সারাদেশ

বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৮৮ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৮৮ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান। তিনি বলেন, ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকার সাদিকুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন (৪৩), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকার রবিউল ইসলাম (২৬) এবং বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর সকালে বগুড়া শহরের গালাপট্টিতে অবস্থিত শাপলা জুয়েলার্সের মালিক খাইরুল ইসলামের খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেন (২৭) ১০টি তেজাবি স্বর্ণের বার নিয়ে বাসে করে জয়পুরহাটের উদ্দেশে রওনা হন। বারগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা। সোনাগুলো জয়পুরহাটের একটি জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছিল।

বাসটি বেলা সোয়া ১২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথুলি এলাকায় পৌঁছালে চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। পরে তারা বাপ্পি হোসেনকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণের বারগুলো ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর তাঁকে শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া হাটের মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। মামলার পরপরই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে মাঠে নামে জেলা পুলিশের একটি দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রথমে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানার তরীনয়হাট এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আলমগীরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকায় সাদিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বড়মানিক গ্রামে আসাদুজ্জামান শাহিদের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে আরও ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা।

শাপলা জুয়েলার্সের মালিক খাইরুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে অর্ডার বেশি থাকায় ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ জয়পুরহাটের মডার্ন জুয়েলার্সে পাঠানো হচ্ছিল। ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ১৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। পথে বাস থামিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি স্বর্ণগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিচারাধীন রয়েছে তিনটি মাদক মামলা।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা ৮৮ লাখ টাকার সঙ্গে ছিনতাইয়ের ঘটনার সম্পৃক্ততা এবং এই চক্রের নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।