সোশ্যাল মিডিয়া

‘শয়তানের চক্করে পড়ে বড় ভুল করে ফেলেছি’, ক্ষমা চাইলেন তাশরীফ ও তার বাবা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

‘শয়তানের চক্করে পড়ে বড় ভুল করে ফেলেছি’, ক্ষমা চাইলেন তাশরীফ ও তার বাবা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি আলোচক ও সংগীতশিল্পী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ জানিয়েছেন, তার বাবা স্বেচ্ছায় তার কাছে এসেছেন। তিনিও বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আশা করছেন, বাবা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। পারিবারিক রাগ, অভিমান ও মনোমালিন্য তারা নিজেরাই সমাধান করতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাবাকে পাশে নিয়ে দীর্ঘ ভিডিওবার্তা দেন তাশরীফ। সেখানে তিনি বলেন, তাদের পারিবারিক বিষয় নিয়ে অনেকেই দেশে বড় একটি ইস্যু তৈরি করেছেন।

ভিডিওবার্তায় তাশরীফ বলেন, পরিবারে রাগ, অভিমান, আদর ও ভালোবাসা থাকতেই পারে। তারা এসব বিষয় পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চান। তার বাবা স্বেচ্ছায় তার কাছে এসেছেন এবং তিনি বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আশা করছেন, বাবা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বাবার প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। একইভাবে বাবারও তার প্রতি কোনো অভিযোগ থাকবে না বলে আশা করেন তিনি। অতীতে যা ঘটেছে, তা পেছনে ফেলে সামনে সুন্দর জীবন গড়তে চান। দেশের মানুষের সামনেও একটি সুন্দর পরিস্থিতি তুলে ধরতে চান তারা।

তাশরীফ বলেন, আল্লাহর ইবাদতের পর পিতামাতার খেদমত করা সন্তানের দায়িত্ব। আর্থিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে যেভাবেই সম্ভব, তিনি বাবা মায়ের সেবা করতে চান। আগেও তিনি এ দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছিলেন। তবে তাদের ঘরের আশপাশে থাকা কিছু শত্রু তাদের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে দিতে চায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত কোরবানির ঈদের সময় পারিবারিক বিরোধ ও মনোমালিন্যের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তাশরীফ। তিনি বলেন, এখন থেকে মাস বা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার হিসাবে নয়, যখন যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন হবে, তা বাবাকে দেবেন। সেই পরিমাণ ১০ হাজার কিংবা ১০ লাখ টাকা হলেও সমস্যা নেই।

তাশরীফ আরও বলেন, বাবার জন্য নির্দিষ্ট মাস বা টাকার পরিমাণ বেঁধে দেওয়া উচিত নয়। প্রকৃত সন্তানের আচরণ এমন হওয়া উচিত, যাতে প্রয়োজনে বাবার জন্য জীবনও দিতে পারে।

‘আমার অতিরিক্ত রাগের কারণে অধঃপতন’

ভিডিওবার্তায় তাশরীফের বাবা বলেন, পরিবারে রাগ ও অভিমান হতেই পারে। তবে তার অতিরিক্ত রাগের কারণেই আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি ভিডিওতে না এলে বিষয়টি এত দূর গড়াত না বলেও মন্তব্য করেন। কিছু মানুষ তাকে প্রলোভন দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

তিনি বলেন, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। আল্লাহর নির্দেশ মেনে চললে এবং তাকে দেওয়া জ্ঞান কাজে লাগালে জীবনে আরও উন্নতি করতে পারতেন। কিছু মানুষের প্রলোভনে পড়ে ভিডিওতে এসে তিনি বড় অন্যায় করেছেন বলেও স্বীকার করেন।

ছেলের প্রশংসা করে তাশরীফের বাবা বলেন, আল্লাহ তাকে এমন একজন সন্তান দিয়েছেন, যার চেহারা, কণ্ঠ, কথা বলার ধরন ও আচার আচরণে বিশেষ নেয়ামত রয়েছে। কিন্তু তিনি ছেলের মূল্য বুঝতে পারেননি। এটিকে নিজের বড় ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনে বড় ভুল করেছেন। এমন সন্তান থাকার পরও তার বিরুদ্ধে কথা বলায় মানুষ তাকে সমালোচনা করছে।

তাশরীফের বাবা জানান, তার স্ত্রীও ছেলের বিষয়ে তাকে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, বাড়িতে যাওয়ার পর তার স্ত্রী তাকে বলেছেন, সন্তান আজ পাশে না থাকলেও পাঁচ বছর পর হলেও তার পাশে দাঁড়াবে। ছেলের কোনো বিপদ হলে সেই এগিয়ে আসবে, অন্য কেউ আসবে না বলেও স্ত্রী তাকে বুঝিয়েছেন।

স্ত্রীর এসব কথা শুনে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, যে নারী ছেলের জন্মদাত্রী নন, তিনিও ছেলেকে নিয়ে এতটা ভাবছেন। অথচ নিজের ঔরসজাত সন্তান সম্পর্কে তিনি অনেক কথা বলে ফেলেছেন।

এসব ভেবে নিজেকে সামলাতে পারেননি জানিয়ে তাশরীফের বাবা বলেন, টাকা বড় বিষয় নয়। তিনি দোয়া করেন, তার ছেলে যেন আরও বড় হয়।

দেশবাসীর কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তাশরীফের বাবা। তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে এমন একজন নেক সন্তান দান করেছেন। তারপরও শয়তানের চক্করে পড়ে এমন কাজ করেছেন, যার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি আরও দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তার ছেলেকে আরও উচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং ভবিষ্যতে সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কথা না বলার তাওফিক দেন। একই সঙ্গে শয়তানের প্ররোচনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন তিনি।