ষা করা যায়! যাতে সাপও মরে আবার লাঠিও না ভাঙে!

শবনম না চাইলেও বিকাল নাগাদ অফিসের পিয়ন দারোয়ান থেকে শুরু করে প্রতিটি আসবাব, চেয়ার টেবিল, ইট কাঠ পর্যন্ত জেনে গেল তদন্ত কমিটির রিপোর্টের কথা। সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার জন্য বেরুতে যাবে, অমনি শবনমের কক্ষের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো মনিরুজ্জামান। মাথার চুল উসকোখুশকো। চেহারা মলিন।

‘ম্যাডাম, এইটা কি হলো? আপনি থাকতে এই রকম একটা অবস্থায় পড়লাম আমরা ..’
মনিরুজ্জামানের কণ্ঠে হতাশা। শবনম হঠাৎ কি উত্তর দেবে ভেবে পেল না, পি এসকে বলে রেখেছিল কেউ যেন ঘরে না ঢোকে। কোন ফাঁকে কীভাবে মনিরুজ্জামান ঢুকে পড়লো কে জানে! পিএস কি ওয়াশ রুমে গেছে!
‘আমাদের এভাবে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়ে আপনিও কিন্তু ছাড় পাবেন না ম্যাডাম।’
মনিরুজ্জামানের গলার স্বর পাল্টে গেল। চোখ দুটোতে হিংস্র দৃষ্টি। শবনমের চোখে চোখ রেখে সে বললো,
‘আমরা সবাইকে বলবো এই সব আপনি নিজের স্বার্থে আমাদের দিয়ে করিয়েছেন। আপনার প্ররোচনায় আমরা তথ্য ফাঁস করেছি। আপনি হুকুমদাতা।’
‘তুমি কি ব্ল্যাক মেইলিং করতে চাও নাকি? হুমকি দিচ্ছো? এত বাড় বেড়েছে তোমাদের?’
শবনম দাঁতে দাঁত চেপে চাপা গলায় হিসহিস করলো।
‘সেটা আপনি যা মনে করেন ম্যাডাম। কথা পরিষ্কার। আমরা না থাকলে আপনিও থাকবেন না, ব্যাস। যেমনে পারেন এই সিদ্ধান্ত বদলান। নয়তো পরিণতির জন্য আমরা দায়ী থাকব না।’

শবনমকে স্তব্ধ নির্বাক করে দিয়ে যেমন এসেছিল তেমনি আবার ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেল মনিরুজ্জামান

চলবে…

আরও পড়ুন>>>

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৯

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৮

পবিত্র রমজানের আগে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন রমজান উপলক্ষে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এবং আফ্রিকার বৃহত্তম মসজিদের উদ্বোধন করেছে আলজেরিয়া। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দেল মাজিদ তেবুন ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী রাজধানী আলজিয়ার্সে গ্র্যান্ড মসজিদটির উদ্বোধন করেন। খবর আল জাজিরার।

স্থানীয়ভাবে মসজিদটি জামা এল-জাজাইর নামে পরিচিত। মসজিদটিতে ২৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যের বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনার রয়েছে এবং এই মসজিদে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ একত্রে নামাজ পড়তে পারবে। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার মসজিদের পর এটিই বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ।

২৭ দশমিক ৭৫ হেক্টর জমির উপর সাত বছর ধরে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। মসজিদটির নকশা হচ্ছে আধুনিক কাঠামোর, এবং আরব ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে যোগাড় করা কাঠ ও মার্বেল মসজিদটিতে ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে হেলিকপ্টার নামার জায়গা এবং দশ লাখ বই রাখার মতো একটি পাঠাগারও রয়েছে।

মসজিদটির উদ্বোধনের ফলে আসন্ন রমজানে এখানে অসংখ্য মুসল্লির নামাজ পড়া এবং অনুষ্ঠান আয়োজন করার ব্যবস্থা হবে। উদ্বোধনের পাঁচ বছর আগে থেকেই মসজিদটি আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং আলজেরিয়া সফরে আসা রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এমনকি ২০২০ সালের অক্টোবরে মসজিদটিকে নামাজ পড়ার জন্য খুলেও দেওয়া হয়েছিল।

মসজিদটি একটি চীনা প্রতিষ্ঠান ৯০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণ করেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, মসজিদটি সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দেল আজিজ বুতফ্লিকা শখের বসে নির্মাণ করেছেন। ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়।

বুতফ্লিকা মসজিদটির নামকরণ করেছিলেন নিজের নামে এবং ২০১৯ সালে এটির উদ্বোধনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। জনগণের আন্দোলন এবং সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছিল।

