জাতীয়

মানবপাচার-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শিগগিরই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

মানবপাচার-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শিগগিরই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 
ছবিঃ সংগৃহিত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যেসব পয়েন্টে মানবপাচার হয় সেসব পয়েন্টে জিরোটলারেন্স নীতিকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিগগিরই কঠোর অভিযান শুরু করবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না তাই সঠিক তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন। খুব তাড়াতাড়ি অনলাইন জুয়া ও মাদক ব্যবসা বন্ধে অপরাধীদের সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে টেকনাফ সরকারি এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মার্ট কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষের শুভক্ষণে সারা দেশের ন্যায় সীমান্ত উপজেলা টেকনাফেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্মার্ট কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১১টি উপজেলায় এ ডিজিটাল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কক্সবাজারের টেকনাফেও ১ হাজার ৬৯৮ জনের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ৪ ( উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন। পরে প্রাথমিক পর্যায়ে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক ও কৃষাণীকে এ কার্ড প্রদান করা হয়।

টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৪৬৩ জন এবং নারী ২৩৫ জন। পেশাভিত্তিক হিসেবে এখানে ১ হাজার ৬৮৩ জন শস্যচাষি, ১০ জন প্রাণিসম্পদ খাতের, ২ জন মৎস্য খাতের এবং ৫ জন লবণ চাষি কার্ড পেয়েছেন।

কৃষকদের ভূমির মালিকানা অনুযায়ী পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, কার্ড পাওয়া কৃষকদের মধ্যে প্রান্তিক কৃষকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ১ হাজার ১০৬ জন। এছাড়া ১২৪ জন ভূমিহীন, ৪২২ জন ক্ষুদ্র, ৪৪ জন মাঝারি এবং ২ জন বড় কৃষক এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষি ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ প্রথম ধাপে টেকনাফ উপজেলার ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় টেকনাফ উপজেলার সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, এ স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এর ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরাসরি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ঋণ ও সার-বীজের প্রণোদনা পাবেন, যা কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে আনলে আমরা পরিবেশকে বাঁচাতে পারব। শিগগিরই খাল খননের কাজ শুরু করব। বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখে। সব কাজ আমরা নাগরিকদের কল্যাণে শুরু করব। 

অনুষ্ঠান চলাকালে টেকনাফে চলমান মানবপাচার ও অপহরণ সংকট নিরসনে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা করে টেকনাফবাসীর পক্ষে স্মারকলিপি দেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন।