জাতীয়

মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা, জড়িতদের পরিণতি ভোগ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ পিএম

মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা, জড়িতদের পরিণতি ভোগ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করতে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এ ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের জড়িত থাকার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাঁর মতে, মৃত্যুর পর একজন মানুষের মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, একটি রাজনৈতিক দল এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণকে কেউই ভালোভাবে নেন না। এমন ঘটনা সমাজের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত সামাজিকভাবে নিন্দিত হন। এ ধরনের কাজ করে মানুষের প্রশংসা কিংবা জনসমর্থন পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মৃত্যুর পর মরদেহের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান

মৃত্যুর পর একজন মানুষের মরদেহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জীবিত অবস্থায় কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য কিংবা বিরোধ থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা প্রয়োজন।

অতীতের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এর আগেও কয়েকজন ব্যক্তির বিচার কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই বিচারগুলোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরাও মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ পছন্দ করেননি। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির বিচার কিংবা তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবস্থান যা-ই হোক না কেন, মৃত্যুর পর মরদেহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষের বিচার সৃষ্টিকর্তার কাছে হবে-এমন বিশ্বাসের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তাই মৃত ব্যক্তির মরদেহকে কেন্দ্র করে অসম্মানজনক কিংবা উসকানিমূলক আচরণ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত সমাজে নিন্দিত হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

টঙ্গীতে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

এদিকে, টঙ্গীতে এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এ ধরনের অপরাধকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সরকার এ ধরনের ঘটনাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করছে না। টঙ্গীর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি তারই উদাহরণ। অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে এ প্রবণতা কমে আসবে। একই সঙ্গে অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।