সারাবিশ্ব
উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি বন্ধে কাতারের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কাতার। আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করার পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল করতে তেহরানকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দোহা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইব্রাহিম সুলতান আল-হাশমি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে, ইরানকে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
আল-হাশমি বলেন, যেকোনো মধ্যস্থতা উদ্যোগ কার্যকর করতে ইরানের পক্ষ থেকে সদিচ্ছার স্পষ্ট প্রকাশ থাকা জরুরি। শুধু আলোচনায় অংশ নেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং উত্তেজনা কমাতে বাস্তব ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাঁর মতে, হুমকি বন্ধ এবং গঠনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
ব্রিফিংয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কাতারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক হুমকির পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি এবং সহযোগিতার পথ বেছে নেওয়া জরুরি। ইরানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখলে চলমান সংকট প্রশমনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে। তবে এই আহ্বানের পর ইরানের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।