জাতীয়

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, সহায়তা দিল আইওএম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, সহায়তা দিল আইওএম
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন ১৭৪ জন বাংলাদেশি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে দেশটির রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাঁরা বাংলাদেশে পৌঁছান। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে সহযোগিতা করে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এসব বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশযাত্রা করতে গিয়ে তাঁদের অনেকেই সেখানে নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং আইওএমের কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁদের লিবিয়ায় অবস্থানকালে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচারকারীদের প্রতারণা থেকে অন্যদের সতর্ক করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা দিয়েছে আইওএম। সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রত্যেককে দেশে ফেরার পর যাতায়াত খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে দেশে ফেরার পর প্রাথমিকভাবে তাঁরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে কাজ করছে। আটক ও বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দেওয়ার আগে যথাযথ তথ্য যাচাই এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের গুরুত্বও এ ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে। মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা প্রাণহানি, অপহরণ, নির্যাতন ও আটক হওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং বৈধ পথ বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।