জাতীয়

দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসার চিকিৎসাসেবা রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের বাইরে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিজ জেলায় ক্যানসারের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরে যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে সহায়তা করবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা যেন শুধু বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক না থাকে, সে লক্ষ্যে জেলা পর্যায়েও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ জন্য আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থাকে আরও জনমুখী ও কার্যকর করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দ্রুতগতিতে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সন্তুষ্টি বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রগতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খুব বেশি পিছিয়ে নেই। তবে চিকিৎসা সরঞ্জাম, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসাসুবিধার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অতীতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। জনগণের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে এ খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাদের সম্পদ। দেশের যেকোনো সংকটে তারা মানুষের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা দিন-রাত পরিশ্রম করেন এবং মানুষের কল্যাণে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকেন। চিকিৎসকরা রোগীদের ভালোবাসেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাঈদ ফারহাত আনোয়ার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তাফা আজিজ সুমন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন রুমি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।