জাতীয়

স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগ সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগ সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত না করেই কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে, যার অনেকগুলোই যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়নি।

বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মোবাইল হেলথ ক্লিনিকের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বিগত সরকারের সময়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন মন্ত্রী।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা একটি এমআরআই মেশিন বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়াই মেশিনটি কেনা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, মেশিনগুলো এখন ভাঙারির পর্যায়ে চলে গেছে; সেগুলো বিক্রি করে বাদাম কিনে খেতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার আগে সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বিগত সরকারের সময়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকা সত্ত্বেও বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, যা পরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকেছে।

খুলনায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এমআরআই মেশিনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, এমআরআই মেশিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি। কিন্তু সেই অবকাঠামো নিশ্চিত না করেই মেশিন কেনা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিকল্পনাহীন ব্যয়ের কারণে স্বাস্থ্যখাতের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাঁরা রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং যন্ত্রপাতি আনার আগেই প্রয়োজনীয় জনবল প্রস্তুত করার কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আগের সরকার এ ধরনের প্রস্তুতি নেয়নি। নতুন উদ্যোগে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ডায়ালাইসিস মেশিনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল প্রস্তুত করে ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কসবা ও আখাউড়া উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য শক্তি ফাউন্ডেশন ও রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে মোবাইল হেলথ ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কসবা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মুশফিকুর রহমান। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ ও পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ফাহিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।