জাতীয়
দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে অসাধু চক্র: কৃষিমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। তিনি বলেছেন, দেশে অতীতেও সারের সংকট ছিল না, বর্তমানেও নেই। একটি অসাধু চক্র সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলেও তাদের সেই অপচেষ্টা সফল হবে না।
সোমবার দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। এ সময় তিনি দেশের সার মজুত পরিস্থিতি, সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং ডিলারশিপ প্রদানসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
কৃষিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন সার মজুত রয়েছে। এই মজুত দেশের কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে সারের কৃত্রিম সংকট রয়েছে-এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে একটি অসাধু চক্র। তবে এ ধরনের অপচেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। সারের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সারের ডিলারশিপ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ডিলারশিপ দেওয়ার পরবর্তী কার্যক্রমও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডিলারশিপ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা অনিয়মের বিষয় সামনে এলে তা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সার বিতরণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃষকদের কাছে যথাসময়ে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, আমদানি-নির্ভর পণ্যের তালিকা ধীরে ধীরে কমে আসছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এমন কিছু পণ্য ছিল, যেগুলো দেশের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর আমদানি করতে হতো। তবে চলতি বছর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ওই পণ্যগুলো আমদানির প্রয়োজন পড়েনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা, ডিলারশিপ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো-এসব বিষয় কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষিকাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহজ হবে।