সারাদেশ

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদকে বদলি করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) তাঁকে বদলি করে খাদ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসার পর এ বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা এস এম কায়ছার আলী বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি কালবেলার হাতে এসেছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ। নির্দেশনা অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ২৭ অক্টোবর থেকে তাঁকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর দৈনিক কালবেলায় ‘প্রশ্নফাঁস চক্রে সরকারি চাকুরেরা, অপ্রতিরোধ্য চক্রের সদস্যরা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে একের পর এক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র পেয়ে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার আগের রাতে গোপন স্থানে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের উত্তর মুখস্থ করানোর ব্যবস্থাও করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রশ্ন সংগ্রহ, একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে তা সরবরাহ, পরীক্ষার্থী সংগ্রহ এবং গোপন আস্তানায় উত্তর মুখস্থ করানোর মতো বিভিন্ন কাজে চক্রের সদস্যদের আলাদা ভূমিকা ছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।

কালবেলার ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অন্তত ১১টি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চক্রটির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। সর্বশেষ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সূত্র ধরে এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃত তথ্য সামনে আসে। প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম উঠে আসে। এ ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) অভিযানে সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত ১২ জনের তালিকায় সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদের নামও ছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে গত ২৫ অক্টোবর প্রায় ১০ দিন পর তিনি অফিসে উপস্থিত হন। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর কর্মস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, হারুন অর রশিদ সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর অফিস করেছিলেন। এরপর ২৫ অক্টোবর তিনি আবার কর্মস্থলে আসেন এবং সকাল ১১টা পর্যন্ত অফিস করেন। পরে এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) গোডাউন পরিদর্শনে যাওয়ার কথা বলে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। ১৪ অক্টোবর থেকে তিনি দুদিনের ছুটিও নিয়েছিলেন বলে জানান কামরুল ইসলাম।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে হারুন অর রশিদের নাম উঠে আসার পর তাঁর বদলির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।