জাতীয়

বেনজীরকে দেশে আনতে দুদকের তোড়জোড়, প্রস্তুত করা হচ্ছে নথি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

বেনজীরকে দেশে আনতে দুদকের তোড়জোড়, প্রস্তুত করা হচ্ছে নথি
ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার তথ্য, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথি চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার প্রয়োজনীয় নথি একত্র করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দুবাইয়ে থাকা তার একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক পথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

এদিকে, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে আবুধাবিভিত্তিক জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত দেশটির আইনের আওতায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে। আবেদনের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয়, জাতীয়তা, ঠিকানা, ছবি, অভিযোগের বিবরণ, প্রযোজ্য আইন, শাস্তির বিধান, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক নথি সংযুক্ত করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে আবুধাবির জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।