রাজধানী

২৪ ঘণ্টায় নাগরিক সমস্যা সমাধানে চালু হচ্ছে ‘আমার ঢাকা’ অ্যাপ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

২৪ ঘণ্টায় নাগরিক সমস্যা সমাধানে চালু হচ্ছে ‘আমার ঢাকা’ অ্যাপ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করে নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘আমার ঢাকা’ নামে একটি অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে নাগরিকেরা নগরীর বিভিন্ন সমস্যা জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, মিরপুর-১০ নম্বরের মতো ঢাকার যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল হয়ে আছে এবং মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব স্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে একেকটি ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের হাঁটার উপযোগী করা হবে।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ মানুষকে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও অন্যান্য পথচারীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। এ সমস্যা সমাধানে দখল হয়ে থাকা ফুটপাতগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরবাসী যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে হেঁটে চলাচল করতে পারেন, সেটিই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, গত ১৭ তারিখে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু সরকার কিংবা সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টায় এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়; এ জন্য নগরবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনটি একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নগরীর সবুজায়নে তাদের সম্পৃক্ত করা হলে নগরবাসী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের চলমান কার্যক্রমেও সহযোগিতা বাড়বে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

দেশ গঠনে সবার অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকেই ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন দেশ গড়ার সময়। প্রধানমন্ত্রী দেশকে আধুনিক ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, তাঁর একজন সহকর্মী হিসেবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা তাঁদের দায়িত্ব।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরীর সবুজায়ন ও গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে যেসব স্থানে গাছ লাগানো হয়েছে, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করবেন। নতুন করে যেসব স্থানে গাছ লাগানো হবে, সেখানেও পানি দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়া হবে। এ জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন রুটিন করে গাছে পানি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যেসব স্থানে বেশি ময়লা জমে আছে, সেগুলোও নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার করবেন নেতাকর্মীরা। এ কাজে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

নগরবাসীর সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘আমার ঢাকা’ অ্যাপ চালুর বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অ্যাপটির উন্নয়নকাজ চলছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি উদ্বোধন করা হবে। রাজধানীর যেকোনো এলাকার নাগরিক সমস্যা অ্যাপটির মাধ্যমে জানানো গেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে নগরবাসীর অভিযোগ ও সমস্যাগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা এবং সমাধানের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘ফিক্স ইট ডিএনসিসি’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছিলেন তিনি। সেই অ্যাপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। নতুন ‘আমার ঢাকা’ অ্যাপ চালু হলে নাগরিক সমস্যা জানানোর সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আগে এ এলাকার ফুটপাত দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচল করা কঠিন ছিল। ব্যবসায়ীদেরও বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হতো। মিরপুরের বাসিন্দা ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় সেখানকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এখন এলাকাটিকে আরও নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সংস্কারকাজ চলছে। এরই মধ্যে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু মিরপুর-১০ নম্বর নয়, রাজধানীর যেসব এলাকায় ফুটপাত দখলের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হয় কিংবা সাধারণ মানুষের হাঁটাচলায় সমস্যা দেখা দেয়, সেসব স্থান পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথচারীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন দেশ গড়ার সময়। প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ সময় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব বাধা মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নগর উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মিরপুর-১০ নম্বরের মতো ঢাকার অন্যান্য এলাকার দখল হয়ে থাকা ফুটপাতও উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক মহসিন সিদ্দিকী রনিসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।