জাতীয়

ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই : ইসি সচিব


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই : ইসি সচিব
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি বডি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বুধবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইসির সিনিয়র সচিব। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগের নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে শেরপুর ও বগুড়ার দুটি উপনির্বাচনে যেসব পর্যবেক্ষণ ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনেও একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসি সচিব জানান, নির্বাচনকালে বিজিবি, এসআরপি ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বডি ক্যামেরার পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশের ক্যামেরা এবং বিজিবির ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হবে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতি মিনিটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

নির্বাচনের দিন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর এবং অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান আখতার আহমেদ। তাঁর ভাষ্য, প্রতিটি সংবাদের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা উপাত্ত থাকতে পারে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া গেলে নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ এবং সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, কোনো অভিযোগকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে আগেভাগে আত্মপক্ষ সমর্থন না করে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি খবরেরই কোনো না কোনো মূল্যায়ন রয়েছে। কোন অভিযোগ সঠিক এবং কোথায় ত্রুটি ছিল, তা বোঝার জন্য ভোটের দিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি। অতীতের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আখতার আহমেদ বলেন, আগেও ভোটের আগের দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইসি সচিব বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে তাঁদের উপস্থিতি কামনা করছে কমিশন। সাংবাদিকেরা সরাসরি কমিশনের কার্যক্রম দেখার সুযোগ পেলে নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন। নির্বাচনকে আরও সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সব শ্রেণি-পেশার ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ভোট দেওয়ার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ বিষয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সবশেষে ইসি সচিব বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।