জাতীয়
তবে কী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলাই কাল হলো!
পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। অসুস্থতার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগই শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের কারণ হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্যপ্রমাণ এসেছে, যা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা যায়। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের যোগাযোগের খবর ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি জনগণের যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন এবং এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
এদিকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণার পর দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিছু অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা একই সূত্রে যুক্ত হতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনও রাষ্ট্রপতির পদে সাহাবুদ্দিনকে রাখতে আগ্রহী ছিল না বলে জানা যায়। তবে রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে তিনি এতদিন পদে বহাল ছিলেন।
পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে সরকার আর ঝুঁকি নিতে চায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদেশে থাকা স্পিকারকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন বঙ্গভবন থেকে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র সংসদ সচিবালয়ে নিয়ে যান। সেখানে বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন, তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র জানায়, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে গোপনীয়ভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মো. সাহাবুদ্দিন। দেশে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনুসন্ধান শুরু করে। একই সময়ে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তৎপরতার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পায় তারা।
এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনকে ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।