জাতীয়

ঢাকার উন্নয়নে রাজনৈতিক দল ও নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সড়কমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ পিএম

ঢাকার উন্নয়নে রাজনৈতিক দল ও নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সড়কমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক ভোগান্তি কমানো এবং নগরজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা চেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, রাজধানীর উন্নয়ন ও নাগরিকদের স্বস্তি নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর কলাবাগানের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নকাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মতবিনিময় সভায় শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের বসবাসের এই মহানগরে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে সিটি করপোরেশনকে বিপুলসংখ্যক মানুষের সেবা দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও তহবিলের অপব্যবহারের কারণে সংস্থাটির আর্থিক সক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ অবস্থায় নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এলাকার উন্নয়নকাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, কোন সড়কটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন এলাকার উন্নয়ন জরুরি, তা বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। উন্নয়নকাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা এলাকার পরিচয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে না। বরং জনস্বার্থ, প্রয়োজনীয়তা এবং নাগরিকদের চলাচলের সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজের পরিকল্পনা করা হবে।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম দক্ষিণ ঢাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দক্ষিণ ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, রাজপথে কোথাও হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। তবে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার আওতায় নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেটের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ বজায় রেখেও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব।

নাগরিক সেবার মান বাড়াতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, নগরবাসীকে যথাযথ সেবা দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় থেকে স্পষ্ট হয়, রাজধানীর নাগরিক সমস্যার সমাধানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেবার মানোন্নয়ন এবং কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।