জাতীয়
উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সরকারের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়াতে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিকভাবে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সর্বপ্রথম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ৩১ ও ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।
নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ১৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোতে ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড এবং শিশুদের চিকিৎসার জন্য ২০টি শয্যা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব সুবিধা চালু করা সম্ভব হলে উপজেলা পর্যায়েই রোগীরা আরও বিস্তৃত পরিসরে চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে পরিদর্শনে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি নজরে এসেছে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা আরও সাত চিকিৎসককে দ্রুত তাঁদের মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সেবা সম্প্রসারণ, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা এবং কর্মস্থলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।