জাতীয় মহাসড়কের পাশে এবং লাখ লাখ নতুন আবাসন প্রকল্পেরমাঝে অবস্থিত মসজিদটির কাজ শুরু সময় থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সমালোচকদের মতে, কাজ পাওয়ার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো আলজেরিয়া সরকারকে প্রচুর টাকা উৎকোচ হিসেবে প্রদান করেছে।

বিশ্ববাজারে আবারো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে তেলের দাম ২ থেকে ৩ শতাংশ কমেছিল। দাম কমার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এ সপ্তাহেও। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সুদহার শিগগিরই কমছে না-বাজারে এই খবর চাউর হওয়ার প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে।

সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট কমে ৮১ দশমিক ২৮ ডলারে নেমে এসেছে; অন্যদিকে ইউএস টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩৩ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ১৬ ডলারে নেমে এসেছে। রয়টার্স।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, তেলের দাম বাড়তে পারে এমন কোনো নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়নি। একদিকে ওপেক ও সহযোগী সদস্যদেশগুলো তেলের উৎপাদন হ্রাস করছে; অন্যদিকে চীনের মতো দেশে চাহিদা কমে গেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, তেলের বাজার এই দুই বিপরীতমুখী প্রবণতার মধ্যে আটকা পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গত সপ্তাহে বলেছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে জ্বালানি তেলের মজুত ৩৫ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪ কোটি ২৯ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিশ্লেষকদের নিয়ে যে জরিপ করেছিল, এই মজুত বৃদ্ধি তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা বিচ। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা বিচকে 'বঙ্গবন্ধু বিচ' ও কলাতলাী ও সুগন্ধা বিচের মাঝখানের এলাকাকে 'মুক্তিযোদ্ধা বিচ' নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণনালয়। সুগন্ধা বিচকে 'বঙ্গবন্ধু বিচ' ও 'মুক্তিযোদ্ধা বিচ' নামের আরেকটি নতুন নামকরণের সিদ্ধান্ত দিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব মো. সাহেব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়,পূর্বে পাঠানো নির্দেশনার উপর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশনাক্রমে অনুরোধ করা হলো। একই সাথে পূর্বে পাঠানো পত্রটি বাতিল বলে গণ্য করা হলো।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ নামের একটি সংগঠন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয়। সংগঠনের সভাপতি মো. সোলায়মান মিয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে কক্সবাজারের সুগন্ধা সমুদ্র সৈকতের নাম ‌‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ এবং সুগন্ধা ও কলাতলী বিচের মাঝখানের জায়গাটিকে বীর ‌‘মুক্তিযোদ্ধা বিচ’ নামকরণের দাবি জানানো হয়।

এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ এবং সুগন্ধা ও কলাতলী বিচের মাঝখানের খালি জায়গার নাম হবে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচ’।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অবশেষে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সিদ্ধান্তটি বাতিল করলো সরকার।

সর্বশেষ সংবাদ

পবিত্র রমজানের আগে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ উদ্বোধন
বিশ্ববাজারে আবারো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম
সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল
ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা
কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে ৫০ শয্যার হাসপাতালে নেই ৩১ শয্যার লোকবলও
নিয়মনুযায়ী হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পাপন
থানচিতে ২২ পর্যটককে জিম্মি করে মোবাইল-টাকা ছিনতাই
শিক্ষা সফরে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে স্কুল শিক্ষকের ‘মদপান’, ভিডিও ভাইরাল
ঢাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান
রমজান শুরু হতে পারে ১১ মার্চ থেকে
গাজা যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ভারতীয় মুসলমানদের ওপর
টাঙ্গাইলে শিক্ষক হত্যা: ১১ দিনেও গ্রেফতার হয়নি পলাতক ২ আসামি
রাষ্ট্রপতির কাছে যে পরিকল্পনা তুলে ধরতে চায় দুদক
বিশ্বজয়ী হাফেজ বশির আহমেদকে ছাত্রলীগের সংবর্ধনা
তিনমাসে ভিন্ন নাম-ঠিকানায় ১৪৩ রোহিঙ্গার হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট
আরবি লেখা পোশাক পরায় পাকিস্তানে কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা
গ্রামে চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পাকিস্তানে প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হলেন নওয়াজকন্যা মরিয়ম
দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত
টাঙ্গাইলে নাহিদ হত্যার রহস্য উদঘাটন: মা-ছেলেসহ গ্রেফতার ৫