রাজনীতি

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের পথ খুলে দিয়েছিল আ.লীগ সরকার: রিজভী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের পথ খুলে দিয়েছিল আ.লীগ সরকার: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কোনো খাত বা প্রতিষ্ঠানকেই জবাবদিহির বাইরে রাখার সুযোগ নেই।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত এক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিদ্যুৎ খাতের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎপ্রাপ্তি সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক খাতেও অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে এখনো অনেক মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষের কাছে এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এমনকি অনেক দরিদ্র পরিবারকে ভাগাভাগি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। ফলে কেবল বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যান দিয়ে দেশের হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি রোধে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গণসংলাপে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা, সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎপ্রাপ্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। খাতটিতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।