জাতীয়

খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে আইন প্রণয়নের ওপর জোর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে আইন প্রণয়নের ওপর জোর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

চাল, আটা ও ময়দায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যুক্ত করা বা ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করতে দ্রুত আইন প্রণয়ন এবং কার্যকর বিধিমালা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের কাছে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পৌঁছে দিতে শুধু সচেতনতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, এ ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশে ফর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (এফএবি) আয়োজিত ‘কনভেনিং পার্টনারশিপ অন ফুড ফর্টিফিকেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এ সময় খাদ্যে পুষ্টি উপাদান সংযোজনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, লবণ ও ভোজ্যতেলে আয়োডিন ও ভিটামিনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যুক্ত করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে চাল, আটা ও ময়দার ক্ষেত্রে এ কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলা এবং জনগণের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব খাদ্যপণ্যে ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। এ জন্য দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নযোগ্য বিধিমালা তৈরি করা প্রয়োজন।

দেশের চাল উৎপাদন ও চাহিদার চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়। বিপরীতে দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ২৬ লাখ মেট্রিক টন। তাঁর মতে, দেশে চালের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে চালের ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে সরবরাহ করা চাল ও আটায় পর্যায়ক্রমে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশু সদন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেশন কর্মসূচিতে সরবরাহ করা খাদ্যশস্যে ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সরকারি খাদ্য বিতরণব্যবস্থার আওতায় থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিমন্ত্রী খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পুষ্টি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও কাজের পরিধির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ, প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়নব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে খাদ্যে পুষ্টি উপাদান সংযোজনের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চাল, আটা ও ময়দার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যুক্ত করার কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের মধ্য দিয়েই পুষ্টি গ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।