জাতীয়
আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা
ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া যেসব সৌদি প্রবাসীর আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারাও সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলে কর্মীরা যখন সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, তখন দেশটির ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
সোমবার ২৬ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের নিউ ইস্কাটনে বিআইএএম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সৌদি আরবের প্রযোজ্য নিয়মকানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করে দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৪৪টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে পারছেন না অনেক প্রবাসী কর্মী। এতে তাদের কাজের বৈধ অনুমতিপত্র আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার ও জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যেখানে তিন লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও এর প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের যে দেশে যেতে হবে, সে দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় যেকোনো সমস্যা যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এ সময় জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বিভিন্ন জটিলতা নিরসন এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক উপস্থিত ছিলেন।